শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা শহরের মধ্য কাটিয়া এলাকার রাস্তা সংস্কার করলেন কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ শফিউল্লাহ মনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শহরের মধ্য কাটিয়া এলাকার রাস্তা সংস্কার করলেন কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ শফিউল্লাহ মনি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্য কাটিয়া এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও চলাচল-সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ শফিউল্লাহ মনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মোঃ আসাদুজ্জামান আছাদ বলেন, এলাকাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকত। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত, মুসল্লিদের মসজিদে যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

 

এ অবস্থায় শেখ শফিউল্লাহ মনির উদ্যোগে রাস্তার নিচু অংশে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়। ফলে সড়কটি বর্তমানে চলাচলের উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান হওয়ায় তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এবং উদ্যোগের জন্য শেখ শফিউল্লাহ মনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ শফিউল্লাহ মনি বলেন, “এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমার লক্ষ্য। নির্বাচিত হওয়া-না হওয়ার বিষয়টি পরে, মানুষের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে কাজ করে যেতে চাই।”

 

 

 

Ads small one

মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’

কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই, ছিল না কোনও দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা বছরের পর বছর রাজপথে আন্দোলন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা। তা সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদকারীরা ভারতের পুরো রাজনৈতিক মহলকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং অবশেষে মোদি সরকারকে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছে।

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী
সিজেপি যখন প্রথম জাতীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে, তখন একে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ এক প্রতিবাদী গোষ্ঠী হিসেবেই দেখেছিল। ভারতীয় রাজনীতিতে যা বহুবার দেখা গেছে, কয়েকজন ক্ষুব্ধ তরুণ, স্লোগান, আর নতি স্বীকার না করার বিষয়ে অনড় একটি সরকার। নাটকের চিত্রনাট্য অত্যন্ত চেনা হলেও, এর পরিণতি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপির টানা আন্দোলনের মুখে শনিবার মোদি সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীরা নিজেদের জয় ঘোষণা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। নিজেদের সিদ্ধান্তে চরম অনড় থাকার জন্য পরিচিত মোদি সরকারের রাজত্বে এটি অত্যন্ত বিরল ও অভাবনীয় এক অর্জন।

ভারতে বিগত এক দশকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন, বছরব্যাপী কৃষক আন্দোলন কিংবা মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে এর চেয়েও বড় বিক্ষোভ দেখা গেছে। তবে সেই আন্দোলনগুলোর খুব কমই সরকারের একদম শীর্ষ পর্যায়ে এমন সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা আদায় করতে পেরেছিল। এমনকি ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ক্ষোভ থাকলেও সরকার কোনও মন্ত্রীকে বলি দেয়নি। তবে এবার কেন হার মানলো মোদি সরকার? পার্থক্যটা শুধু শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল না, বরং ছিল তারা যেভাবে লড়াই করেছে তার মধ্যে।

রাজনীতিবিদেরা ভেবেছিলেন অভিজ্ঞতার কাছে তরুণেরা হেরে যাবে। কিন্তু দিনশেষে রাজনীতির নিয়ম কতটা বদলে গেছে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো এই আনকোরা তরুণেরাই।

সিজেপির সাফল্যের চাবিকাঠি

সিজেপির সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তারা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করেনি, কারণ তারা সত্যিই কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না। আন্দোলনকে রাজনৈতিক বা নির্বাচনি রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সরকার খুব সহজেই তাকে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক খেলা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু তরুণেরা সরকারকে সেই চেনা সুযোগ দেয়নি। বিরোধী দলের নেতারা সমর্থনে এগিয়ে এলেও সিজেপি কৌশলে নিশ্চিত করেছে যেন রাজনৈতিক নেতারা কেবল সমর্থক হিসেবেই থাকেন, আন্দোলনের মূল মুখ না হয়ে ওঠেন। ক্যামেরার নজর সবসময় রাজনীবিদদের বদলে শিক্ষার্থীদের ওপরই স্থির ছিল।

রাজনীতিতে আনকোরা হওয়াই সিজেপির সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পেশাদার রাজনীতিবিদরা দরকষাকষির সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা ভাবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা ভাবেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো ছিল একদম এক ও অপরিবর্তনীয় জবাবদিহিতা, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই স্থিতিশীলতাই তাদের আন্দোলনকে এক অনন্য বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দিয়েছিল। কোনও আদর্শিক বিতর্কে না জড়িয়ে আন্দোলনকে শুধু পরীক্ষা, মেধা এবং কোটি কোটি তরুণের ভবিষ্যতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

রাজপথের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ার লড়াই

রাজপথ যদি একটি যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে থাকে, তবে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল অপর যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে দুই প্রজন্মের ব্যবধান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আগের আন্দোলনগুলোতে ফেসবুক বা এক্স ব্যবহৃত হতো কেবল হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার জন্য। কিন্তু সিজেপির কাছে সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র।

এখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয়ে চাঙ্গা মোদিবিরোধীরাএখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয়ে চাঙ্গা মোদিবিরোধীরা
ইনস্টাগ্রামে পুলিশকে প্রশ্ন করা শিক্ষার্থীর ভিডিও, অনশনের বার্তা, ড্রোন দিয়ে তোলা জনস্রোতের দৃশ্য কিংবা আবেগঘন মুহূর্তগুলো মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিলো। মূলধারার টেলিভিশন টকশো শুরুর আগেই অ্যালগরিদম ঠিক করে ফেলছিল মানুষ কী দেখবে।

রাজনৈতিক দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়াকে ঐতিহ্যবাহী প্রচারণার ডিজিটাল রূপ হিসেবে দেখলেও, জেন-জি বোঝে অন্য ভাষা। তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ ভিজ্যুয়াল, দ্রুত ও দূরদর্শী। ২০ সেকেন্ডের একটি শক্তিশালী রিল বা একটি রিলেটেবল মিম বিশ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনের চেয়ে অনেক বেশি আবেদন তৈরি করেছিল।

সরকার বা বিরোধীদের ডিজিটাল টিম এই গতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফোন ছিল এক একটি সম্প্রচার কেন্দ্র। সরকারের যোগাযোগের যন্ত্র সংসদ বা টকশো সামলাতে পারলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া হাজার হাজার বিকেন্দ্রীভূত ভিডিও বা রিলকে একক কোনও সংবাদ সম্মেলন দিয়ে ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

বিরোধী দলগুলো সংসদে চাপ সৃষ্টি করলেও তারা আন্দোলন পরিচালনা করছিল না, বরং আন্দোলনকে অনুসরণ করছিল। বছরের পর বছর পর ভারতের রাজনীতিতে তরুণেরা রাজনীতিবিদদের পেছনে না হেঁটে, রাজনীতিবিদদের নিজেদের পেছনে হাঁটাতে বাধ্য করেছে।

অভিজ্ঞ নেতারা যখন বক্তৃতা আর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, সিজেপি প্রতিটি প্রতিবাদস্থলকে কনটেন্ট কারখানায় পরিণত করেছিল। রাজনীতিবিদেরা যখন বিষয়টি ধরতে পারলেন, ততক্ষণে তরুণেরা মনোযোগের রাজনীতি এবং একই সঙ্গে মূল রাজনৈতিক লড়াই দুটোতেই জয়ী হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

বেতনা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে নবনির্মিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সেতু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
বেতনা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে নবনির্মিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সেতু

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বেতনা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সংযোগ সেতুর দুপাশে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা এ সেতুর পাশের নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতনা নদী পুনঃখননের পর নদীতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরে এসেছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতের কারণে সেতুর পাশের চর ও নদীর তীর দ্রুত ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে পিলারের গোড়ার মাটি ধসে যাচ্ছে, যা সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

ইতোমধ্যে গোবিন্দপুর বাজার জামে মসজিদের সামনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাত জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বড় গাছ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেতুর মূল অবকাঠামো, গোবিন্দপুর বাজার জামে মসজিদ, আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গফফার গাজী জানান, কয়েক মাস ধরে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাজারের জামে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন নির্মিত সেতুটিও হুমকির মুখে পড়বে।

আরেক বাসিন্দা কোরমান মালী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কাক্সিক্ষত সেতুটি রক্ষায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সেতুসহ এলাকার বসতবাড়ি ও বাজার রক্ষা করা কঠিন হবে।

জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলা এবং টেকসই বাঁধ তৈরির মাধ্যমে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

কপোতাক্ষ নদের এই করুণ দশা কি আমরা দূর থেকেই দেখতেই থাকব?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদের এই করুণ দশা কি আমরা দূর থেকেই দেখতেই থাকব?

সম্পাদকীয়

বর্ষার শুরুতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, পলি আর কচুরিপানার জটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণরেখা কপোতাক্ষ নদ। স্তূপীকৃত কচুরিপানা ও শেওলার চাপে নদের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার প্রায় পাঁচটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, কলারোয়া ও তালা উপজেলার পাঁচ শতাধিক বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তা লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করেছে। বাওড়গুলো থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানার তোড়ে বিখ্যাত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ীর কাঠের সাঁকোটি পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। একইভাবে তালা উপজেলার মাগুরা বাজারের নির্মাণাধীন সেতুর পাশের বাঁশের সাঁকোতেও কচুরিপানা আটকে নদের প্রবাহ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে পাটকেলঘাটা বলফিল্ড সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এখন জলের নিচে। জলাবদ্ধতার এই চিরাচরিত রূপ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য কোনো নতুন অভিশাপ নয়, কিন্তু প্রতি বছরই বর্ষার শুরুতে প্রশাসনের এমন অপ্রস্তুত অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন নদের স্বাভাবিক নাব্যতা ও প্রবাহ ধরে রাখতে কেন আগাম ব্যবস্থা নেয়নিÑসেই প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। নদের প্রবাহ আটকে গেলে কেবল যে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয় তা-ই নয়; বরং গৃহহীন হয়ে পড়েন হাজারও নি¤œ আয়ের মানুষ, দেখা দেয় তীব্র খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট। এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবিলায় যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান তৎপরতা কাম্য, সেখানে সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কপোতাক্ষ নদকে বাঁচানো এবং এই অঞ্চলের মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে অবহেলা করার আর কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে নদের বুকে জমে থাকা কচুরিপানা ও শেওলা পরিষ্কার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁকো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে কপোতাক্ষের নাব্যতা বজায় রাখতে টেকসই ড্রেজিং ও পলি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কালবিলম্ব না করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।