শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে নীলডুমুরে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে নীলডুমুরে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর এলাকায় রুবেল গং ও মহরম গংয়ের মধ্যে সৃষ্ট মারামারি ও বিরোধ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে মীমাংসা করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে নীলডুমুর এলাকায় রুবেল গং ও মহরম গংয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়।

বিরোধটি যাতে আরও জটিল আকার ধারণ না করে এবং স্থানীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধটি মীমাংসা করা হয়।

মীমাংসা বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ বিরোধ নিষ্পত্তিতে সম্মত হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, বিরোধটি দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে উদ্যোগ নেওয়ায় বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রশংসা করেন তারা।

মীমাংসা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নাজমুল হক, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জিএম রুস্তম আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হবি হেলাল উদ্দিন, ওহিদুজ্জামান, মোল্লা রেজাউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, হোসেন আলী, আব্দুল হাই সরদার, ফাতেমা বেগম, আসাদুজ্জামান, উজ্জ্বলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার এই উদ্যোগের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে এলাকায় এ ধরনের সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

Ads small one

সাতক্ষীরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ১

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মেহেদী হাসান সবুজ (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে মহাসড়কের পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের ওপর মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক জেলার আশাশুনি উপজেলা সদরের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি একমি কোম্পানিতে সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শাহিন বিশ্বাস ও আল আমিনসহ স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে কাজ শেষে কুমিরা থেকে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান। পথে পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের ওপর পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের সামনের চাকার নিচে পিষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে।

এদিকে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের মাধবকাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম সোহান (১৯)। সে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বলাডাঙ্গা মিস্ত্রিপাড়ার মৃত সবুরের ছেলে।

 

আহত জিম একই গ্রামের রওশন আলীর ছোট ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল যোগে মাধবকাটি বাজার এলাকায় মেইন রোডে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। এ সময় তাদেরকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসা অবস্থায় সোহান হোসেন মারা যান। আর আহত জিমকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সদরের ধুলিহর ও আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় ব্যাপক ব্ষয়ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সদরের ধুলিহর ও আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় ব্যাপক ব্ষয়ক্ষতি

জিএম আমিনুল ইসলাম/বিএম আলাউদ্দীন: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে আকস্মিক টর্নেডো ঝড়ে চারটি কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তর বাইনতলা গ্রামে প্রবল বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক এ ঝড়ের ঘটনা ঘটে। এতে চারটি বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ প্রচন্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে টর্নেডোর মতো ঝড়ে উত্তর বাইনতলা গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা ও তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তান্ডবে ঘরের এলবেস্টারের ছাউনি ও বেড়া উড়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে বড়দল ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরে আব্দুল গফুর সানা ও শরিফুল ইসলাম শরীফ নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা।

এদিকে, টর্নেডো ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি জানতে লোক পাঠিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগীপোতা ও শুকদেবপুর গ্রামে গভীর রাতে আকস্মিক টর্নেডোর হানায় একটি মন্দিরসহ একাধিক কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আঘাত হানা এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
টর্নেডোর তা-বে যুগীপোতা গ্রামের উৎপল সরকার, জ্ঞানেশ সরকার, আকলিমা খাতুন এবং শুকদেবপুর গ্রামের একটি মন্দির ও মন্টু বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যক্তির বসতবাড়ি, গোয়ালঘর ও বিচলির গাদা তছনছ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ঘটনায় আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পর ২৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত দুর্ঘটনাকবলিত গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার বিষয়টি শোনেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সহায়তার জন্য দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল, জিএম আমিনুল হক, ইউপি সদস্য তপন কুমার শীলসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতাপনগরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করলেন জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করলেন জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মীরা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের তালতলা বাজার থেকে প্রতাপনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত বেহাল সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অংশ সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে সড়কের খানাখন্দ ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। প্রতাপনগরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রতিদিন বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে সাময়িক সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

সংস্কারকাজে অংশ নেন আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি প্রভাষক শাহজাহান হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা রিয়াসাত আলী, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা অহিদুজ্জামান, শ্রমিক নেতা আলহাজ মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসাইন, ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা বেলাল হোসেন ও তালতলা বাজার কমিটির সভাপতি ডা. খাইরুল ইসলাম। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়কটি দ্রুত সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।