বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল ও জনস্্েরাত বাংলাদেশের অন্যতম বড় উৎসবের অংশ। প্রতি বছরই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই চাপে ঢাকা ও এর আশেপাশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের তীব্র চাপ ও যানজট তৈরি হয়।

উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো ফাঁকা হতে থাকে, আর মহাসড়কগুলো পরিণত হয় মানুষের স্্েরাতে। লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পথে ছুটে যায়। ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাস এবং নাড়ির টানে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা।

কিন্তু প্রতি বছর উৎসবের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। আনন্দের এই যাত্রা রূপ নেয় শোকের মিছিলে। অতিরিক্ত গতি, বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণহীন মোটরসাইকেল, ক্লান্ত চালকের ঘুম, অব্যবস্থাপনা ও আইন অমান্য করার প্রবণতা অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নেয়।

নবীনগর-চন্দ্রা, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহনের চাপ থাকে। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপে কিছু কিছু পয়েন্টে ধীরগতি ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সদরঘাটের মতো টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। লঞ্চ ও ফেরিগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কমলাপুর স্টেশনসহ অন্যান্য স্টেশনে যাত্রীদের প্রচন্ড জনস্্েরাত লক্ষ্য করা যায়।

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হলো অতিরিক্ত যাত্রীচাপ। ঈদের আগে কয়েক দিন শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামের বাড়িতে রওনা দেয়। ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, নসিমন-করিমনসহ সব ধরনের যানবাহন একসঙ্গে সড়কে নেমে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনও চলাচল করে। পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় যাত্রী পরিবহনে মালবাহী ট্রাক পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সড়ক, যানবাহন ও চালকের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ এবং লাইসেন্সহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। ওভারস্পিডিং বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে স্পিড গান ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা। চালকদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বন্ধ করে বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখা। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং রোধে মহাসড়কে বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন ও ওভারটেকিং করা কঠোরভাবে বন্ধ করা।

 

মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন আরোহী এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে টার্মিনালগুলোতে কড়া নজরদারি করা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
চালকদের বেপরোয়া মনোভাবও দুর্ঘটনার বড় কারণ। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং প্রবণতা, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা ঈদযাত্রায় ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া কিংবা মহাসড়কে হাঁটার প্রবণতাও দুর্ঘটনা ঘটায়। একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘুমঘুম অবস্থায় চালানো যানবাহন বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।

ঈদযাত্রাকে আনন্দময় করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এড়িয়ে চলা। যানজট এড়াতে ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে রওনা হওয়া উচিত। চরম ভিড়ের মাঝে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখা আবশ্যক।

সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট নিরসনে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত তদারকি বৃদ্ধি করা। টোল প্লাজায় বুথ বাড়িয়ে দ্রুত গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা, যাতে দীর্ঘ যানজট ও চালকদের ক্লান্তি না বাড়ে। মহাসড়কের মোড় বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ও স্ট্যান্ড দ্রুত অপসারণ করা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

মৎস্য ব্যবসায়ী দীপক ম-লের মৃত্যুতে দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
মৎস্য ব্যবসায়ী দীপক ম-লের মৃত্যুতে দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এসকে অভির বড় ভাই এবং স্থানীয় বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী দীপক ম-লের (৬০) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাব।
গত ২৩ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে ধোপাডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাসভবনে উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দীপক ম-লের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডা. অহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবীর হোসেন লিয়নসহ ক্লাবের কার্যনির্বাহী ও সাধারণ সদস্যরা। নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার শান্তি ও পরিবারের ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।

 

ছবি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘের দখল ও হয়রানির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
ছবি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘের দখল ও হয়রানির অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার বকচরা গ্রামে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তোলা ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে মাছের ঘের জবরদখল, হামলা এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে আবতাফুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমজাদ আলী।
লিখিত অভিযোগে আমজাদ আলী উল্লেখ করেন, একই গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। এই বাহিনীর সহযোগিতায় আবতাফুজ্জামান ও তাঁর ভাইয়েরা আমজাদ আলীর ২০ বছরের পুরোনো মাছের ঘের দখলের চেষ্টা চালান। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আমজাদ আলীকে মারধর করা হলে আদালতে একটি নন-জিআর মামলা হয়। সেই ঘটনা আড়াল করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি উল্টো আমজাদ আলীর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ মে আবতাফুজ্জামান দলবল নিয়ে আমজাদ আলীর ১ একর ৯ শতক আয়তনের ঘেরের অংশ বেড়িবাঁধ দিয়ে দখলে নেন এবং মাছ লুট করেন। এরপর গত ৮ জুন রাতে ওই ঘেরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয় এবং উল্টো আমজাদ ও তাঁর ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা (জিআর-২৪০/২৬) দেওয়া হয়। এই জমি দখলের বিষয়ে আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গত ১৬ জুন রাতেও এলাকায় অন্য কয়েকজন বাসিন্দার ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগে থানায় পৃথক তিনটি ডায়েরি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবতাফুজ্জামান দাবি করেন, তিনি ১৭ বছর এলাকায় না থাকার সুযোগে আমজাদ আলী তাঁদের জমি দখল করে রেখেছিলেন, যা তিনি প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। ঘেরে মাছ মারার ঘটনায় তিনি নিজেই মামলা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্য সব অভিযোগ মিথ্যা।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহর আলী ও আলাউদ্দিন জানান, কম্বোডিয়ায় লোক পাঠানো ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্থানীয় শুকুর আলীর সঙ্গে আবতাফুজ্জামানের পূর্ববিরোধ রয়েছে। গত ১৭ জুনের অভিযোগসহ সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে হামলা: আশাশুনিতে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে হামলা: আশাশুনিতে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় এক যুবকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বিজ্ঞ আমলী ৮ নম্বর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার বাদী দক্ষিণ দাদপুর গ্রামের মাকফুর রহমান (৩২)। আরজিতে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় একটি মসজিদের সাবেক ইমামের অনৈতিক কর্মকা- নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি মন্তব্য (কমেন্ট) করেছিলেন। এর জেরে গত ১৯ জুন রাতে আগরদাড়ী গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে আসামিরা দলবদ্ধভাবে লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলায় গুরুতর জখম মাকফুর প্রথমে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মামলায় আফজাল হোসেন, হৃদয়, সাদ্দাম হোসেন, রুস্তম আলী ও বাবুর আলীকে আসামি করা হয়েছে।