বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে সোহরাব হোসেন সরদার (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহরাব হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা হওয়ায় সোহরাব হোসেন চার বছর বয়সী ওই শিশুটির সঙ্গে মাঝেমধ্যে খেলাধুলা করতেন। ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলা করার একপর্যায়ে শিশুটিকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান সোহরাব। পরে গলা চেপে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মাকে জানায়।

এ ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৪ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে সোহরাব হোসেনকে একমাত্র আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরদিনই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল আলম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। মামলার পর থেকেই আসামি সোহরাব জেলহাজতে ছিলেন।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলী আশরাফ বলেনÑ “১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন।”

এদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মজিদ অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

Ads small one

আশাশুনিতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগকালে জীবন রক্ষায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনব্যাপী ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ (ফার্স্ট এইড) বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আশাশুনি উপজেলা মডেল মসজিদ প্রশিক্ষণ কক্ষে ইএসডিও ও মুসলিম এইডের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি দুর্যোগকালীন সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কারিগরি সেশন ও ব্যবহারিক প্রদর্শনী পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম নাঈম হোসাইন, সিপিপির সহকারী পরিচালক মুন্সি নুর মোহাম্মদ ও মুসলিম এইডের কর্মকর্তা এস এম মনোয়ার হোসেন। উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাক ও পর মূল্যায়ন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণটি শেষ হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধা।

 

 

 

 

 

 

 

কেশবপুরে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে জমি দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান (৪২) বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় এই অভিযোগ করেন। তিনি সাগরদাঁড়ী গ্রামের মৃত ছফেদ আলী মোড়লের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ নম্বর সাগরদাঁড়ী মৌজার ১৪ দশমিক ৭৫ শতক জমির বৈধ মালিক জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে ১০ শতক জমি তিনি পৈতৃক সূত্রে এবং আদালতের দেওয়ানি মামলার রায়ের মাধ্যমে পেয়েছেন। বাকি ৪ দশমিক ৭৫ শতক জমি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দলিলমূলে ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মোস্তফা মুন্সি (৪৫), পলাশ মুন্সি (৪২), আনছার গাজী (৫৫) ও জসিম মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, বিবাদীরা প্রভাব খাটিয়ে গত তিন বছর ধরে জমিটি নিজেদের দখলে রেখেছেন। তিনি জমিতে যেতে চাইলে বিবাদীরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৯ মে সকালে তিনি নিজের জমিতে গিয়ে আগাছা পরিষ্কার ও বেড়া মেরামতের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা বাধা দেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে জমি থেকে বের করে দেন।
কেশবপুর থানা সূত্র জানায়, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী মোস্তফা মুন্সি দাবি করেন, “ওই জমিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি কোম্পানির কাছ থেকে লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফসল ও সবজি চাষ করে আসছি। উল্টো আমাদের অনেকগুলো গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি বা হুমকির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

 

 

 

 

 

লোকসান ঠেকাতে লবণের অনুদান চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাতক্ষীরার চামড়া ব্যবসায়ীদের আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
লোকসান ঠেকাতে লবণের অনুদান চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাতক্ষীরার চামড়া ব্যবসায়ীদের আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অনুদান হিসেবে লবণ বরাদ্দ চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে সাতক্ষীরা জেলা চামড়া অ্যাসোসিয়েশন। গত ১৮ মে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর এই আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহায় সাতক্ষীরা জেলা চামড়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে চামড়া সংরক্ষণ, লবণ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের কারণে তারা ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়েছেন। ক্রমাগত এই লোকসানের ফলে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে এখন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, লবণের চড়া দামের কারণে চামড়া সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় লবণের অভাবে সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াজাত না করায় বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনাবেচা নিশ্চিত করতে অনুদান হিসেবে সরকারিভাবে লবণ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।

সাতক্ষীরা জেলা চামড়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “লবণের দাম ও সংরক্ষণের খরচ বাড়ায় আমরা চরম পুঁজিসংকটে আছি। সরকার অনুদান হিসেবে লবণ বরাদ্দ দিলে চামড়া নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং ব্যবসায়ীরাও বাঁচবেন।”

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত এই লবণের অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হলে সাতক্ষীরা অঞ্চলে কোরবানির চামড়া শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।