বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

২০২০ সালের মে মাস। পৃথিবী তখন এক অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দী, শহর থমথমে, হাসপাতালগুলো উদ্বেগে ভারী। ঠিক সেই সময় বঙ্গোপসাগরের গভীরে জন্ম নেয় আরেক আতঙ্কÑঘূর্ণিঝড় আম্পান। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এটি পরিণত হয় এক সুপার সাইক্লোনে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছিলেন, উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি সামনে কতটা ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।

 

২০২০ সালের ২০ মে সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবন ঘেঁষে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে আম্পান। ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া, প্রবল জলোচ্ছ্বাস আর মুষলধারে বৃষ্টি মিলে মুহূর্তেই পুরো উপকূলকে এক অচেনা ভূখ-ে পরিণত করে। কয়েক ঘণ্টার সেই তা-ব কেড়ে নেয় বহু মানুষের জীবন, ধ্বংস করে লাখো মানুষের স্বপ্ন, আর রেখে যায় লবণাক্ত পানির দীর্ঘশ্বাস। আজও সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট কিংবা শ্যামনগরের অনেক মানুষ আম্পানের কথা বলতে গিয়ে থেমে যান।

 

কারও চোখে জল আসে, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কারণ, আম্পান শুধু একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল না; এটি ছিল উপকূলবাসীর বেঁচে থাকার সংগ্রামে এক নির্মম অধ্যায়। উপকূলের মানুষ ঝড়ের ভাষা বুঝতে শেখে ছোটবেলা থেকেই। আকাশের রঙ বদলে গেলে, বাতাসের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে কিংবা নদীর পানি ফুলে উঠলে তারা আঁচ করতে পারেÑবিপদ আসছে। আম্পানের আগেও তেমন লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। করোনার কারণে মানুষের মধ্যে ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তা।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি, আবার ঘরে থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক বৃদ্ধ জেলে পরে বলেছিলেন, “করোনার ভয় ছিল, কিন্তু ঝড়ের ভয় তার চেয়েও বড় ছিল। কারণ করোনা ধীরে মারে, ঝড় এক রাতেই সব নিয়ে যায়। ”সরকারি উদ্যোগে লাখো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপকূলের অনেক মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘর ছাড়তে চাননি। কারণ তাদের ভয় ছিল অন্য জায়গায়Ñঘর ফেলে গেলে যদি সব চুরি হয়ে যায়? গবাদিপশু কে দেখবে? মাছের ঘের ভেসে গেলে কী হবে? এই দ্বিধা উপকূলের মানুষের চিরন্তন বাস্তবতা। ২০ মে বিকেলের পর থেকেই আবহাওয়া ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

 

আকাশ কালো হয়ে যায়, বাতাসের শব্দ ধীরে ধীরে গর্জনে রূপ নেয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রকৃতির উন্মত্ততা। প্রথমে টিনের চাল উড়তে থাকে। তারপর একের পর এক গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের খুঁটি মাটিতে লুটিয়ে যায়। নদীর পানি ফুলে উঠে বাঁধের গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেক এলাকায় মানুষ ঘরের ভেতরে বসে শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কয়রা কিংবা দাকোপের বহু মানুষ পরে জানিয়েছেন, সেদিন বাতাসের শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়ছে।

 

কাঁচা ঘরগুলো যেন কাগজের তৈরি খেলনার মতো উড়ে যাচ্ছিল। অনেক পরিবার শেষ মুহূর্তে ঘরের চাল ধরে বসে ছিল। কেউ সন্তানকে বুকে চেপে রেখেছিল, কেউ বৃদ্ধ মাকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল। জলোচ্ছ্বাসের পানি যখন ঘরে ঢুকতে শুরু করল, তখন আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে মানুষ বুঝতেই পারছিল না কোথায় রাস্তা, কোথায় নদী। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই গ্রাম পরিণত হয় নদীতে। কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নেয়, কেউ স্কুলের ছাদে উঠে প্রাণ বাঁচায়।

 

আম্পানের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হয়েছিল ঝড় থেমে যাওয়ার পর। কারণ দুর্যোগের পর মানুষ দেখলÑতাদের চারপাশে শুধু লবণাক্ত পানি আর ধ্বংসস্তূপ। উপকূলের কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। মাছের ঘের ভেসে যায়। পুকুরের মিঠাপানি নষ্ট হয়ে যায়। অনেক এলাকায় মাসের পর মাস বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল। একজন কৃষক বলেছিলেন, “ঘর ভাঙার কষ্ট একরকম, কিন্তু জমি মরে যাওয়ার কষ্ট আরও বড়। কারণ জমিই ছিল আমাদের বাঁচার ভরসা।”

 

উপকূলের বহু পরিবার দিনমজুরি, কৃষিকাজ কিংবা মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। আম্পানের পর তারা একসঙ্গে সব হারায়। কাজ নেই, ঘর নেই, খাবার নেই। অনেকে রাস্তার পাশে কিংবা বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকতে বাধ্য হয়।সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নারীকে দূর থেকে পানি এনে রান্না করতে হয়েছে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগেছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।দুর্যোগের পর মানুষ শুধু খাবারের জন্য নয়, নিরাপদ পানির জন্যও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে।

 

উপকূলের মানুষের কাছে তখন এক বোতল মিঠাপানি ছিল সোনার চেয়েও মূল্যবান। প্রতিটি দুর্যোগের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑদারিদ্র্য মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসহায় করে তোলে। যাদের পাকা ঘর আছে, সঞ্চয় আছে কিংবা শহরে যাওয়ার সুযোগ আছে, তারা তুলনামূলক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবন দুর্যোগের পর আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একটি ঘূর্ণিঝড় তাদের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তে ধ্বংস করে দেয়। একজন জেলের নৌকা ভেঙে গেলে তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। একজন কৃষকের জমি লবণাক্ত হয়ে গেলে তার পরিবার বছরের পর বছর ক্ষতির মধ্যে থাকে।

 

আম্পানের পর বহু পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ে যায়। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নেয়, কেউ মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়। কিন্তু জীবিকা স্বাভাবিক না হওয়ায় সেই ঋণ শোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলের মানুষের জীবনে দুর্যোগ যেন এক চক্রের মতো। একটি ঝড় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি দুর্যোগ এসে আঘাত করে। ফলে তাদের জীবন থেকে স্থিতিশীলতা শব্দটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আম্পানের ভয়াবহতার মধ্যে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা ছিল সুন্দরবন।

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি আবারও প্রমাণ করেছে, প্রকৃতি কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হয়ে ওঠে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন না থাকলে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বনাঞ্চলের ঘন গাছপালা ঝড়ের গতি কমিয়েছে, জলোচ্ছ্বাসের শক্তি শোষণ করেছে এবং উপকূলের বহু এলাকা সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করেছে। উপকূলের মানুষও এই সত্য জানে। তারা বলে, “সুন্দরবন আছে বলেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।”কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআমরা কি সেই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পেরেছি?

 

বছরের পর বছর বন উজাড়, নদী দূষণ, অবৈধ দখল, কয়লাভিত্তিক শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ততা বাড়ছে, নদী ভরাট হচ্ছে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে।যে বন আমাদের জীবন বাঁচায়, সেই বনকেই আমরা প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছি। এটি শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়; এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোর শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের প্রভাব এসে পড়ছে বাংলাদেশের উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবনে। একজন কৃষক, যিনি হয়তো জীবনে কোনোদিন গাড়িতে চড়েননি, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছেন। তার জমি লবণাক্ত হচ্ছে, ঘর ভেঙে যাচ্ছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সব দুর্বলতার মধ্যেও বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ।

 

আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের কারণে প্রাণহানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এখন তুলনামূলক কম প্রাণহানি হচ্ছে। এটি অবশ্যই বড় অর্জন। তবে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্র পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নেই। দুর্যোগের পর পুনর্বাসন কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দীর্ঘ সময় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকে। উপকূলের মানুষ শুধু ত্রাণ চায় না; তারা টেকসই নিরাপত্তা চায়। তারা এমন ভবিষ্যৎ চায়, যেখানে প্রতিটি ঝড়ে তাদের নতুন করে নিঃস্ব হতে হবে না। সব দুর্যোগের পরও উপকূলের মানুষ হার মানে না। এই মানুষগুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাহসের প্রতীক।

 

ঝড়ের পরদিনই কেউ ভাঙা ঘর মেরামত শুরু করে। কেউ জাল সেলাই করে নদীতে নামে। কেউ লোনা জমিতে আবারও ফসল ফলানোর চেষ্টা করে।তাদের জীবন কষ্টে ভরা, কিন্তু সেই জীবনের ভেতরেই আছে বেঁচে থাকার অসাধারণ শক্তি। সাতক্ষীরার এক নারী বলেছিলেন, “আমরা কাঁদি, আবার ঘুরে দাঁড়াই। কারণ বাঁচতে তো হবেই।” এই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিই উপকূলকে টিকিয়ে রেখেছে। আম্পানের মতো দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হবে। অনেক বাঁধ বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নি¤œমানের কাজ হয়। ফলে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই বাঁধ ভেঙে যায়। দ্বিতীয়ত, সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। তৃতীয়ত, উপকূলের মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু কৃষি বা মাছের ঘেরের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।

 

দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। যারা দূষণ করে, তাদেরই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। আম্পান আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দিয়েছেÑপ্রকৃতিকে জয় করা যায় না। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়নের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই বিপদ ডেকে আনে।নদী দখল, বন উজাড়, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্লাস্টিক দূষণÑসবকিছু মিলিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি। প্রকৃতি একসময় তার প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর সেই প্রতিক্রিয়াই হয়ে ওঠে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাস।

 

সুন্দরবন, নদী ও পরিবেশকে রক্ষা করা এখন শুধু পরিবেশবাদীদের দাবি নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। কারণ, উপকূল ভেঙে গেলে শুধু কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে নাÑক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ। আম্পানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলের অনেক মানুষ এখনও সেই ক্ষত বহন করছে। কোথাও এখনও ভাঙা বাঁধের স্মৃতি, কোথাও লবণাক্ত জমির অভিশাপ, কোথাও হারিয়ে যাওয়া মানুষের কান্না। কিন্তু এই দুর্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।

 

বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থানই টিকে থাকার একমাত্র পথ। আজ যদি আমরা সুন্দরবনকে রক্ষা করি, উপকূলকে শক্তিশালী করি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সচেতন হই, তাহলে ভবিষ্যতের প্রজন্ম হয়তো আরও নিরাপদ বাংলাদেশ পাবে।আর যদি আমরা এখনও উদাসীন থাকি, তাহলে আম্পান শুধু অতীতের একটি ঝড় হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

ডুমুরিয়ায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:১১ পূর্বাহ্ণ
ডুমুরিয়ায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদের লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়ায় জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর এক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলার মালতিয়া ক্লাবে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা, খুচরা বিক্রেতা ও এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষক অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ খুলনার আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সাতক্ষীরার কারিগরি বিক্রয় কর্মকর্তা (টিএসও) রবিউল ইসলাম। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে বিনামূল্যে হাইব্রিড সবজি বীজ ও জৈব বালাইনাশক বিতরণ করা হয়।

 

ইউনিয়ন পর্যায়ে চার প্রতিযোগিতায় প্রথম পাতলা প্রাথমিকে পড়া বেদান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ইউনিয়ন পর্যায়ে চার প্রতিযোগিতায় প্রথম পাতলা প্রাথমিকে পড়া বেদান্ত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকÑ২০২৬ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছে পাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী বেদান্ত বাবু। সে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান কুইজÑসব কটিতেই প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
বুধবার ইন্দুহাঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় চারটি বিষয়ে প্রথম হয়ে অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে বেদান্ত।
বেদান্ত বাবুর এই অসাধারণ সাফল্যে পাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়জুড়ে এখন আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোনালী বসুসহ সহকারী শিক্ষক সরস্বতী বিশ্বাস, শাহানাজ পারভীন, মিনা বালা, অনিমা গাইন ও অনুপ বালা তার এই অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী বেদান্ত বাবুর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইন্দুহাঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল কুমার রায়। এ সময় সহকারী শিক্ষক মিহির পাটারী, রাজীব সিকদার, আরতী বিশ্বাস ও জীবনানন্দ বিশ্বাস উপস্থিত থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বেদান্ত বাবুর বাবা-মা ও শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সাফল্য পেরিয়ে সে যেন সামনের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতেও এই ধারা বজায় রাখতে পারে, সে জন্য তারা সবার আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

দেবহাটায় তুচ্ছ ঘটনায় গৃহবধূকে মারধর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় তুচ্ছ ঘটনায় গৃহবধূকে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট শেখপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর ও কানের দুল ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত ওই গৃহবধূর নাম শামীমা আক্তার। তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল ১১টার দিকে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে টিকেট গ্রামের মফিজুল ইসলামের স্ত্রী আশুরা খাতুনের সঙ্গে শামীমা আক্তারের কথা-কাটাকাটি হয়। সে সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে উভয় পক্ষ বাড়ি ফিরে যায়।
আহত শামীমার স্বামী ও মাদ্রাসা শিক্ষক ফরহাদ গাইন অভিযোগ করে বলেন, “বিকেল পাঁচটার দিকে আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় এলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রহমত শেখের ছেলে সালামত হোসেন (বাবু), তার স্ত্রী খুকুমণি এবং মফিজুলের স্ত্রী আশুরা খাতুনসহ কয়েকজন মিলে শামীমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।”
ফরহাদ গাইন আরও অভিযোগ করেন, “মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা শামীমার দুই কান টেনে ছিঁড়ে স্বর্ণের দুল এবং গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।”
এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, “ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”