বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি, আতঙ্কে ডুমুরিয়ার ব্যবসায়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি, আতঙ্কে ডুমুরিয়ার ব্যবসায়ী

Oplus_16908288

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি এবং পথরোধ করে টাকা ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আলমগীর কবির রাসেল নামের এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া সদরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ভুক্তভোগী আলমগীর কবির রাসেল খুলনা নগরীর গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়ার কাকমারী এলাকায় মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি এবং ঘের দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। গত বছরের আগস্ট মাসে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই চক্রটি তাঁকে হয়রানি করতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মার্চ তাঁর নগরীর ঠিকানায় ডাকযোগে একটি চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠায় দুর্বৃত্তরা। খামের ওপর প্রেরক হিসেবে ‘সুনীল ম-ল’ নাম লেখা থাকলেও চিঠিতে অজ্ঞাত পরিচয় দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আগের দিন বেঁচে গেছিস, তোর নিস্তার নাই। কাফনের কাপড় আগে পাঠালাম, কারণ পরের বার সময় পাবি না। দিন গুনতে থাক।’

এই ঘটনায় তিনি খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে রাসেল আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি মৎস্য ঘেরের জন্য বাঁশ কিনতে ডুমুরিয়া সদরে এলে ওত পেতে থাকা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এসময় তাঁকে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা সাড়ে ২১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে তিনি জানান।

ব্যবসায়ী আলমগীর কবির রাসেল বলেন, ‘কাফনের কাপড় ও হত্যার হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিনিয়ত এক অজানা আতঙ্ক আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।’ তিনি দ্রুত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

Ads small one

শ্যামনগরে বেকার হয়ে পড়া ছেলের গাড়ীর পেট্রোল সংগ্রহের জন্য মা দীর্ঘ লাইনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেকার হয়ে পড়া ছেলের গাড়ীর পেট্রোল সংগ্রহের জন্য মা দীর্ঘ লাইনে

oppo_2

পীযুষ বাউলিয়া পিন্টু, মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর): শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশন থেকে ছেলে সাগর বৈদ্যের মোটর সাইকেলের পেট্রোল সংগ্রহ করার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য। ভাড়ায় মটর সাইকেল চালক সাগর বৈদ্য তেল না পেয়ে বেকার হয়ে এখন মাঠের কাজে লেগেছে। এজন্য তেলের জন্য পাম্পে অপেক্ষা করছে মা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রখর তাপদাহে তাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট কাটাতে ৫ দিন অপেক্ষার পর আজ তেল সংগ্রহ করা যাবে জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক তেল সংগ্রহের ঘোষণা দিলে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন দীর্ঘ পাঁচ দিন পরে আজ তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

 

মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিয়নের তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় বুড়িগোয়লিনি ইউনিয়নে পেট্রোল দেয়ার সময়ে ব্যাপকভাবে অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ইউনিয়নের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে বেপরোয়া মারধর করে। সে কারণে ফিলিং স্টেশন ৫দিন তেল দেওয়া বন্ধ রাখে।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজারের অধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। স্থানীয় মোটরসাইকেল ভাড়া চালকরা নিরুপায় হয়ে বেকার হয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ ভিন্ন পেশার কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছে। ফলে সেই পরিবারের নারীকে দেখা গেছে পেট্রোল সংগ্রহ করতে। ৩ সন্তানের জননী বিথিকা রানী বলেন, আমার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়া চালানোসহ কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। সময় মত তেল না পাওয়ার কারণে কৃষি কাজের শ্রম দিতে গেছে। আমি এই দুইদিন তেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। গতকাল তেল দেওয়ার খবর শুনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছি।

 

এই ফিলিং স্টেশনে সকাল ৭টা থেকে ৯.৩০ মিনিট পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীদের তেল দিয়েছে। পরে সাধারণ জনগণের লাইনে কিছু তেল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ম ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ লাইনে রাস্তার দুই পাশে প্রায় ২/৩ শ মোটরসাইকেল গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন তেল পাবো জানিনা। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খল কিছু ঘটনার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে আবার তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এখানে সুষ্ঠুভাবে তেলের বন্টন বিষয়টি নিশ্চিত হলে সকলের তেল পাবে এবং জনগণের স্বস্তি ফিরে আসবে।

সাতক্ষীরায় থমকে আছে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমিটির চাকা, উপবৃত্তি পাচ্ছে মাত্র ২ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় থমকে আছে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমিটির চাকা, উপবৃত্তি পাচ্ছে মাত্র ২ শতাংশ

মো. হোসেন আলী: সাতক্ষীরা জেলায় ৬৭ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী মানুষের বসবাস থাকলেও তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোর সঠিক প্রয়োগ নেই বললেই চলে। একদিকে শিক্ষা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত বিশাল এক অংশ, অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের সুরক্ষা কমিটিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা, এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন জেলার হাজার হাজার প্রতিবন্ধী মানুষ।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় মোট নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৭২৫ জন মাসিক ভাতা পেলেও শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। শতাংশের হিসেবে যা মোট প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মাত্র ২ শতাংশের সামান্য বেশি। তবে জেলায় মোট প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জেলা শিক্ষা অফিস বা পরিসংখ্যান অফিসে সংরক্ষিত নেই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে না পেরে অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সমাজসেবা কার্যালয় জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় আবেদনকারী সকল যোগ্য শিক্ষার্থীকে এই তালিকার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

উপবৃত্তি না পাওয়ার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। এমনই একজন সাতক্ষীরা সদরের শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আশিস বিশ্বাস, যিনি হাতের কম্পনজনিত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এবারের (২০২৬) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আশিস বলেন, আমি কোনো শিক্ষা উপবৃত্তি পাই না। অভাবের সংসারে পড়াশোনা চালানোই কঠিন। আজ পরীক্ষার দিনেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে সময় নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় পাওয়ার কথা থাকলেও আমাকে তা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়েই খাতা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমার জন্য স্বাভাবিক গতিতে লেখা সম্ভব না।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনেছেন যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে শ্রুতিলেখকের অনুমতি নিতে হয়। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও সহায়তা না পাওয়ায় তিনি সময়মতো আবেদন করতে পারেননি। ফলে নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়েই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে, প্রতিবন্ধকতা যে মেধার পথে বাধা হতে পারে না, তার উদাহরণ মো. সিহাব সিদ্দিকী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি ২০১৯ সালে ‘শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ৬২ জন সদস্যের এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে এসএসসি ও ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেছেন সিহাব।

তবে নিজের অভিজ্ঞতায় বৈষম্যের চিত্রই তুলে ধরেন তিনি। সিহাব বলেন, একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাজীবন এক ধরনের যুদ্ধ। আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় ও শ্রুতিলেখকের সুবিধা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক সময় পাওয়া যায় না। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব অধিকার পেতে অনুরোধ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলায় ভাতার তুলনায় উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম, যা প্রমাণ করে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ কম। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য গঠিত উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলোও কার্যত নিষ্ক্রিয়। নিয়মিত সভা না হওয়ায় তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো সামনে আসে না।

এই প্রতিকূলতার চিত্র আরও ভয়াবহ নারী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই কঠিন, তার ওপর পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়তে হয়। শ্রুতিলেখক বা অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে পরিষ্কারভাবে কেউ আগে থেকে জানায় না। মেয়েদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও কেন্দ্রে ওঠানামার সমস্যাও থাকে। অনেক সময় এসব কারণে ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারি না।

‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় একটি সংবিধিবদ্ধ ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা কমিটি’ থাকার বিধান রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার এই কমিটির সভা হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাতক্ষীরার চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এসব কমিটির কোনো সভা হচ্ছে না।

প্রতিবন্ধীব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত বলেন, আমরা নিয়মিত তদারকির চেষ্টা করি। তবে অনেক সময় দাপ্তরিক ব্যস্ততায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর সভা করা সম্ভব হয় না। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সায়েদুর রহমান মৃধা নিয়মিত সভা না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের উপজেলা পর্যায়ে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে, যে কারণে প্রতি তিন মাস পর পর সভা করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। সাধারণত যখন বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তখনই আমরা সভা আহ্বান করি। তবে নিয়মিত না হলেও বছরে গড়ে ১টি বা ২টি সভা হয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি সামনের দিনগুলোতে এই সমন্বয় আরও বাড়াতে।

গত এক বছরে জমা পড়া অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে এসে মৌখিকভাবে তাদের সমস্যার কথা জানান। আমরা চেষ্টা করি তাৎক্ষণিকভাবে সেসব সমস্যার সমাধান করে দিতে।

উপবৃত্তির সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জেলায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত থাকার মূল কারণ হলো চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের স্বল্পতা। বরাদ্দ কম থাকায় অনেক সময় আবেদনকারী সকল যোগ্য শিক্ষার্থীকে এই তালিকার আওতায় আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এসএম বিপ্লব হোসেন মনে করেন, কমিটির এই নিষ্ক্রিয়তা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এটি একটি সংবিধিবদ্ধ আইন যার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী উপজেলা কমিটিগুলোর নিয়মিত সভা না হওয়া এবং নীতিমালার তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত সময় না দেওয়া সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকারের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করাও তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার শামিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা ‘কাজের চাপে’ সভা করতে না পারার যে অজুহাত দিচ্ছেন, তা আইনি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে বিশেষ একটি জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি আইন ও নীতিমালার এই ব্যত্যয়গুলো দ্রুত সমাধান না করে, তবে ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকারের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রাখেন।

মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, কাজের চাপের অজুহাত দিয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ কমিটির সভা বন্ধ রাখা যায় না। এর ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের অধিকার ও অভাব-অভিযোগ জানানোর কোনো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছেন না। আইন অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সভা না হওয়া মানে তাদের সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া। নিয়মিত তদারকি না থাকায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের স্থায়ী কমিটিগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না।

অপরদিকে, জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে যারা লিখতে পারেন না, তাদের জন্য শ্রুতিলেখক ও সহায়তাকারীর স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নতুন নীতিমালা (২০২৫) অনুযায়ী, একজন পরীক্ষার্থী চাইলে নিজের পছন্দের বা কেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রুতিলেখকের সাহায্যে পরীক্ষা দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী প্রতি ঘণ্টায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাওয়ার অধিকারী।

শিক্ষা অফিস আরও জানায়, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার আগে নির্ধারিত ফরমে কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রুতিলেখকের অনুমতির আবেদন করতে হয়। শ্রুতিলেখককে অবশ্যই পরীক্ষার্থীর চেয়ে অন্তত এক বা দুই ধাপ নিচের ক্লাসের (যেমন এসএসসির জন্য ৮ম বা ৯ম শ্রেণি) শিক্ষার্থী হতে হবে। বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই যোগ্যতা যাচাই করে অনুমোদন প্রদান করেন। তবে শিক্ষা অফিসে এ সংক্রন্ত কোনো অভিযোগ কেউ করেনি।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর বলেন, শ্রুতিলেখকের অনুমতির জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি। এছাড়া কতজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, সে সম্পর্কেও আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। কেউ যদি কোনো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটনও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটনও

স্পোর্টস ডে:
তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৩৩ ওভারে ১৫৭/৩ (লিটন ৫২*, শান্ত ৮১*; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮)

চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে দিশা দেখাচ্ছেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্তর পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন লিটনও। লিটন ১৩তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ৭১ বলে। তাদের পার্টনারশিপ একশও ছাড়িয়েছে।

শান্তর টানা দ্বিতীয় ফিফটি

৩২ রানে তিন উইকেট পড়ার পর জুটি গড়ে দলকে স্থিতি এনে দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। জুটি গড়েছেন তারা। শান্ত সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটির দেখাও পেয়েছেন। তার পঞ্চাশ পূরণ হয়েছে ৭০ বলে। এটা তার ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি।

ও’রুর্কের তৃতীয় শিকার সৌম্য

৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন সৌম্য। কিন্তু নবম ওভারে সেই ও’রুর্কের গতি আর বাউন্সের কাছে পরাস্ত হয়েছেন। বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হয়েছেন ১৮ রানে। তাতে ৩২ রানে পতন হয়েছে তৃতীয় উইকেটের।

ও’রুর্কের আঘাতে সাজঘরে সাইফ-তানজিদ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৩ ওভারের মধ্যে ফিরেছেন দুই ওপেনার। উইল ও’রুর্কের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান (০)। এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও আঘাত হানেন ও’রুর্ক। তার বাউন্সি বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও (১)।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে মোস্তাফিজ

শেষ ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের টস ভাগ্য সহায় হয়নি। টানা তিন ম্যাচেই টস জিতলো নিউজিল্যান্ড। চট্টগ্রামে এবার অবশ্য টস জিতে শুরুতে বোলিং নিয়েছে সফরকারী দল। বাংলাদেশ এবার প্রথমে ব্যাট করবে।

চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১১টায়। ওয়ানডে সিরিজে এখন ১-১ সমতা। তাই তৃতীয় ওয়ানডেটা সিরিজ নির্ধারণী।

একাদশে কারা

শেষ ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার তানভীর ইসলাম। নিউজিল্যান্ড একাদশে পরিবর্তন একটি। বাদ পড়েছেন ব্লেয়ার টিকনার, তার জায়গায় এসেছেন বেন লিস্টার।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, তানভীর ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), মুহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, জেডেন লেনক্স, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও বেন লিস্টার।