বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

থালায় বিষ : সাতক্ষীরার বাজারের ফার্মের মুরগি কতটা নিরাপদ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
থালায় বিষ : সাতক্ষীরার বাজারের ফার্মের মুরগি কতটা নিরাপদ?

আখলাকুর রহমান

‘মাত্র একমাস বয়সেই দেড় কেজি ওজন’ এই দানবীয় বৃদ্ধির রহস্য কি জানেন? সাতক্ষীরার পৌর মাছ মাংসের বাজার থেকে শুরু করে উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোটিনের নাম ফার্মের ব্রয়লার মুরগি। কলারোয়া, তালা, দেবহাটা কিংবা শহরের কেন্দ্রীয় বাজার, সবখানেই দিনে দিনে বাড়ছে এই মুরগির চাহিদা। দামে সস্তা আর সহজলভ্য বলে মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, প্রায় প্রতিটি পরিবারের পাতেই এখন ব্রয়লারের আধিপত্য। কিন্তু এই সস্তা প্রোটিনের আড়ালে যে নীরবে ঢুকে পড়ছে এক ভয়ংকর বিষ, তা আমরা কজনই বা ভেবে দেখি?

মাত্র আটাশ থেকে পঁয়ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি তুলতুলে ছানাকে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের মুরগিতে পরিণত করার পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার বাণিজ্যিক বাস্তবতা। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে যে বৃদ্ধি ঘটতে সময় লাগে মাসের পর মাস, সেই বৃদ্ধিকে কৃত্রিমভাবে মাত্র কয়েক সপ্তাহে ঘটিয়ে ফেলা হচ্ছে রাসায়নিকের জোরে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে খামারিরা যেসব রাসায়নিক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন, তা সাতক্ষীরার মতো জেলাশহরের সাধারণ ভোক্তাদের জন্যও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুরগি দ্রুত বড় করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক। নিয়ম অনুযায়ী জবাইয়ের অন্তত সাত দিন আগে সব ওষুধ প্রয়োগ বন্ধ করার কথা, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘উইথড্রয়াল পিরিয়ড’। কিন্তু সাতক্ষীরা অঞ্চলের অধিকাংশ ছোট বড় খামারেই এই নিয়ম বিন্দুমাত্র মানা হয় না। বিক্রির ঠিক আগের দিন পর্যন্তও মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক মেশানো খাবার পানি খাওয়ানো হয়, যাতে ওজন আরেকটু বেড়ে যায়, লাভ আরেকটু বেশি হয়।

ফলে এই মাংস যখন আমরা কিনে এনে রান্না করি, তখন সেই অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক নীরবে ঢুকে পড়ে আমাদের শরীরে। বছরের পর বছর এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সমৃদ্ধ মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে তৈরি হচ্ছে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’, অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি। সাধারণ সর্দি কাশি বা সামান্য ইনফেকশনে চিকিৎসকের দেওয়া জীবনরক্ষাকারী ওষুধও আর কাজ করছে না শরীরে। যে ওষুধ একসময় মুহূর্তে সংক্রমণ সারিয়ে দিত, আজ সেই একই ওষুধ শরীরে প্রবেশ করেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। এই নীরব সংকট ভবিষ্যতে সামান্য অসুখেও কোটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। শুধু অ্যান্টিবায়োটিকই নয়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধির জন্য পোল্ট্রি ফিডে মেশানো হয় ক্ষতিকর গ্রোথ হরমোন ও মাত্রাতিরিক্ত ভারী ধাতু। গবেষণায় দেখা গেছে, সস্তা পোল্ট্রি ফিড তৈরিতে অনেক সময় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রচুর পরিমাণে থাকে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম ও সীসা। চামড়া শিল্পের এই বর্জ্য যা মাটিতে ফেলে দেওয়ার কথা, তা আজ ঘুরপথে ঢুকে যাচ্ছে আমাদের খাদ্যচক্রে। এই ভারী ধাতুগুলো মুরগির হাড়, মাংস এবং চামড়ার মাধ্যমে সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

শরীরে ক্রোমিয়াম ও সীসার মতো বিষাক্ত ধাতুর আধিক্য কিডনি বিকল হওয়া, লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতিকর হরমোনযুক্ত মাংসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি মারাত্মক ও দৃশ্যমান হচ্ছে। বর্তমান সময়ে শিশুদের স্বাভাবিক বয়সের অনেক আগেই বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে যাওয়া বা অকাল পক্কতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এই হরমোন ও স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ব্রয়লার মুরগি নিয়মিত খাওয়া। যে শিশুর শরীর এখনো বেড়ে ওঠার কথা প্রকৃতির নিয়মে, তার শরীরেই আজ ঢুকে পড়ছে কৃত্রিম হরমোনের চাপ।

পাশাপাশি, সাতক্ষীরাসহ সারাদেশের বাণিজ্যিক খামারগুলোর অস্বাস্থ্যকর ও ঠাসাঠাসি পরিবেশ মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলে। হাজার হাজার মুরগিকে মলমূত্রের নোংরা পরিবেশের মধ্যে গাদাগাদি করে রাখা হয়, যেখানে তারা ডানা মেলার বা একটু হাঁটার সুযোগও পায় না। এই চরম মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে মুরগির শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ ঘটে, যা মাংসের গুণগত মান একদম কমিয়ে দেয়। এই মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের মানসিক অবসাদ, মেদভুঁড়ি এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো কার্ডিওভাসকুলার রোগগুলো এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এই চর্বিযুক্ত ও রাসায়নিক মিশ্রিত মাংসের বড় ভূমিকা রয়েছে।

সাতক্ষীরার মতো একটি জেলা, যা এক সময় পরিচিত ছিল তার নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ, মাছ, চিংড়ি আর কৃষিপণ্যের জন্য, সেই জেলার মানুষও আজ ধীরে ধীরে এই ভেজাল ও রাসায়নিকনির্ভর খাদ্য সংস্কৃতির শিকার হচ্ছে। বাজারে গিয়ে ক্রেতা যখন মুরগি কেনেন, তখন তার সামনে বিকল্প খুব কম থাকে। দেশি মুরগির দাম কয়েকগুণ বেশি, আর সাধারণ মানুষের হাতে সেই সামর্থ্য নেই। ফলে বাধ্য হয়েই মানুষ প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ মাংসের দিকেই ঝুঁকছেন।

খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এই ভয়াবহ পোল্ট্রি সংস্কৃতির লাগাম টানা এখন সময়ের দাবি। সরকার ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়ন্ত্রণ করা এবং খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার আইন করে বন্ধ করা জরুরি। শুধু আইন করলেই হবে না, বাস্তবায়নের জন্য চাই নিয়মিত পরিদর্শন ও কঠোর জরিমানার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝেও সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা সম্ভব হলে ব্রয়লারের বিকল্প হিসেবে দেশি মুরগি, হাঁস বা সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রাকৃতিক প্রোটিন উৎসের দিকে নজর দেন।

আজ যদি আমরা পোল্ট্রি শিল্পের এই নীরব বিষক্রিয়ার বিরুদ্ধে সচেতন না হই, রুখে না দাঁড়াই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠবে এক পঙ্গু, রোগাক্রান্ত এবং ওষুধপ্রতিরোধী সমাজ হিসেবে। যে মাটির সন্তান আমরা, সেই সাতক্ষীরার আগামী প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে হলে আজই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, থালার প্রতিটি গ্রাসে যেন বিষ না ঢোকে। এই সিদ্ধান্তের মাশুল না দিলে, ভবিষ্যতে তার মূল্য দিতে হবে গোটা জেলাকে, গোটা জাতিকে।

Ads small one

পাইকগাছায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ধ্বস, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি, স্বাস্থ্যসেবা চলছে স্কুলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ধ্বস, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি, স্বাস্থ্যসেবা চলছে স্কুলে

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় প্রায় আড়াই বছর আগে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভবনটি ধসে পড়ায় অবকাঠামোর পাশাপাশি ক্লিনিকের বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী।

দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী উষা মন্ডল জানান, গত সোমবার সকালে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ভবনের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক মিটার, পানির মোটর, পানির ট্যাংক, রাউটারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর হিসাবে ভবন ও সরঞ্জাম মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে আমুরকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মাণ করা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, সমতল জমির পরিবর্তে একটি চিংড়িঘেরের পাশে নিচু জায়গায় কয়েকটি রড ও সিমেন্টের পিলারের ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ক্লিনিকে যাতায়াতের জন্য স্থায়ী কোনো সড়কও ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে সিমেন্ট খসে রড বেরিয়ে আসে। ভবনে ওঠানামার সিঁড়িও ছিল ঝুলন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলতে থাকে।

 

প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঝুঁকি বেড়ে গেলে পাশের রঙধনু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আমুরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাস্থ্যকর্মীকে অন্যত্র কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন। পরে কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিনিকের কার্যক্রম আমুরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা আহম্মেদ বিনতে বলেন, “আমি কয়েক মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি জেনেছি, উপজেলার আরও কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোও পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত করা হয়েছিল বলেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অফিসের সাথে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অফিসের সাথে মতবিনিময় সভা

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের তথ্য অফিসের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) বেলা ৩ টায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের ৬৮ তথ্য অফিসের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল সভাটির সভাপতিত্ব করেন। এ সভায় সদর দপ্তরের পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ এ মু’মেনসহ অধিদপ্তরের সকল উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সকলে সরাসরি এবং মাঠ পর্যায়ের ৬৮ তথ্য অফিসের অফিস প্রধানগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

পত্রদূত ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা এবং পেশাজীবী গাড়ি চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে একটি বিশেষ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পেশাজীবী চালকরা অংশগ্রহণ করেন।

বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং সড়ক নিরাপত্তার আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা প্রদান করা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক, যেখানে দুর্ঘটনা রোধে চালকদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া চালকরা তাদের দৈনন্দিন কর্মক্ষেত্রে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। অনেক চালক অভিযোগ করেন যে, অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের চাপের কারণে তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে হিমশিম খান।

তবে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকে চালকদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং ট্রাফিক সাইন সম্পর্কে অজ্ঞতা।

প্রধান প্রশিক্ষক বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একজন দক্ষ চালকই পারে সড়কের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে। তিনি পেশাজীবী চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, লাইসেন্স থাকা আর দক্ষ হওয়া এক বিষয় নয়, বরং প্রতিটি ট্রিপে সতর্ক থাকা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলাই একজন সচেতন চালকের মূল পরিচয়। চালকদের এই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মশালায় নিরাপদ ওভারটেকিং, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালায় বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী উসমান সরওয়ার আলম এবং উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে চালকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি চালকদের পেশাদারিত্বের মানদন্ড বজায় রাখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের ফলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং এটি সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিআরটিএ প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে এবং যারা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান প্রয়োগে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে, পেশাজীবী চালকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সাতক্ষীরায় সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায়, চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে কেবল প্রশিক্ষণ নয়, বরং চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন এবং সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে অকাল মৃত্যুর মিছিল কমাতে। সাধারণ মানুষের নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনেও অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।