শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুক্তমত: সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্রে জনদুর্ভোগের মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্রে জনদুর্ভোগের মহোৎসব

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
সাতক্ষীরা শহরের পিএন হাইস্কুল মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার হয়ে পালপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি যেন এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন কাজের ধীরগতি, দখলদারিত্ব, আর বাজারের চরম অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শহরবাসী। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে একদিকে যেমন ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা চলছে, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
১. পিএন স্কুল মোড়: উন্নয়নের নামে ভোগান্তি :
দীর্ঘদিন আগে টেন্ডার হলেও পিএন হাইস্কুল মোড় থেকে পালপাড়া মোড় পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই রাস্তার কাজ থমকে আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার একপাশে কেবল ইটের গাঁথুনি দিয়ে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন প্রধান এই সড়কটি খুঁড়ে রাখায় দিনরাত তীব্র যানজট লেগেই থাকছে।
রহস্যময় ঠিকাদার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাজের ঠিকাদারের নাম বা মোবাইল নম্বর স্থানীয়দের কাছে তো দূরের কথা, সংশ্লিষ্ট অনেক দপ্তরেও মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন এই লুকোচুরি এবং কার ছত্রছায়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
২. পাকাপোল থেকে বড় বাজার: ফুটপাতহীন রাস্তায় দখলের রাজত্ব পাকাপোলের মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার (কেষ্ট ময়রার মোড়) পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অবর্ণনীয়।
অস্তিত্বহীন ফুটপাত: রাস্তার দুই পাশে কোনো ফুটপাত নেই। তদুপরি সরু রাস্তার সিংহভাগ দখল করে রেখেছেন হকার ও দোকানিরা।
বেহাল দশা: রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যত্রতত্র ভ্যান ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ফলে পথচারীদের রীতিমতো ‘লড়াই’ করে চলাচল করতে হয়।
কাঁচাবাজারের দখল: বাজারের ভেতর মূল রাস্তা জুড়ে বসেছে অস্থায়ী কাঁচাবাজার, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিয়েছে।
৩. বাজার সিন্ডিকেট: ওজনে কম ও পচা মাংসের কারবার
সুলতানপুর বড় বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:
ওজনে কারচুপি: বিশেষ করে মুরগি, গরু ও ছাগলের মাংস এবং মাছ কেনার সময় ডিজিটাল বা সনাতন পাল্লায় কৌশলে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে।
পচা-বাসি মাংস: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা গবাদি পশুর পাশাপাশি অনেক দোকানে আগের দিনের বাসি ও পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশ দূষণ: বাজারের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হওয়ায় পচা পানির দুর্গন্ধ ও ময়লার স্তূপের পাশ দিয়েই ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।
৪. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্বল্প আয়ের মানুষের হাহাকার
সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্বল্প আয়ের মানুষরা বাজারে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। অনেকেই তালিকা কাটছাঁট করে ব্যাগের এক কোণে সামান্য বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাজার মনিটরিং কমিটির কোনো তৎপরতা এখানে দৃশ্যমান নয়।
নাগরিক দাবি ও উপসংহার
সাতক্ষীরার এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
জবাবদিহিতা: পিএন স্কুল মোড়ের কাজের বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
উচ্ছেদ অভিযান: রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ দখলদার ও যত্রতত্র পার্কিং উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বাজার তদারকি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওজনে কারচুপি ও পচা মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ময়লা অপসারণ ও বাজার পরিষ্কার রাখা।
সাতক্ষীরা শহরের এই নাভিশ্বাস ওঠা জনজীবন স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Ads small one

সাতক্ষীরার ওয়ারিয়া গ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার ওয়ারিয়া গ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় পানিতে ডুবে শান্ত (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃত শিশু শান্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ৯ টার দিকে শিশু শান্ত বাড়ির পাশে একটি পুকুরের ধারে খেলা করছিল। খেলার একপর্যায়ে বাড়ির সবার অজান্তে হঠাৎ করে সে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুকুরের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় শান্তর মরদেহ উদ্ধার করে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এবার নদীপথে পুশইন, বিজিবির প্রতিরোধে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
এবার নদীপথে পুশইন, বিজিবির প্রতিরোধে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শনিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১৫ জনকে নদীপথে নৌকাযোগে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।

বিজিবির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এ সময় উল্লেখিত ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল। পরে বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টা পর বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

পুশইনের চেষ্টা চালানো ১৫ জনের মধ্যে দুই জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৫ জন শিশু ছিল।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা মূলক মাইকিং, স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ পুশইন টেকাতে আগামীতেও এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

সামনে তহবিল আরও কমতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
সামনে তহবিল আরও কমতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে তহবিলের প্রাপ্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যয়ে। বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তহবিল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী বছরগুলোতে তহবিল আরও কমে যাওয়ার দ্বিতীয় দফা প্রভাব দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সমিতির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের মাত্রা আগের তিনটি বড় তেল সংকটের চেয়েও বিস্তৃত হতে পারে। এমন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, একই ধরনের চ্যালেঞ্জ অনেক দেশই মোকাবিলা করছে। রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং তা সম্প্রসারণে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সতর্ক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নিতে পারলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অনেক বেশি হারে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা অর্থায়নকে সীমিত করছে।

তিনি জলবায়ু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো অতিরিক্ত সুদের বোঝায় পড়ছে, যা বৈদেশিক ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।