বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

পেট্রোল পাম্প গুলিতে জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
পেট্রোল পাম্প গুলিতে জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে

আজহারুল ইসলাম সাদী
২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পে দীর্ঘ সারির খবর লক্ষণীয়। যা জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি করেছে, সরকার সংকট না থাকার দাবি করলেও আতঙ্কিত মানুষের চাহিদার কারণে কৃত্রিম সংকট তীব্রতর হচ্ছে, এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ১৯৭০-এর দশকের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃত্রিম সংকট: অভিযোগ উঠেছে যে একটি চক্র কৃত্রিমভাবে তেল সংকট তৈরি করছে, যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
গণপরিবহনে ভোগান্তি: তেল না পেয়ে অনেকে লোকাল বাসে চড়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক প্রভাব: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল দেশের ভেতরের সমস্যা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ হ্রাসের একটি অংশ।
উত্তরণের প্রচেষ্টা: সরকার কৃত্রিম সংকট তৈরি কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক ব্যবহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তেল সংকটের প্রেক্ষাপট ও কয়েকজন সাংবাদিক এর ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট কৃত সমালোচনা এখানে তুলে ধরা হলো:
সাংবাদিক মিলন রুদ্র লেখেন, পেট্রোল পাম্প থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে করতে তেল নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আমি নিজেও তেল বঞ্চিত হ ই।
সাংবাদিক সাইদুল বাসার তার পোস্টে লেখেন বাজার হতে আমার মোটরসাইকেল থেকে তিনটি তেল চুরি হয়ে গেছে। ১৫ দিন আগেও ৩ টি তেল চুরি হয়ে গিয়েছিল। গত ২ দিন আগে কপোতাক্ষ পাম্প থেকে ৭ ঘন্টা অপেক্ষা পরে ৫ শত টাকার তেল পেলাম তার থেকে ৩ লিটার তেল চুরি!
পেট্রোল পাম্প থেকে কয়েকদিন পেট্রোল নিতে গিয়ে সাংবাদিক তৌহিদ এর সাথে ঘটে যাওয়া তীক্ত অভিজ্ঞতা কথা তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন….
গত কয়েকদিন আমার সাথে ঘটেছে যে কথা বলতে পারিনি কাউকে।
ঘটনা সুত্রপাত, তেল দিচ্ছে এই খবর শুনে তেল নিতে গিয়েছিলাম আলিপুর সোনালী পেট্রোল পাম্পে। সেখানে প্রায় হাফ কিলোমিটার সিরিয়াল ঠেলে ৪ ঘন্টা পর যখন নজেল ম্যানের কাছে পৌঁছালাম আমার সামনে তখন মাত্র একটা গাড়ি ছিল, হঠাৎ হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা এলো তেল শেষ, তেল দেওয়া হবে না? আপনারা জায়গা খালি করেন!
হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা শুনে পাম্প কতৃপক্ষ এক পূর্ব পরিচিত বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে অনেক অনুনয় বিনয় করলাম, ফিরে যাওয়ার মতো তেল বাইকে ছিল না, সেটিও জানালাম, শান্তনা দিলো, বললো বাইক রাখার জায়গা দিচ্ছি, বাইক রেখে যান। অনুরোধ করলাম অল্প একটু তেলের জন্য। কিন্তু কোন কথাতেই কাজ হলো না। উনারা এক কথার মানুষ!
তবে আমার কথা শুনে একজন করুনা করে একটা স্পিডের বোতলে একটু তেল দিতে চাইলো! নিরুপায় হয়ে ঐ তেল নিয়ে কোন রকমে ফিরে এলাম বাসায়!
রাতে ঘুম হচ্ছে না, তেল তো লাগবেই, এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, ভাবতে ভাবতে রাত ভোর হলো। সকালে জানতে পারলাম কপোতাক্ষ পেট্রোল পাম্পে তেল দিচ্ছে, আবারো ঝুঁকি নিলাম, পাম্পে সেই লম্বা সিরিয়াল!
তার ফাঁকে ফাঁকে পাম্প কতৃপক্ষ দুই ভাই এবং তাদের কিছু শুভাকাঙ্খি তাদের পছন্দের লোকদের সিরিয়ালের বাইরে নিয়ম ভেঙ্গে ট্যাংকি ফুল করে তেল দিচ্ছে!
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকারদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তীব্র প্রতিবাদ করছে– আমি দর্শক সারিতে দাঁড়িয়ে দেখছি, নিয়ম ভেঙ্গে তেল দেওয়া দেখে নিজের পেশার পরিচয় দিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করলাম আমিও!
কোন কথায় কোন কর্ণপাত করছে না, ঘন্টা তিন পরে বললো এভাবে না দাঁড়িয়ে এতোক্ষণ লাইনে দাড়ালে তো তেল পেতেন, আমিও সেটি ভেবে গেলাম লাইনে আবারো সাড়ে তিন ঘণ্টা লম্বা লাইন ঠেলে যেই নজেল ম্যানের কাছাকাছি পৌছালাম সেই ঘোষণা ছাড়াই তেল বন্ধ!!
প্রথমে বললো জেনারেটর গরম হয়ে গেছে, তারপর সবাই যখন হৈচৈ করছে তখন বললো তেল নেই, আবার আসবে তারপর তেল দিবো। একজন বাইক চালক খুব উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচিল্লি করছে দেখে পাম্প মালিক এসে তাকে মারধর শুরু করলো! সাথে সাথে তার বাহিনী ও হামলে পড়লো ঐ বাইক চালকের উপর। এই দৃশ্য দেখার পর আর সাহস হলো না ঐখানে দাঁড়িয়ে তেল চাইবো! খুব ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরলাম, ঘুম আসছে না, নির্ঘুম রাত কাটলো।
পরের দিন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম ভাই গ্রুপে জানালেন কপোতাক্ষ পেট্রোল পাম্পে সাংবাদিকদের তেল দিবে, আলাদা লাইনে, ডিসি অফিস থেকে জানানো হয়েছে! গেলাম দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দাঁড়ালাম সাংবাদিক সহকর্মীরা মিলে সুশৃঙ্খল ভাবে আলাদা লাইনে। কিন্তু বিপত্তিটা সেখানে বাঁধলো! স্থানীয় চোরাই তেল সিন্ডিকেটরা সাংবাদিকদের দেখে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।
তারা উস্কানি দিয়ে জনগণকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বাজে স্লোগান দেওয়াচ্ছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলো, সাংবাদিকদের লাইন দীর্ঘ হতে লাগলো। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে উনি ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ পাঠালেন, ততক্ষণে পাম্প কর্তৃপক্ষের কারসাজি শুরু হয়ে গেছে,তারা তাদের তেলের লরি দিয়ে সাংবাদিকদের লাইন টি ব্লক করে দিলো।
ম্যাজিস্ট্রেট এসে আপ্রাণ চেষ্টা করলো লাইনে দাঁড়ানো ৫ জন কে এবং ১ জন সাংবাদিক কে তেল দিবে, এভাবে শুরু হলো, তখন সময় সন্ধ্যা হবে হবে, এভাবে ৪/৫ জন সাংবাদিক তেল পেলো আমি ধৈর্য হারা হয়ে সন্ধ্যা ৭ টায় চলে আসলাম বাসায়!
পরে রাত ১২ টায় সহকর্মীরা ফোন দিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বললো তারা তেল না পেয়ে এসেছেন! এমনকি তাদের উপর হামলার চক্রান্ত হয়েছিল!
আমার তবুও ৫ঘন্টা সময় বেঁচে গেছে এই শান্তনায় ঘুমিয়ে পড়লাম। সম্প্রতি চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরের সকল ফিলিং স্টেশন এবং ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন দুই শিফটে একযোগে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সরকারের জরুরি পরিষেবা সংশ্লিষ্ট অফিস ও ব্যক্তিগত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। বোতল ও কন্টেনারে পেট্রোল বিক্রয় নিষিদ্ধ পাশাপাশি হাটে বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির উপর ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় প্রশাসনের নির্দেশনায় পেট্রোল পাম্প গুলিতে কতটা সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। সুষ্ঠু ভাবে হয়রানি যুক্ত তেল সরবরাহ করা হোক এটাই সকলের কাম্য। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

মুম্বাই থেকে আটক করে আসাম সীমান্তে ‘পুশব্যাক’, নির্যাতিত ভারতীয় নারী এখন সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
মুম্বাই থেকে আটক করে আসাম সীমান্তে ‘পুশব্যাক’, নির্যাতিত ভারতীয় নারী এখন সাতক্ষীরায়
আসাদুজ্জামান সরদার: ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া  শাহিদা ফকির (পিতার নাম: মোহাম্মদ আমিনুদ্দিন গাজী) নামের এক ভারতীয় নারী চরম সহায়হীন অবস্থায় আশ্রয় নিয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়ায় ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামে। বর্তমানে তিনি স্থানীয় আবুল বাশার ও আরিফা দম্পতির বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগী শাহিদা ফকির জানান, তিনি গত প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারের সাথে মুম্বাইয়ে বসবাস করে আসছিলেন। চলতি মাসের ১৮ বা ১৯ তারিখ রাতে মুম্বাইয়ের একটি স্থানীয় বাজার থেকে সবজি-রুটি কিনে ফেরার পথে ভারতীয় সিআইডি পরিচয়ে ৪-৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে। তার সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তা দেখতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
তিনি আরো জানান, তাকে কোনো যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চার দিন আটকে রাখা হয়। স্বজনেরা পরিচয়পত্র ও নথিপত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তীতে তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক বাংলাদেশে সীমানায় ঠেলে দেওয়া হয়।
তাদের ৫-৬ জনের গ্রুপ করে সীমান্ত পার করার পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কোনো উপায় না পেয়ে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

তিনি আরো জানান, বসিরহাটের বাড়িতে শ্বশুরের মৃত্যু হওয়ায় খবর পেয়ে তার স্বামী ঘটনার এক মাস আগে কাজের জায়গা মুম্বাই থেকে বসিরহাটে চলে আসেন। শাহিদা ফকিরের দেওয়া তথ্যমতে, তার ভারতের স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম: গোবিন্দপুর, ইউনিয়ন/থানা: বেড়াচাঁপা, মহকুমা: বসিরহাট, জেলা: উত্তর ২৪ পরগনা, রাজ্য: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, আমার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান ভারতে রয়েছে। আমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। গুগলে সার্চ করলে আমাদের বাড়ির সন্ধান মিলবে। আমি অবিলম্বে আমার নিজ দেশে এবং সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চাই।

আশ্রয়দানকারী ভাদিয়ালি গ্রামের গৃহবধূ আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার ডাক্তার দেখানোর জন্য ভাতরে থেকে ফেরার সময় বেনাপোলে নোংরা, কাদা-মাটি মাখা ও কায়িক যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকা শাহিদা ফকিরকে দেখতে পান।

আরিফা বেগম  আরো বলেন, মেয়েটার অবস্থা দেখে যে কারও চোখে পানি আসবে। গায়ে কাদা-মাটি, জামাকাপড় ছেঁড়া এবং হাত-পা ফোলা অবস্থায় কান্নাকাটি করছিল। পুলিশে ধরলে যেমন অত্যাচার করে, তেমনই অবস্থা হয়েছিল। সে কান্নাকাটি করে বলছিল, ‘চাচা, আমারে একটু আপনার বাসায় নিয়ে যান, আমার ছোট বাচ্চা আছে ভারতে। আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই।’ মানবিক দিক বিবেচনা করে আমার স্বামী তাকে এনেছেন এবং গত পাঁচ দিন ধরে আমাদের এখানেই আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গতকাল ঢাকা থেকে আসা দুজন সাংবাদিক তাদের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন। তারা বিষয়টি শাদিক বাশারের কাছ থেকে শুনেছেন এবং সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই নারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আপাতত কোনো মেম্বার না থাকায় আমি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়েছি। ভারত থেকে এক নারী এসে ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয়ে আছেন-ঘটনাটি সত্য। তিনি আমাদের স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে ঢোকেননি, ভারতের দূরবর্তী কোনো এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজখবর নিয়ে জানাচ্ছি।
কলারোয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন বলেন, বিষয়টি এখনই সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পারালম খোজ নিয়ে জানাচ্ছি।

শ্যামনগরের এক স্কুলে দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে আসতে হয়ে বাচ্চাদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের এক স্কুলে দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে আসতে হয়ে বাচ্চাদের

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘আমাদের বাড়ি অনেক দুরে, প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার কাঁদা ঠেলে স্কুলে আসতে হয়। পথে খুব কাঁদা বিধায় স্কুলে এসে তাদের দিয়ে যায়, আবার নিয়েও যায়। অন্য সবার মত আমার বাচ্চাডাও দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে স্কুলে আসে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পেয়ে কথাগুলো বলেন শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী মরাগাং গ্রামের নমিতা রানী মন্ডল। ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী এ নারী আরও বলেন তার ছেলে ধৃতরাজ মন্ডল প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। স্কুলে আসা ও যাওয়ার কাজে এক সেট এবং ক্লাসে পাঠ গ্রহণের সময় অপর সেট জামা প্যান্ট ব্যবহার করতে হয় তার।

প্রায় অভিন্ন কথা শোনায় একই গ্রামের প্রিয়াংকা মন্ডল। অনামিকা ও মিহির নামে নিজের দুই সন্তানকে বিদ্যালয়ে পৌছে দিতে আসা এ নারীর দাবি ‘কাঁদার জন্য বাচ্চারা স্কুলে আসতে চাই না। বাধ্য হয়ে সাথে করে নিয়ে আসার পাশাপাশি ছুটির সময় পুনরায় এসে নিয়ে যেতে হয়’। এছাড়া দুই সেট জামা কাপড় না থাকলে স্কুলে এসে কেউ ক্লাস করতে পারে না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্কুলে যাতায়াত নিয়ে দুর্ভোগের এমন করুন বর্ণনা শুধু এই দু’জন অভিভাবকের কন্ঠে উচ্চারিত হয়নি। বরং দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র হোসাইন ও তৃতীয় শ্রেণীর খাদিজাসহ আরও অসংখ্য ক্ষুদে ছাত্র-ছাত্রী আর অভিভাবকদের দাবি বর্ষাকালে স্কুলে আসতে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।

 

বই খাতা আর জামা প্যান্ট কাঁদায় লেপ্টে যায়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ভাষ্য স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা চলে গেছে উপকুল রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে। কিন্তু ইটের সোলিং করা সেই রাস্তা ভেঙে এবড়ো-থেবড়ো হওয়ার কারনে স্বাভাবিক চলাচল করা যায় না। সামান্য বৃষ্টি হলে গোটা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তত দুই সেট পোশাক নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। রাস্তার দুরাবস্থার কারনে তাদেরই অনেক সহপাঠী বর্ষাকালে স্কুলে আসতে চায় না বলেও দাবি ক্ষুদে অনেক শিক্ষার্থীর।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মরাগাং গ্রামের হোসাইনের ভাষ্য, আমাদের রাস্তা অনেক রারাপ, আমাদের আসিত গে বই-টই ভিজে যায়। আমাদের আসতি অনেক কষ্ট হয়’। খাদিজা আক্তার জানায়, ‘আমি প্রথম ওয়ানে পড়ি, স্কুলে আসতে গেলি আমার জামা-কাপড় কাঁদাতে ভিজে যায়’। প্রায় একই কথা বলে তুলসী মন্ডলের মেয়ে হিয়া, নুর হোসেনের ছেলে জাহিদসহ আরও কয়েক শিশু।

বিদ্যালয়ে আসতে ছোট ছোট শিশুরা রীতিমত সংগ্রাম করছে- উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমেষ কুমার মৃধা জানান রাস্তা এত খারাপ যে অভিভাবকরা দুই সেট পোশাকসহ বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে যায়। আবার ছুটি হলে শ্রেণী কক্ষের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে নিয়ে যায়। এসব ধকল সামলাতে না পেরে কোন কোন পরিবার শিশুদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছে না।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান বিদ্যালয়ের এক পাশে পায় তিন কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। যার জন্য ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে মারাত্মক কষ্ট সহ্য করছে। স্কুলে আসার পথে রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যকার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রত্যন্ত জনপদ হওয়ার দরুন সুন্দরবন পাঁড়ের এই মরাগাং স্কুলের যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নতি ঘটছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, মারাগং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা টানা তিনবার জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতায় সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের জন্য কিছু পুরস্কার বিদ্যালয়ে পৌছে দিতে যেয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে চিত্র দেখছেন, তাতে রীতিমত হতবাক। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য ১৬৫ নং পুর্ব মরাগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা সর্বশেষ চারবার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে দু’বার(২০২৪ ও ২০২৬) সালে জাতীয় পর্যায়ের প্রথম রাউন্ডে পৌছায়। এছাড়া বিদ্যালয়টি গত ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পুরস্কার স্বরুপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল খেলোয়াড়কে ক্রেষ্ট ছাড়াও স্কুল ব্যাগ এবং ফুটবল উপহার হিসেবে দেযা হয়। এসময় অন্যান্যের ম্েযধ উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিন আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল মনির, সাাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল প্রমুখ।

 

 

পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সংবাদদাতা: পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর ৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২ টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তার কন্যা সাবিনা খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইন ভার্চ্যুয়ালে বক্তব্য রাখেন মরহুম আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর পুত্র অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মোমিনুর হোসেন খান চৌধুরী।

 

এসময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি চালু করার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীমুর রহমান, সহকারী শিক্ষক হেমনাথ সরকার, সুরাইয়া পারভীন, প্রিয়াঙ্কা রানী, মোঃ আফতাবুজ্জামান, প্রাক্তন ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আনোয়ারুল হাসান প্রমুখ।

 

আলোচনা সভা শেষে মরহুম আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খাদিজাতুল কোবরা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওনা মুফতি হাবিবুল্লাহ হাবিবী। আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক ইসরাইল আলম।