শ্যামনগরে তীব্র তাপদাহ: ওষ্ঠাগত জনজীবন, বেড়েছে রসালো ফলের চাহিদা
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সূর্য ওঠার পরপরই অনুভূত হচ্ছে প্রচ- গরম, আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত তিন-চার দিন ধরে একই ধরনের ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করছে।
তীব্র গরমের কারণে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। মাঠে কৃষিকাজ কিংবা বাইরে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে গিয়ে তাঁদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভ্যানচালক ফরিদুল ইসলাম জানান, রোদ আর গরমে নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা হয়েছে। বেলা বাড়লে সড়কে ভ্যান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এদিকে এই প্রচ- গরমে সাধারণ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে রসালো ফলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। বাজারে ডাব, লিচু, আম, তরমুজ ও তালের শাঁসের বিক্রি বেড়েছে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে এখন প্রতি কুড়ি (২০টি) তালের শাঁস ৭০ টাকা, লিচু প্রতি কুড়ি ৮০ টাকা এবং মানভেদে প্রতিটি ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ টাকা এবং বিভিন্ন জাতের আম ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে এই ভ্যাপসা গরমে ঘরে ঘরে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জ্বর, ডায়রিয়া ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, তাপদাহের কারণে কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তির হার কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বয়সের রোগীরাও বহির্বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। একটি বৃষ্টির আশায় এখন চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন উপকূলের মানুষ।









