শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পাইকগাছায় পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষ বিতারণ ও রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

“গাছ লাগাই- পরিবেশ বাঁচাই” এই প্রতিপাদ্যে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার হিতামপুর গ্রামের সড়কের পাশে গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও ছড়াকার অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম কচি।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান, সপ্তদ্বীপা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধুরি রানী সাধু, সাংবাদিক আহম্মেদ আলী বাঁচা, সমাজ সেবক সুকনাথ পাল, কার্তিক বাছাড় প্রমুখ। হিতামপুর গ্রামীন সড়কে ৩০টা নিম, কদম, পেয়ারা ও হিজল গাছের চারা রোপন করা হয়।

বৃক্ষ আমাদের ছায়া, ফল, কাঠ, আক্সিজেন দেয়, কার্বনডাই অক্সাইড শোষন করে ও সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির উদ্যোগে ভাদ্র মাস পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ বিতারণ ও রোপন কর্মসূচি পালন করা হবে।

Ads small one

তালায় একই দিনে দুই বাল্যবিয়ে বন্ধ, কনের বাবাকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
তালায় একই দিনে দুই বাল্যবিয়ে বন্ধ, কনের বাবাকে জরিমানা

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খলিষখালী ও মাগুরা ইউনিয়নে একই দিনে দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক কনের বাবাকে জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে খলিষখালী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান। আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির দায়ে কনের বাবা আবুল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আবুল হোসেন জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার পাশাপাশি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন। একই সময় বিয়েতে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে মাগুরা ইউনিয়নের চাঁদকাটী গ্রামে অপর একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সেখানে পৌঁছান এবং মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করে বিয়েটি বন্ধ করে দেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলার ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, সাতক্ষীরা জেলা বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাকিবুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কর্মী ও জেন্ডার প্রমোটারসহ বিভিন্ন শিক্ষা কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

 

কাজটা অসামাজিক, তবে অনৈতিক নয়: এমপি গাজী নজরুলকে নিয়ে জামায়াত নেতা খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
কাজটা অসামাজিক, তবে অনৈতিক নয়: এমপি গাজী নজরুলকে নিয়ে জামায়াত নেতা খালেক

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কিত ভিডিও ও বিয়ের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি জানিয়েছেন, অনৈতিকতা বা অসামাজিক কর্মকা-ের প্রশ্নে তাঁর দল কোনো আপস করে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় আলেম-উলামাদের ব্যানারে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, ‘এমপি সাহেবের বড় স্ত্রীসহ সবাইকে নিয়ে বসে আমরা দেখেছি, ওই মেয়েটির আবদার ছিল—সে অন্য কোথাও বিয়ে করবে না, যতদিন বাঁচবে এমপি সাহেবের সেবা করে যাবে। মেয়েটির জোরালো দাবির মুখে তার মা-বাবা বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়িতে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। কাজটা অসামাজিক হয়েছে, তবে অনৈতিক নয়। কিন্তু এই অসামাজিক কাজের জন্যই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁর এমপি পদও বাতিল করা হয়েছে।’

সাধারণ ভুলের সঙ্গে এই ঘটনার পার্থক্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি এক মসজিদের ইমামের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘অন্য একজন ব্যক্তি এই কাজ করলে হয়তো ভুল হিসেবে গণ্য হতো না। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুলের মাত্রা ভিন্ন। ইমাম সাহেবের ভুলের মাত্রা যেমন সাধারণের চেয়ে বেশি, তাঁর ক্ষেত্রেও তা-ই। এ কারণেই তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তাঁর এমপি পদও থাকবে না।’

শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও উপজেলা শূরা সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসান।

 

 

হোমিও সম্্রাট হ্যানিম্যান: এক ক্ষণজন্মা আরোগ্য বিপ্লবী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
হোমিও সম্্রাট হ্যানিম্যান: এক ক্ষণজন্মা আরোগ্য বিপ্লবী

আখলাকুর রহমান

১৮৪৩ সালের ২ জুলাই প্যারিসের এক নিস্তব্ধ সকালে চিরবিদায় নিয়েছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের এক অনন্য দ্রোহী পুরুষ, ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডরিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। তাঁর সেই প্রয়াণ তিথিতে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে এই মহান রতœকে, যাঁর আবিষ্কৃত চিকিৎসাপদ্ধতি আজও বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি মুমূর্ষু প্রাণকে দিচ্ছে আরোগ্যের কোমল পরশ। হ্যানিম্যান কেবল একটি নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থার জনক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন প্রচলিত জরাজীর্ণ প্রথার বিরুদ্ধে এক আপসহীন আলোকমশাল। সংবাদপত্রের পাতায় এই মহামানবের জীবনগাথা তুলে ধরা মানে এক চরম ত্যাগ, ট্রাজেডি এবং সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইকে পুনরুজ্জীবিত করা।

১৭৫৫ সালে জার্মানির মাইসেন শহরের এক দরিদ্র চীনামাটির কারিগরের ঘরে যখন এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্ম হয়, তখন কেউ ভাবেনি অভাবের কৃষ্ণপক্ষে এমন এক চাঁদের উদয় হয়েছে। শৈশব থেকেই তীব্র মেধাবী হ্যানিম্যান দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কষাঘাতে জর্জরিত ছিলেন, এমনকি তেলের অভাবে রাতে আলো জ্বালিয়ে পড়ার সামর্থ্য পর্যন্ত তাঁর ছিল না। তবুও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে কাদা দিয়ে তৈরি প্রদীপ জ্বালিয়ে গভীর রাত অবধি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এই জ্ঞানতপস্বী। বহু ভাষা ও বিজ্ঞানে অগাধ পান্ডিত্য অর্জন করে অবশেষ তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন এবং একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

কিন্তু তৎকালীন প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা ও অবৈজ্ঞানিক রূপ তাঁর সংবেদনশীল মনকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। রোগীকে ভালো করার নামে রক্তমোক্ষণ বা ‘ব্লাড-লেটিং’ এবং পারদের মতো তীব্র বিষাক্ত উপাদানের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখে তিনি শিউরে উঠেছিলেন, যেখানে আরোগ্যের চেয়ে রোগীর কষ্ট ও মৃত্যুই ছিল অবধারিত। বিবেকের দংশনে জর্জরিত হয়ে হ্যানিম্যান একদিন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে নিজের লাভজনক চিকিৎসা পেশা পরিত্যাগ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, মানুষের ক্ষতি করার চেয়ে চিকিৎসা না করাই শ্রেয়। এরপর চরম দারিদ্র্যের মাঝে পরিবার নিয়ে কেবল অনুবাদ ও গবেষণার কাজে নিজেকে সঁপে দেন।
“প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে আছে আরোগ্যের এক মহাসত্য, যা বলপ্রয়োগে নয়, বরং মৃদু ও অহিংস উপায়ে মানুষকে সুস্থ করে তোলে।”- ড. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান
এই ত্যাগের অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথেই একদিন জ্বলে উঠল এক নতুন আলোর জ্যোতি, যা জন্ম দিল হোমিওপ্যাথির। ১৭৯০ সালে স্কটিশ চিকিৎসক উইলিয়াম কালেনের ‘মেটেরিয়া গবফরপধ’ অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি খেয়াল করলেন, সুস্থ শরীরে সিঙ্কোনা গাছের ছাল সেবন করলে তা ম্যালেরিয়ার মতো উপসর্গ তৈরি করে। এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ থেকেই তিনি উপলব্ধি করলেন প্রকৃতির সেই চিরন্তন সত্য— ‘সিমিলিয়া সিমিলিবাস কিউরেন্টার’ অর্থাৎ যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে, অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাত্রায় তা-ই সেই রোগ নিরাময় করতে সক্ষম। নিজের এবং পরিবারের ওপর শত শত পরীক্ষা চালিয়ে তিনি গড়ে তুললেন এক সম্পূর্ণ নতুন চিকিৎসা বিজ্ঞান।

তবে এই নতুন সত্যের প্রতিষ্ঠা মোটেও সহজ ছিল না, বরং হ্যানিম্যানের জীবন ছিল এক মহাকাব্যিক ট্রাজেডি ও সংগ্রামের উপাখ্যান। প্রচলিত ধারার চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতাদের তীব্র রোষাণলে পড়ে তাঁকে বারবার এক শহর থেকে অন্য শহরে যাযাবরের মতো পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। চরম অর্থকষ্টে নিজের সন্তানদের ক্ষুধার্ত মুখ দেখতে হয়েছে, এমনকি উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে তাঁর নিজের সন্তানদের অকালপ্রয়াণ সইতে হয়েছে। জীবনের এই নির্মম ট্রাজেডিগুলো তাঁর বুক ভেঙে দিলেও তাঁর আদর্শকে এক চুলও টলাতে পারেনি।

২জুলাই, সেই মহান সাধকের প্রয়াণ দিবসে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞ বিশ্ব গভীর শ্রদ্ধায় তাঁর দিকে তাকায়। সমস্ত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে হ্যানিম্যান যে সত্যের বীজ বুনেছিলেন, তা আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। আধুনিক যুগে এসেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন, মৃদু ও সামগ্রিক আরোগ্যের আশায় বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী পরম আস্থায় আঁকড়ে ধরে আছে হ্যানিম্যানের সেই অক্ষয় অবদানকে। মৃত্যুর প্রায় দুই শতাব্দী পরেও তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি আরোগ্য লাভ করা রোগীর হাসিতে, প্রতিটি চিকিৎসকের পরম শ্রদ্ধায়। লেখক: উদ্যোক্তা