মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় শিশু অধিকার দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু অধিকার দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘শিশুর অধিকার হোক সুরক্ষার অঙ্গীকার’Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঠুন চক্রবর্তী, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল।

জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিটি শিশুর কথা শোনা ও বোঝার চেষ্টা করা সবার দায়িত্ব। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, কবিতা, গল্প, চিত্রশিল্প, নৃত্য ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুদের প্রতিভাকে বিকশিত করে যাচ্ছে। এই বিশ্বাসকে ধারণ করে শিশুদের জন্য গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আরও সময়োপযোগী করতে হবে।

তিনি আরও জানান, শিশু একাডেমি শিশুদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে দেশজুড়ে চিত্রাঙ্কন, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটক, খেলাধুলা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো নানা সৃজনশীল কোর্স পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রশিক্ষণ শাখার মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এ ছাড়া একাডেমির প্রকাশনা শাখা থেকে নিয়মিত শিশুতোষ ও সৃজনশীল বই প্রকাশ করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি শিশুর হাসি যেন উন্নয়নের সবচেয়ে সুন্দর সূচক হয় এবং শিশুর নিরাপত্তা যেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হয়Ñসেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপরই একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নির্ভর করে। তাই প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিনোদন ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্যাতন, সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বৈষম্য প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

Ads small one

রং-তুলির আঁচড়ে শেষ মুহূর্তের রূপ পাচ্ছে প্রতিমা, দেবহাটায় ২১ মন্ডপে পূজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
রং-তুলির আঁচড়ে শেষ মুহূর্তের রূপ পাচ্ছে প্রতিমা, দেবহাটায় ২১ মন্ডপে পূজা

দীপঙ্কর বিশ্বাস: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার মন্দিরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ম-পে ম-পে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ তুলির আঁচড়ে সেজে উঠছেন দেবী দুর্গা। এবার উপজেলাজুড়ে ২১টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।

উপজেলার বিভিন্ন পূজাম-প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ম-পেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। মাটির কাজ শেষে চলছে রং-তুলির সুক্ষ্ম কাজ। শিল্পীর হাতের স্পর্শে একটু একটু করে পূর্ণ রূপ পাচ্ছে দেবী প্রতিমা। ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আবাহন শুরু হবে। আর ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই নির্ঘুম ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।

উপজেলা ও থানা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ম-পে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক ও আনসার সদস্য নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া যেন উৎসব সম্পন্ন হয়, সে জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠে থাকবে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাও।

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট যেন থামছেই না। আবারও স্বাগতিকদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের মেয়েরা।

মঙ্গলবার ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৪ রানেই হারায় দুই উইকেট। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৩ রান করেন সাদিয়া আক্তার। ফারজানা অপরাজিত থাকেন ২৮ রানে। অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম করেন ২৪ রান। নিশিতা আক্তার নিশির ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।

জবাবে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল দারুণ। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। কোমল খান ৩৬ এবং রাভাইল ফারহান ৩২ রান করে বাংলাদেশের জন্য চাপ তৈরি করেন।

তবে ৬৯ রানে তাদের প্রথম উইকেট পতনের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ২৮ রানে নিশি শিকার করেন ২ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানের বেশি যেতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে ১৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ আরও সহজ হলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের।

 

হেমন্তের দোলায় শরতের মেলা: প্রবীণদের শৈশব খোঁজা গুড়পুকুরে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
হেমন্তের দোলায় শরতের মেলা: প্রবীণদের শৈশব খোঁজা গুড়পুকুরে

মিলন বিশ্বাস: হেমন্তের আগমনি বার্তা নিয়ে এসেছে আশ্বিন। সেই আশ্বিনের সোনাঝরা রোদে রূপসী সাতক্ষীরায় যেন ফিরে এসেছে একখ- হারানো শৈশব। পলাশপোল থেকে খুলনা রোড কিংবা নিউমার্কেটÑযেখানে একসময় গান-বাজনা, নাগরদোলা আর কেনাকাটার কলকাকলিতে মুখর থাকত প্রাণসায়র খালের পাড়, সেই স্মৃতি ঘেরাটোপ খুলে দুই বছর পর আবার জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা।

১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০ দিনব্যাপী এই মেলার মঙ্গলবার ছিল ষষ্ঠ দিন। সকালের মিষ্টি রোদ ওঠার পর থেকেই মেলামুখী হতে শুরু করেন দূরদূরান্তের মানুষ। দুপুরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কলরবে জমে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। আর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়তেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢল নামে সব বয়সী মানুষের।

নতুন প্রজন্মের চোখ যখন বৈচিত্র্যময় মেলার আয়োজনে আটকে যাচ্ছে, প্রবীণরা তখন খুঁজে ফিরছেন নিজেদের সোনালী অতীত। আলিপুরের শুকুর আলী (৬৭) ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলায় আসার স্মৃতি হাতড়ে জানান, আগের বিশাল আয়োজন আর বর্তমানের মেলার চেহারায় বিস্তর ফারাক। তবুও শৈশবের সেই আনন্দ আজও মনে দোলা দেয়।

কাঠিয়া সরকারপাড়ার মধুমিতা সরকার (৫২) স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, নতুন জামা পরে মেলায় আসা, বাতাসি-জিলাপি খাওয়ার সেই সামান্য আনন্দই ছিল অগাধ। আজ নতুন প্রজন্মকে হাসতে দেখে তিনি যেন নিজের বাল্যকালকেই নতুন করে দেখছেন।

রসুলপুর গ্রামের মহাব্বত গাজী (৭০) স্মৃতির সরণি বেয়ে মনে করিয়ে দেন প্রাণসায়র খালের কথা। তিনি জানান, একসময় এই খাল দিয়েই দূরদূরান্ত থেকে মালামাল নিয়ে নৌকায় করে মেলায় আসতেন ব্যবসায়ীরা। পলাশপোলের সুবোল ম-লের কণ্ঠেও শোনা গেল একই সুর। মেলা এখন পরিসরে ছোট হলেও তা আবার ফিরে এসেছেÑএতেই যেন তৃপ্ত শহরের মানুষ।

একদিকে প্রবীণদের স্মৃতিমেদুরতা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাসÑদুইয়ের মিলনে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আশ্বিনের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই আয়োজন।