শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার ওপারে ভারতের হাকিমপুরে শতশত ‘নথিহীন বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার ওপারে ভারতের হাকিমপুরে শতশত ‘নথিহীন বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য রাজ্যটির জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এরপরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে মঙ্গলবার শত শত ‘নথিহীন বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে আতঙ্ক-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা সীমান্ত পার হওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেছেন। বুধবার (২৭ মে) অনলাইন টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার গভীর রাত থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ব্যাগ, কম্বল ও ট্রলি নিয়ে হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে আসতে শুরু করে। তাদের আশা, গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবার নিয়ে রাজ্যটির দুর্গানগরে বসবাস করছিলেন রবি সর্দার। তিনি বলেন, বাংলায় সরকার বদলে গেছে। হয়রানি বা আটক হওয়ার আগেই আমরা বাংলাদেশে ফিরে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নতুন করে সংগ্রাম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলছে, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটেছে, হাকিমপুরের দৃশ্য তারই অন্যতম স্পষ্ট নিদর্শন।

 

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকালের পুরো সময়জুড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি মুসলিম এবং রোহিঙ্গা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবারও এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর বক্তব্য রাখার সময় শুভেন্দু কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহারের কোনো চেষ্টা করেননি। তিনি সরাসরি বলেছেন, জলদি জলদি ভাগো, অন্যথায় সরকার যা প্রয়োজন তা করবে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন আমরা আমাদের খাবার, বাড়ি এবং সম্পদ বিদেশিদের সঙ্গে সাথে ভাগ করব?

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএসএফ কর্মকর্তারা হাকিমপুরে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত করতে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে রাজ্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন।

সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে সরাসরি পুশব্যাক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মালদা, লালগোলাসহ মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে।

Ads small one

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে মাদক বিরোধী মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে মাদক বিরোধী মানববন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁকাল ইসলামপুর এলাকায় মাদক, জুয়া, তাস, চুরি এবং সব ধরনের অসামাজিক ও অশ্লীল কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শরিফুল, মুনতাজ, হাফিজুল, রুম্মন, শাহাদাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ুন”, “মাদকমুক্ত সমাজ চাই” সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে কেউ মাদক বিক্রি করলে তার দোকান উচ্ছেদ করা হবে। কোনোভাবেই এই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না।”

বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, তাস, চুরি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজের শান্তি-কৃঙ্খলা নষ্ট করছে। এসব অপরাধ নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় তারা আইনকৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া ও সব ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে বিক্রি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে বিক্রি

ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল সম্রাট পেলের আবেদন এতটুকুও কমেনি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলকে প্রথম শিরোপা জেতানোর ম্যাচে তার পরা জার্সি নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে (প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন ডলার)। এটি পেলের স্মারক সামগ্রীর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রির নতুন রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবিস-এর আয়োজিত নিলামে জার্সিটি বিক্রি হয়। এর মধ্য দিয়ে পেলের স্মারক সামগ্রীর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে পেলের ১৯৫৮ সালের রুকি কার্ড ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি হয়েছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। যা সে সময় ফুটবলের প্রথম ১০ লাখ ডলারের কার্ড হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল।

১৯৫৮ সালের সেই ফাইনালে পেলের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ও গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এখনও তার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রয়েছে। সুইডেনের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তিনি ৫৫ ও ৯০ মিনিটে দুটি গোল করেছিলেন।

ফাইনালের পর পেলে জার্সিটি তার সতীর্থ দিদাকে উপহার দিয়েছিলেন। পরে দিদা সেটি রিও ডি জেনেইরোর একটি জাদুঘরে দান করেছিলেন। ২০০৪ সালে সেই জাদুঘর জার্সিটি ক্রিস্টিজ- এর নিলামে তোলে। যেখানে সেটি বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলারে। এবার সোথেবিসের নিলামে জার্সিটির সঙ্গে ছবির মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক নথিও যুক্ত ছিল।

ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার প্রথমটির স্মারক এই জার্সিটি এখন ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া জার্সি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচে পরা ডিয়েগো ম্যারাডোনার জার্সি। ২০২২ সালে ৯.২৮ মিলিয়ন ডলারে সেটি বিক্রি হয়েছিল।

টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে, আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে, আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন?

টিকি-টাকার কথা উঠলেই প্রথমেই যে দলের নাম আসে, সেটি স্পেন। ছোট ছোট নিখুঁত পাস, বলের দখলে প্রতিপক্ষকে অসহায় করে তোলার সেই ফুটবল দর্শনেই একসময় বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছে লা রোহারা। এবার সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই বিশ্বকাপ ফাইনালে নামছে স্পেন। তবে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাও এবারের আসরে পাসিং ফুটবলে সমান উজ্জ্বল। ফলে টিকি-টাকার জনক স্পেনের সামনে তাদেরই অস্ত্র দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তাই টিকি-টাকার লড়াইয়ে অপেক্ষা জমজমাট এক ফাইনালের।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সফল পাস করেছে আর্জেন্টিনা ৪ হাজার ২০৭টি। শুধু বলের দখলই নয়, সেই পাসিংকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। এখন পর্যন্ত ১৯টি গোল করেছে। এছাড়া ছয়বার তাদের শট লেগেছে পোস্ট বা ক্রসবারে, যা আক্রমণে ধারাবাহিক আধিপত্যেরই প্রমাণ।

স্পেনের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ১৮। পাসিংয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও রক্ষণে তারা পুরো টুর্নামেন্টের সেরা দল। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্প্যানিশরা। পাশাপাশি ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রেখে ক্লিন শিটও ধরে রেখেছে।

টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণে স্পষ্টভাবে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, আর রক্ষণে একচেটিয়া আধিপত্য স্পেনের। অর্থাৎ ফাইনালে দেখা যাবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণের বিপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগের লড়াই।

ফুটবলীয় দর্শনে দুই দলই বল দখল ও ছোট ছোট পাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে পার্থক্যটা ফাইনাল থার্ডে। আর্জেন্টিনা যেখানে দ্রুত আক্রমণে ফিনিশিংয়ে অভ্যস্ত, স্পেন সেখানে ধৈর্য ধরে বল ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে সুযোগ তৈরি করে।

তাই ফাইনালের আগে প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনার আগ্রাসী আক্রমণ কি স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে পারবে, নাকি টিকি-টাকার আসল রাজা হয়ে উঠবে স্পেন?