শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্মরণীয় আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
স্মরণীয় আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়

প্রকাশ ঘোষ বিধান

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ভারতের রসায়নশাস্ত্রের জনক। তিনি প্রথম দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তা এবং একজন মহান সমাজসেবক হিসেবে স্মরণীয়। তিনি মার্কিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার এবং উপমহাদেশের প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় মূলত বিজ্ঞান ও শিল্পক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্বজুড়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

তিনি ১৮৬১ সালের ২আগস্ট বর্তমান বাংলাদেশের খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ভুবনমোহিনী দেবী ও স্থানীয় জমিদার হরিশচন্দ্র রায়ের পুত্র। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার এবং বেঙ্গল কেমিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই মহান মনীষী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ছিলেন একাধারে বিশ্বখ্যাত বাঙালি, একজন বিজ্ঞানী, সফল শিক্ষক, ভারতীয় রসায়নশাস্ত্রের জনক, শিল্পোদ্যোক্তা এবং মানবদরদী মহান সমাজসেবক। তিনি পি. সি. রায় নামেও পরিচিত।

অধ্যাপনাকালে তার প্রিয় বিষয় রসায়ন নিয়ে তিনি নিত্য নতুন অনেক গবেষণাও চালিয়ে যান। ১৮৯৬ সালে প্রফুল্ল চন্দ্র রায় রসায়ন বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন। তিনি ল্যাবরেটরিতে সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত অস্থায়ী একটি যৌগ মার্কিউরাস নাইট্রাইট (ঐমঘঙ₂) তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। তার স্মরণীয় কালজয়ী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। এই আবিষ্কারের ফলে তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতি তৈরি হয় এবং বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করে। এ ছাড়া তিনি ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন। তার মোট গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৪৫ টি।

তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে ভারতীয়দের চিকিৎসায় শতভাগ বিদেশি আমদানিকৃত ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হতো। বাঙালিদের ব্যবসায় অনাগ্রহ ও হীনম্মন্যতা পর্যবেক্ষণে ১৮৯২ সালে ৭০০ টাকা বিনিয়োগে ও নিজ উদ্যোগে, নিজস্ব গবেষণাগার থেকেই বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীকালে ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে তা কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। তখন এর নতুন নাম রাখা হয় বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড। এটি ছিল সমগ্র ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক ওষুধ ও রাসায়নিক প্রস্তুতকারক কারখানা, যা ভারতীয়দের শিল্পায়নের পথ দেখায় এবং আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত করে।

সমবায়ের পুরোধা স্যার পিসি রায় ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে নিজ জন্মভূমিতে একটি কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি খুলনা টেক্সটাইল মিলও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী পি সি রায় পিতার নামে আর,কে,বি,কে হরিশ্চন্দ্র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বাগেরহাট জেলায় ১৯১৮ সালে তিনি পি.সি কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। যা আজ বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে বিশাল ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষাবিদ ও আচার্য রূপে তার অবদান, কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং পরে বিজ্ঞান কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি একদল বিশ্বমানের বিজ্ঞানী তৈরি করেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে ভারতের প্রথম আধুনিক রসায়ন গবেষণা স্কুল। বিশ্বখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, এবং জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা সরাসরি তাঁর ছাত্র ছিলেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর এই পরম স্নেহ ও শিক্ষাদানের অনন্য গুণের কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে আচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
ইতিহাস ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগতিনি কেবল ল্যাবরেটরিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং ভারতের প্রাচীন বিজ্ঞানচর্চার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। তাঁর দীর্ঘ গবেষণার ফসল এ হিস্ট্রি অব হিন্দু কেমিস্ট্রি গ্রন্থটি প্রাচীন ভারতের রসায়ন চর্চার এক প্রামাণ্য দলিল।

মানবতাবাদ ও আত্মত্যাগআচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। তার নাস্তার দাম তৎকালীন ১ টাকার বেশি হলে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠতেন। নিজের জন্য তিনি মাসিক ৪০ টাকা রাখতেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি নিজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা দান করেন। তাঁর উপার্জনের সিংহভাগই তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের তহবিল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে অকাতরে দান করে দিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেখা যায়, বেঙ্গল কেমিক্যালে তাঁর নিজের কোনো শেয়ার ছিল না, যার সুফল ভোগ করেছিল অনাথ ও বিধবারা।

রসায়ন বিজ্ঞানের বৈশ্বিক অগ্রগতি এবং ভারতের আত্মনির্ভরশীলতার ভিত্তি গড়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটেনের রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি তাঁকে ইউরোপের বাইরে প্রথম কেমিক্যাল ল্যান্ডমার্ক প্লেক দিয়ে সম্মানিত করে। তাঁকে ভারতীয় রসায়নশাস্ত্রের জনক এবং মাস্টার অব নাইট্রেড বলা হয়।

শিক্ষকতার জন্য তিনি সাধারণ্যে আচার্য হিসেবে আখ্যায়িত। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে তৃতীয়বারের মত তিনি ইংল্যান্ড যান এবং সেখান থেকেই সি আই ই লাভ করেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এই ডিগ্রি দেয়। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ সরকারের থেকে নাইট উপাধি লাভ করেন। এছাড়া ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীকালে মহীশুর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি ডক্টরেট পান।

বাঙালি রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা পি সি রায় আজীবন অবিবাহিত বা চিরকুমার ছিলেন। তিনি তাঁর উপার্জিত অর্থের সিংহভাগই মানুষের সেবায় বিলিয়ে দেন। দুর্ভিক্ষ, বন্যা বা মহামারীর সময় তিনি নিজে তহবিল গঠন করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি একটি সাধারণ কামরায় অত্যন্ত সাদাসিধেভাবে কাটিয়েছেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন তিনি পরলোকগমন করেন। তবে বাঙালি বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই অনন্য ত্যাগের জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়কে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

আশাশুনিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকল্যাণ সংস্থার কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকল্যাণ সংস্থার কমিটি গঠন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে অসরপ্রাপ্ত সেনা কল্যাণ সংস্থা আশাশুনি উপজেলা শাখা কমিটি পুনঃগঠন করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বুধহাটা বাজারস্থ আছাফুর জিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় এ কমিটি (আংশিক) গঠন করা হয়। কর্পোরাল (অবঃ) শেখ আছাফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা রাখেন, সিনিঃ ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) আনিছুর রহমান, সিনিঃ ওয়ারেন্ট অফিসার (অব) নওরোজ,
জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুছা, সহ সভাপতি ওয়ারেন্ট অফিসার আনিছুর রহমান, ওয়ারেন্ট অফিসার মতিয়ার রহমান, ওয়ারেন্ট অফিসার নওরোজ ভুট্ট, ওয়ারেন্ট অফিসার আমিন প্রমুখ। সভায় উপজেলার প্রায় ৮০ জন অবঃ আর্মি, নেভী, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যদের কন্ঠভোটে কর্পোরাল (অবঃ) শেখ আছাফুর রহমানকে সভাপতি, সার্জেন্ট (অবঃ) আঃ হান্নানকে সাধারণ সম্পাদক ও কর্পোরাল (অবঃ) ইউনুছ আলীকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য পরবর্তীতে নির্বাচিত করা হবে। আগামী দুই বছরের জন্য এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধনে তালায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধনে তালায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালায় “জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সপ্তাহব্যাপী প্রচারণাসহ পুরো আগস্ট মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ইপিআই টেকনিশিয়ান শেখ সাহিদুর রহমান রিপন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ফায়সাল সরদার, তালা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এস. এম. নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. আজিজুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত ইনস্পেক্টর ইনচার্জ লিলিমা পারভিন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মফিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত স্যানিটারি ইনস্পেক্টর মো. খাইরুল ইসলাম, নার্সিং সুপারভাইজার খুদেজা পারভীন, নার্স ইনচার্জ মাহমুদা খানম এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ইনচার্জ এস. এম. জাহাঙ্গীর আলম।
বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করাতে হবে এবং জীবনের প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হয় এবং অপুষ্টির ঝুঁকি কমে।
বক্তারা আরও বলেন, মায়ের বুকের দুধ পান করানোর ফলে মায়ের স্তন ক্যান্সার ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে, প্রসব-পরবর্তী সুস্থতা দ্রুত ফিরে আসে এবং মা ও শিশুর মধ্যে গভীর মানসিক বন্ধন তৈরি হয়। তাই চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ছয় মাস বয়সের আগে শিশুকে বাজারজাত গুঁড়া দুধ বা বুকের দুধের বিকল্প খাবার দেওয়া উচিত নয়। ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত সম্পূরক শিশুখাদ্য ও এর ব্যবহার-সংক্রান্ত সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী মাতৃদুগ্ধের বিকল্প পণ্যের প্রচার-প্রচারণা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোন ডাক্তার নার্স বাজারের দুধের প্রেসক্রিপশন করলে ছয় মাসের কারাদ-ের বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে তালা উপজেলায় সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম, মা ও অভিভাবকদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা, হাসপাতাল ও কমিউনিটি পর্যায়ে পরামর্শ প্রদান এবং পুরো আগস্ট মাসজুড়ে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন, ২০১৩’ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

কলারোয়ায় লাঙ্গলঝাড়ার সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলীর ইন্তেকাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় লাঙ্গলঝাড়ার সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলীর ইন্তেকাল

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী (৬১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল আটটায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ‘কলারোয়া পদ্ম পার্কের’ স্বত্বাধিকারী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত, ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল নাঈম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং একমাত্র কন্যা মৌসুমী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

শনিবার আসরের প্রার্থনার পর কলারোয়া সরকারি কলেজ মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজের পর নিজ গ্রাম উপজেলার রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মরহুমের ছোট ভাই ও বেগম খালেদা জিয়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক।