মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বর্জ্যের স্তূপে মরণদশা আদি যমুনার, শ্যামনগরে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
বর্জ্যের স্তূপে মরণদশা আদি যমুনার, শ্যামনগরে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): যে নদীতে একসময় শ্যাওলা-কচুরিপানার ফুল ফুটত, ভেসে বেড়াত নানা প্রজাতির মাছ; সেই নদী এখন রূপ নিয়েছে ময়লা-আবর্জনা আর মশা তৈরির কারখানায়। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘আদি যমুনা’ নদীটি এখন পরিণত হয়েছে পৌরসভার অঘোষিত ডাস্টবিনে।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন রাতের আঁধারে বাজারের অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ও ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত তরল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এতে নদীর পানি ও পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উদ্যোগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শ্যামনগরের শ্মশানঘাটা থেকে কালীগঞ্জের কাঁকশিয়ালী নদীর মোহনা পর্যন্ত আদি যমুনা নদীটি খনন করা হয়েছিল। খননের পর নদীতে পানি প্রবাহ শুরু হলেও দুই বছর যেতে না যেতেই উপজেলার ভেতরের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ বর্জ্যের স্তূপে ভরাট হয়ে গেছে। এর ওপর চলছে অবৈধ দখলদারদের থাবা।
ইতিহাসবিদ সতীশচন্দ্র মিত্রের ‘যশোর-খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থেও এই আদি যমুনার ঐতিহাসিক গুরুত্বের উল্লেখ রয়েছে। এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালী মন্দির, মোগল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ, উপমহাদেশের প্রথম গির্জা ও জমিদার বাড়ি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বারুণী স্নানের মহোৎসবও এই নদীর বুকেই উদযাপিত হয়। আদি যমুনা নদীটি শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৮টি ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রধান মাধ্যম।
যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্যসচিব সাবেক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে এই বর্জ্য অপসারণ করা না হলে শ্যামনগরের অন্তত ৪ থেকে ৫টি ইউনিয়ন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হবে।”
ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম দোহা বলেন, শ্যামনগরকে পৌরসভা করা হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বালাই নেই। বিগত সরকারের আমলে নদী খননের নামে বড় অঙ্কের টাকা লোপাট হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, লোকদেখানো মাটি কেটে পাড়ে রাখা হয়েছিল, যার তদন্ত হওয়া দরকার।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডিও’র নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান জানান, বর্জ্য ও অবৈধ দখলের কারণে নদীর জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি নদীটির নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা খাল’ করারও চক্রান্ত চলছে।
পরিবেশকর্মী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ককশিট, ওয়ানটাইম কাপ ও ওষুধের অপচনশীল বর্জ্য ফেলার কারণে নদীটির মাছ, কাঁকড়া ও কচ্ছপসহ জলজ প্রাণবৈচিত্র্য আজ বিলুপ্তির পথে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ টিকিয়ে রাখতে এবং আসন্ন বর্ষায় শহরকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত নদীটি পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশকর্মীরা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি বিশাল আকৃতির গরু-‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার ও দৃষ্টিনন্দন গড়নে ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এই গরুটি।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার কোমরপুর খামারবাড়িতে লালন-পালন করা হয়েছে ‘লাল বাহাদুর’ নামের এই গরুটি। কয়েক বছর ধরে যতœ আর বিশেষ খাবারে বড় করা হয়েছে তাকে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় কোমরপুর এলাকায় গড়ে তোলা হয় এই খামারটি। যেখানে ৪টি পরিবারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। খামারে কর্মরত এসব ব্যক্তিরা গরু দেখভাল করে তাদের পরিবার নির্বাহ করে আসছেন কয়েকবছর ধরে।

খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানালেন, প্রাকৃতিক খাবার ও যতেœই বড় করা হয়েছে এই খামারের সকলগরু। এখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর খাবার বা কোন কিছু ব্যবহার করা হয়নি। খড়, খাস, গমের ভূসি, ভুট্টা খাওয়ানো হয় এই খামারের গরুকে। ফলে এসব গরু দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মত।

খামারে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক কর্মচারী জানালেন, এখানে ২শ টি গরুর জন্য খামার তৈরী করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি কুরবানির জন্য বিক্রি উপযোগী গরু রয়েছে। যার মধ্য আকর্ষণীয় লাল বাহাদুর। যার দাম ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২/৩ লাখ টাকার মধ্যে দাম চাওয়া হচ্ছে বাকি গরুর।

এদিকে, কুরবানির ঈদ ঘিরে বিশাল আকৃতি আর আকর্ষণীয় গড়নের কারণে ‘লাল বাহাদুর’ এখন সাতক্ষীরার কুরবানির বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দাম নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এর ক্রেতা-সেদিকেই নজর সবার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এফ.এম. মান্নান কবীর বলছেন, জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কুরবানির বাজারে বড় গরু নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ। ‘লাল বাহাদুর’ কত দামে বিক্রি হয়-এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

শ্যামনগরে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক চিংড়ি ঘেরে হামলা চালিয়ে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। সোমবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভৈরবনগর পল্লীতে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো মেহেরুন্নেছা বেগম (৪০), মরিয়ম বিবি (৪৫), পারভীন আক্তার (২৪), খাদিজা আক্তার (২৬), গোলাম বারী (৫২), মনিরুল ইসলাম (৪৪), রবিউল ইসলাম (৩০) ও আলমগীর হোসেন (৩৩)।

চিংড়িঘেরের মাছ লুটে বাঁধা পেয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনারুল এবং তার ভাই সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মনিরুল ইসলামের ভাষ্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিগত সরকারের সময়ে তাদের স্বত্ত্ব দখলীয় জমি আনারুলের পরিবার দখল করে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর আনারুলসহ তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে গেলে নিজেদের ফিরে পাওয়া সে জমিতে তারা চিংড়ি চাষ করে।

 

সম্প্রতি আনারুল ও তার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এলাকায় ফিরে উক্ত চিংড়িঘের দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল।
মনিরুল জানায়, সোমবার রাতে আনারুল, সিরাজুল ও শাহিনের নেতৃত্বে আজিজুল, রাশিদুল, আলামিন, দেলওয়ার, ইদ্রিস, সিরাজুল, মাজেদ, ময়নুদ্দীন, আব্দুল্লাহ, সাইদুলসহ ২২/২৩ জন তাদের চিংড়িঘেরে হামলা চালিয়ে মাছ লুটের চেষ্টা করে। এসময় ঘের পাহারার দায়িত্বে থাকা গোলাম বারী ও রবিউল বাঁধা দিতে গেলে তাদের দু’জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্যরা এগিয়ে এলে হামলায় জড়িতরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তাদেরও রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে গ্রামবাসীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি পৌছে দেয়।

অভিযুক্ত আনারুল জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষ তাদের অনুকুলে রেকর্ড হওয়া উক্ত জমি দখল করে নিয়ে মাছ ছাড়ে। নিজেদের মালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে যেয়ে বাঁধার মুখে পড়লে দু’পক্ষ সংঘর্ষ হয়। নিজেরা শরীরে জখম তৈরী করে মনিরুল ও তার লোকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলেও তার দাবি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছিল। এঘটনায় আহত মনিরুল সোমবার রাতে থানায় এজাহার জমা দিয়েছে। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ব্যবসায়ী ও স্বত্বাধিকারীদের নিয়ে সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ব্যবসায়ী ও স্বত্বাধিকারীদের নিয়ে সভা

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের দক্ষতাবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘দক্ষতা প্রশিক্ষণ পরিষেবা প্রদানকারীদের’ সাথে এক অ্যাডভোকেসি (সুপারিশ) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে আশাশুনি ‘পাথেয় ট্রেনিং সেন্টারে’ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’ এই সভার আয়োজন করে। নেদারল্যান্ডসের ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে এবং ‘সেন্টার ফর ডিজেবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট’ (সিডিডি)-এর সহযোগিতায় ‘ম্যাপিং সিবিআর’ প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা জানান, প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৯০০ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর রয়েছে। এদের পরিবার বা সমাজের বোঝা না ভেবে ন্যূনতম কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে আইডিয়াল। প্রকল্পের ইউসুফ আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মো. সাইজুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন।