শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

রক্তাক্ত রাজপথ থেকে গণঅভ্যুত্থানের গল্প/ ‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
রক্তাক্ত রাজপথ থেকে গণঅভ্যুত্থানের গল্প/ ‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

 ‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্লোগান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্লোগান কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, এটি মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ, আশা, ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে গণআন্দোলন ও গণজাগরণে স্লোগান জনমত গঠন এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

‎গণঅভ্যুত্থানের গল্প বলতে গেলে এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার বিবরণ নয়, এটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার গল্প। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, ছোট একটি দাবি বা নির্দিষ্ট কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন একসময় বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মানুষের ক্ষোভ, বঞ্চনা এবং প্রত্যাশা যখন একত্রিত হয়, তখন তা গণজাগরণের রূপ লাভ করে।

‎জুলাইয়ের আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিল শিক্ষার্থীদের একটি দাবিকে কেন্দ্র করে। শুরুতে এটি ছিল ন্যায্যতা, সমঅধিকার এবং বৈষম্যহীন ব্যবস্থার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহ পরিবর্তিত হতে থাকে। বিভিন্ন সংঘাত, উত্তেজনা, দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং রাজপথে সহিংস পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে আন্দোলন ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের গ-ি পেরিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

‎যখন কোনো আন্দোলনের দাবি মানুষের হৃদয়ের দাবি হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহেও সেই বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে শুরু করেন। ফলে আন্দোলন একটি বৃহত্তর সামাজিক চেতনার প্রতীকে রূপ নেয়।

‎এই সময়ে রাজপথে জন্ম নিতে থাকে অসংখ্য স্লোগান। এসব স্লোগান কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার ফল ছিল না, বরং মানুষের অনুভূতি, প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এগুলোর জন্ম। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহরের প্রধান সড়ক এবং জনসমাগমস্থল স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত সেই স্লোগান দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

‎স্লোগানের অন্যতম শক্তি হলো এটি জটিল বার্তাকে খুব অল্প কথায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। একটি স্লোগান মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়। আন্দোলনের সময় রাজপথে উচ্চারিত স্লোগানগুলো আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছে, তাদের মধ্যে ঐক্যের বোধ সৃষ্টি করেছে এবং আন্দোলনের বার্তা আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিয়েছে।

‎বাংলাদেশের ইতিহাসে স্লোগানের শক্তি নতুন কোনো বিষয় নয়। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জনমত গঠন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে স্লোগান মানুষের চেতনা জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেসব আন্দোলনের মতো জুলাইয়ের আন্দোলনেও স্লোগান ছিল প্রতিবাদের অন্যতম ভাষা।

‎একটি আন্দোলনের সাফল্যের পেছনে নেতৃত্ব, সংগঠন এবং কৌশলের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে স্লোগান কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কারণ স্লোগান মানুষের অনুভূতিকে এক সুতোয় গেঁথে দেয় এবং তাদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও প্রত্যাশার দিকে ঐক্যবদ্ধ করে। জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথে ধ্বনিত হওয়া স্লোগানগুলো সেই ভূমিকা পালন করেছে বলেই অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন।

‎গণঅভ্যুত্থান কখনো শুধু রাজপথের ঘটনা নয়, এটি মানুষের মনের ভেতরে জমে থাকা প্রত্যাশা, বেদনা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। যখন মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ, তখন আন্দোলন নতুন শক্তি অর্জন করে। ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে এই বাস্তবতা দেখা গেছে এবং জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহও সেই ধারারই অংশ।

‎আজ সময় এগিয়ে গেছে, কিন্তু সেই উত্তাল দিনের স্মৃতি এখনো অনেক মানুষের মনে জীবন্ত। আন্দোলনের নানা ঘটনা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, বিশ্লেষণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই সেই সময়ের স্লোগানগুলো মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হয়ে উঠেছিল। এগুলো শুধু আন্দোলনের মুহূর্তকে ধারণ করেনি, বরং একটি সময়ের সামাজিক বাস্তবতা এবং জনগণের মানসিক অবস্থারও প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়েছে।

‎ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে প্রতিবাদের ভাষা কখনো হারিয়ে যায় না। সেই ভাষা কখনো বক্তৃতায়, কখনো লেখায়, কখনো গান বা কবিতায়, আবার কখনো স্লোগানে প্রকাশ পায়। জুলাইয়ের স্লোগানগুলোও তেমনই এক সময়ের স্পন্দন বহন করে। এগুলো কেবল কিছু শব্দ নয়, এগুলো একটি প্রজন্মের অনুভূতি, প্রতিবাদী চেতনা এবং গণজাগরণের স্মারক। ভবিষ্যতে ইতিহাস যখন জুলাইয়ের দিনগুলোকে মূল্যায়ন করবে, তখন রাজপথে ধ্বনিত সেই স্লোগানগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে স্মরণ করা হবে। ‎

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

Ads small one

বাংলাদেশ-চীন আলোচনায় নজর রাখছে ভারত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন আলোচনায় নজর রাখছে ভারত

চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আলোচনা এবং বেইজিংয়ের প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর বিষয়ক খবরে গভীর নজর রাখছে ভারত। শুক্রবার (৩ জুলাই) নয়াদিল্লিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনও ধরনের অগ্রগতি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভারত সার্বক্ষণিক ও নিবিড় নজর রাখছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিবেশীর এই জাতীয় সব ধরনের ঘটনাপ্রবাহ আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা করছে, এমন আলাদা দুটি প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল ভারতের এই অবস্থানের কথা জানান।

সফরকালে তিস্তা নদীর উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের কথিত সহায়তার প্রতিশ্রুতির বিষয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা একটি পারস্পরিক সম্মত রূপরেখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

তিস্তা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই বিষয়ে ভারত আগেই বাংলাদেশের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারত এই ধরনের সব সম্পর্কিত ঘটনাপ্রবাহকে বিবেচনায় রাখবে।

মহাকাশেই টেলিস্কোপ উদ্ধারে নাসার ৩ কোটি ডলারের মিশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
মহাকাশেই টেলিস্কোপ উদ্ধারে নাসার ৩ কোটি ডলারের মিশন

কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়া একটি মূল্যবান স্পেস টেলিস্কোপকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সুইফট বুস্ট মিশন নামে ৩ কোটি ডলারের এক অভিনব অভিযান শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

শুক্রবার ভোরে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে ২১ বছরের পুরোনো নিল গেরেলস সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে একটি স্বায়ত্তশাসিত রোবট পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক সৌর সক্রিয়তার কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কিছুটা ফুলে ওঠায় নিম্ন কক্ষপথে থাকা এই টেলিস্কোপটির ওপর বাতাসের বাধা বেড়ে গেছে। ফলে এটি চলতি বছরই বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।

সুইফটের নিজস্ব উচ্চতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা না থাকায় নাসা লিংক নামের ৮৮০ পাউন্ড ওজনের একটি রোবট পাঠিয়েছে। নরথ্রপ গ্রুম্যানের স্টারগেজার উড়োজাহাজ থেকে আকাশে রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে লিংক-কে মহাকাশে পাঠানো হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি সুইফটকে খুঁজে বের করে টেনে আরও নিরাপদ উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

টেলিস্কোপটিতে কোনও ডকিং পোর্ট না থাকায় মিশনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সফল হলে এটি বেসরকারি মহাকাশ অর্থনীতির জন্য নতুন রূপরেখা তৈরি করবে। অবশ্য এই প্রযুক্তির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে; পরাশক্তিগুলো ভবিষ্যতে মহাকাশ যুদ্ধে একে অপরের স্যাটেলাইট অকেজো করতে এই স্যাটেলাইট-গ্র্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

গাবুরায় দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ১৮১ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
গাবুরায় দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ১৮১ জন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় ও দুর্গম গাবুরা ইউনিয়নে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রোদেলা ফাউন্ডেশন’। শুক্রবার ৯ নম্বর সোরা সাইক্লোন শেল্টার (দৃষ্টিনন্দন) প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার ১৮১ জন দরিদ্র রোগীকে এই সেবা দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন অভিজ্ঞ এমবিবিএস চিকিৎসক নওয়াব আলী। আয়োজকেরা জানান, উপকূলীয় এই প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কল্যাণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন রোদেলা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন লিটন ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা পারুল আক্তার (৪০) জানান, গ্রামে বসেই এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পেরে তাঁর খুব ভালো লেগেছে। শহরের গিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই।

 

আরেক বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল বলেন, এলাকায় চিকিৎসার সুযোগ কম থাকায় অনেকেই অপচিকিৎসার শিকার হন। এমন বিনা মূল্যের ক্যাম্প সাধারণ মানুষের অনেক উপকারে এসেছে।