শ্যামনগরে গাছ কাটতে বাধা পেয়ে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গাছ কাটায় বাঁধা পেয়ে ময়না বেগম(৫৫) ও তার মেয়ে আমিনা বেগম(২৬)কে পিটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বুধবার বিকালে উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এসময় দুই নারীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসায় আমিনার স্বামী আলআমিন মোড়লও মারধরের শিকার হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আমিনা বেগমের ভাষ্য তাদের জমি ইজারা নিয়ে নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি কাঁকড়ার হ্যাচারী গড়ে তুলেছে। বুধবার বিকালে পানখালীর সাইদের নেতৃত্বে নুরুজ্জামানের ৭/৮ জন কর্মচারী আকস্মিকভাবে উক্ত জমিতে থাকা কেওড়া ও বাইন গাছ কাটা শুরু করে। এসময় বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে তারা মা-মেয়ে বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সাইদের নেতৃত্বে লাঠিশোটা দিয়ে গাছ কাটতে আসা লোকজন তাদের মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে তার স্বামী ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করায় তাকেও মারধর করা হয়।
আলআমিন মোড়লের দাবি তার স্ত্রীর পেটে মারাত্বকভাবে আঘাত করার কারনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী শ^াশুড়ীও মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে। ইজারা নেয়া জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নুরুজ্জামান তার লোকজন দিয়ে গত তিন বছর ধরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের জমির উপর দিয়ে নির্মিত চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত তারা তালাবদ্ধ করে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত নুরুজ্জামান জানান তিনি ঘটনাস্থলে না থাকায় তার কর্মচারীরা ভুল করেছে। ইতিমধ্যে আহত মা-মেয়ের চিকিৎসার দায়-দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসার প্রস্তাবও দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে সহকারী উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।









