মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তীব্র গরমের মাঝে এক পশলা বৃষ্টি: সাতক্ষীরায় স্বস্তির পরশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
তীব্র গরমের মাঝে এক পশলা বৃষ্টি: সাতক্ষীরায় স্বস্তির পরশ

এসএম শহীদুল ইসলাম: টানা কয়েকদিনের তীব্র দাহদাহ আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরার মানুষের জীবন। কাঠফাটা রোদ আর বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যে জনজীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। অবশেষে প্রকৃতি যেন তার কোল উজাড় করে দিল। সোমবার বিকেলে আকস্মিক মেঘের ঘনঘটা আর তারপরেই নামল বহুল প্রতীক্ষিত এক পশলা বৃষ্টি। ধূলিমলিন শহর আর তপ্ত প্রকৃতি মুহূর্তেই রূপ নিল এক স্নিগ্ধ, শান্ত অবয়বে।

গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছিল। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট হয়ে পড়ছিল জনমানবহীন। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষÑভ্যানচালক, দিনমজুর আর পথচারীরা। এ যেন ছিল এক অনন্ত চাতকের অপেক্ষাÑকবে আসবে মেঘ, কবে নামবে বৃষ্টি।

সোমবার বিকেল নামতেই আকাশের কোণে জমতে শুরু করে কালচে মেঘের ভেলা। এরপরই শুরু হয় ঝিরঝিরে হাওয়া। চারদিকের তপ্ত বাতাস নিমেষেই শীতল হয়ে ওঠে। তারপরই সন্ধ্যায় নামে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি না হলেও, প্রায় আধা ঘণ্টার এই মাঝারি বৃষ্টিপাত পুরো সাতক্ষীরা শহর ও তার আশপাশের অঞ্চলে এনে দিয়েছে এক পরম স্বস্তি।

সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা ঐরাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান বাবুল, সাইফুল ইসলাম, ইয়াসীন আরাফাত বাবু,আফরোজা সুলতানাসহ অনেকেই বলেন, ”ঘর থেকে বের হতেই পারছিলাম না কয়েকদিন ধরে। এসি চালিয়েও যেন শান্তি ছিল না। এই বৃষ্টিটা যেন প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। বুক ভরে একটু ঠান্ডা বাতাস নেওয়া যাচ্ছে এখন।”

বৃষ্টির পর সাতক্ষীরা শহরের চেনা রূপটাই যেন বদলে গেছে। শহরের পার্ক ও বাড়ির ছাদবাগানের গাছগুলোর পাতা থেকে ধুলোবালি ধুয়ে গিয়ে বের হয়ে এসেছে চকমকে সবুজ রঙ। প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

 

অনেকদিন পর শুকনো মাটিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সেই চিরচেনা সোঁদা মাটির সুবাস, যা যান্ত্রিক শহরের মানুষকেও কিছুটা নস্টালজিক করে তুলেছে। বৃষ্টি নামতেই চিরন্তন বাঙালি স্বভাবের মতো শহরের গলিগুলোতে মেতে উঠেছিল শিশুরা। বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ যেন সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির পর আবহাওয়া শীতল হতেই শহরের মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে স্বস্তির আড্ডায় মেতে ওঠেন সব বয়সী মানুষ।

এই বৃষ্টি কেবল শহরের মানুষের মনেই স্বস্তি আনেনি, এনেছে প্রান্তিক কৃষকদের মুখেও। চলতি মৌসুমের ফসলের জন্য এই এক পশলা বৃষ্টি অত্যন্ত উপকারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। পাট এবং শাকসবজির ফলন ভালো রাখতে এই বৃষ্টি দারুণ ভূমিকা রাখবে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান সহকারী জুলফিকার আলী রিপন জানান, সোমবার দুপুরে জেলার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির পর রাত ৯টায় সেই তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এর আগে রাত ৮টার দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। জেলায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি আরও জানান, জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যায়।

তীব্র গরমের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতির এই হঠাৎ উপহারে সাতক্ষীরার মানুষের মুখে এখন একটাই কথাÑ”বাঁচলাম!” মেঘ কেটে গিয়ে আবার হয়তো রোদ উঠবে, কিন্তু এই এক পশলা বৃষ্টি নাগরিক জীবনে যে প্রশান্তি আর স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিয়ে গেল, তা সত্যিই অনন্য।

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি বিশাল আকৃতির গরু-‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার ও দৃষ্টিনন্দন গড়নে ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এই গরুটি।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার কোমরপুর খামারবাড়িতে লালন-পালন করা হয়েছে ‘লাল বাহাদুর’ নামের এই গরুটি। কয়েক বছর ধরে যতœ আর বিশেষ খাবারে বড় করা হয়েছে তাকে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় কোমরপুর এলাকায় গড়ে তোলা হয় এই খামারটি। যেখানে ৪টি পরিবারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। খামারে কর্মরত এসব ব্যক্তিরা গরু দেখভাল করে তাদের পরিবার নির্বাহ করে আসছেন কয়েকবছর ধরে।

খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানালেন, প্রাকৃতিক খাবার ও যতেœই বড় করা হয়েছে এই খামারের সকলগরু। এখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর খাবার বা কোন কিছু ব্যবহার করা হয়নি। খড়, খাস, গমের ভূসি, ভুট্টা খাওয়ানো হয় এই খামারের গরুকে। ফলে এসব গরু দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মত।

খামারে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক কর্মচারী জানালেন, এখানে ২শ টি গরুর জন্য খামার তৈরী করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি কুরবানির জন্য বিক্রি উপযোগী গরু রয়েছে। যার মধ্য আকর্ষণীয় লাল বাহাদুর। যার দাম ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২/৩ লাখ টাকার মধ্যে দাম চাওয়া হচ্ছে বাকি গরুর।

এদিকে, কুরবানির ঈদ ঘিরে বিশাল আকৃতি আর আকর্ষণীয় গড়নের কারণে ‘লাল বাহাদুর’ এখন সাতক্ষীরার কুরবানির বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দাম নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এর ক্রেতা-সেদিকেই নজর সবার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এফ.এম. মান্নান কবীর বলছেন, জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কুরবানির বাজারে বড় গরু নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ। ‘লাল বাহাদুর’ কত দামে বিক্রি হয়-এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

শ্যামনগরে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক চিংড়ি ঘেরে হামলা চালিয়ে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। সোমবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভৈরবনগর পল্লীতে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো মেহেরুন্নেছা বেগম (৪০), মরিয়ম বিবি (৪৫), পারভীন আক্তার (২৪), খাদিজা আক্তার (২৬), গোলাম বারী (৫২), মনিরুল ইসলাম (৪৪), রবিউল ইসলাম (৩০) ও আলমগীর হোসেন (৩৩)।

চিংড়িঘেরের মাছ লুটে বাঁধা পেয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনারুল এবং তার ভাই সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মনিরুল ইসলামের ভাষ্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিগত সরকারের সময়ে তাদের স্বত্ত্ব দখলীয় জমি আনারুলের পরিবার দখল করে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর আনারুলসহ তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে গেলে নিজেদের ফিরে পাওয়া সে জমিতে তারা চিংড়ি চাষ করে।

 

সম্প্রতি আনারুল ও তার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এলাকায় ফিরে উক্ত চিংড়িঘের দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল।
মনিরুল জানায়, সোমবার রাতে আনারুল, সিরাজুল ও শাহিনের নেতৃত্বে আজিজুল, রাশিদুল, আলামিন, দেলওয়ার, ইদ্রিস, সিরাজুল, মাজেদ, ময়নুদ্দীন, আব্দুল্লাহ, সাইদুলসহ ২২/২৩ জন তাদের চিংড়িঘেরে হামলা চালিয়ে মাছ লুটের চেষ্টা করে। এসময় ঘের পাহারার দায়িত্বে থাকা গোলাম বারী ও রবিউল বাঁধা দিতে গেলে তাদের দু’জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্যরা এগিয়ে এলে হামলায় জড়িতরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তাদেরও রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে গ্রামবাসীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি পৌছে দেয়।

অভিযুক্ত আনারুল জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষ তাদের অনুকুলে রেকর্ড হওয়া উক্ত জমি দখল করে নিয়ে মাছ ছাড়ে। নিজেদের মালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে যেয়ে বাঁধার মুখে পড়লে দু’পক্ষ সংঘর্ষ হয়। নিজেরা শরীরে জখম তৈরী করে মনিরুল ও তার লোকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলেও তার দাবি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছিল। এঘটনায় আহত মনিরুল সোমবার রাতে থানায় এজাহার জমা দিয়েছে। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ব্যবসায়ী ও স্বত্বাধিকারীদের নিয়ে সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ব্যবসায়ী ও স্বত্বাধিকারীদের নিয়ে সভা

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের দক্ষতাবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘দক্ষতা প্রশিক্ষণ পরিষেবা প্রদানকারীদের’ সাথে এক অ্যাডভোকেসি (সুপারিশ) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে আশাশুনি ‘পাথেয় ট্রেনিং সেন্টারে’ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’ এই সভার আয়োজন করে। নেদারল্যান্ডসের ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে এবং ‘সেন্টার ফর ডিজেবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট’ (সিডিডি)-এর সহযোগিতায় ‘ম্যাপিং সিবিআর’ প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা জানান, প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৯০০ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর রয়েছে। এদের পরিবার বা সমাজের বোঝা না ভেবে ন্যূনতম কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে আইডিয়াল। প্রকল্পের ইউসুফ আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মো. সাইজুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন।