কালিগঞ্জে গাঁজাসহ ক্রেতা ও বিক্রেতা আটক
Oplus_16908288
Oplus_16908288
প্রকাশ ঘোষ বিধান
একটি দেশের জনসংখ্যা সেই দেশের জন্য একই সাথে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ হতে পারে। জনসংখ্যার পরিমাণ, গুণগত মান এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এটি নির্ধারিত হয়। কোনো দেশের জনসংখ্যা একটি দ্বিমুখী বিষয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের অভাবে এটি যেমন মারাত্মক সমস্যা হতে পারে, তেমনি উপযুক্ত শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে এটি বিশাল সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে।
জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করাই হলো মূল চাবিকাঠি। যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও শ্রমশক্তি হিসেবে সম্পদ হয়ে ওঠে। তবে এই রূপান্তর করা সম্ভব না হলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবেশের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে সমস্যায় পরিণত হয়।
প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্বের জনসংখ্যা ৫০০ কোটি অতিক্রম করায় অনুপ্রাণিত হয়ে, ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে। ১১ জুলাই পরিবার পরিকল্পনা, দারিদ্র্য, লিঙ্গসমতা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নতুন বছরের প্রথম দিনে বিশ্ব জনসংখ্যা ৮০৯ কোটিতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে জনশুমারি ও গৃহগণনার ২০২২-এর ভিত্তিতে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার। যেখানে নারী ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার এবং পুরুষ ৮ কোটি ৪২ লাখ। ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত এবং এর চীন।
অধিক জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য একই সাথে বড় সমস্যা এবং সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল সম্পদ হতে পারে। একে অর্থনীতিতে জনমিতিক লভ্যাংশ বা দ্বিমুখী তলোয়ার বলা হয়। জনসংখ্যা তখনই সম্পদে পরিণত হয় যখন তাকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়। অপরপক্ষে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা যদি দেশের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তখন তা উন্নয়নের অন্তরায় বা সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।
জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে তা যেকোনো দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। তবে অপরিকল্পিত বৃদ্ধি ও সীমিত সম্পদের কারণে অতিরিক্ত মানুষ যখন মৌলিক চাহিদার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন তা সমস্যা বা বোঝায় পরিণত হয়।
দেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। বিশাল জনসংখ্যা নিজেরা যেমন বড় ভোক্তা, তেমনি সস্তা শ্রম হিসেবে শিল্প ও কৃষি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আয় করা সম্ভব।
কর্মক্ষম তরুণ ও যুবসমাজের আধিক্য একটি দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়। বিপুল জনসংখ্যা কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে সস্তা ও পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির জোগান দেয়। বিশাল জনগোষ্ঠী যেকোনো পণ্য ও সেবার বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করে, যা উদ্যোক্তা ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। অতিরিক্ত শ্রমশক্তিকে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠায়। তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়, যা সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে পারে। বিপুল জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা খাতের ওপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মানুষের বাসস্থানের জন্য কৃষিজমি নষ্ট হয় ও বনভূমি উজাড় হয়, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, ও পরিবেশ দূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেয়।
জনসংখ্যা নিজে কোনো সমস্যা নয়। অদক্ষ ও অশিক্ষিত জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় সমস্যা। পক্ষান্তরে, সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকেই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হলে শুধু শিক্ষিত নয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। নতুন শিল্পায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি করা। একটি দেশকে এই বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝা বা সমস্যা হিসেবে না দেখে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে মানসম্মত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবেই জনসংখ্যা পূর্ণাঙ্গ জনশক্তিতে রূপান্তর সম্ভব। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ের ঘটনাই ঘটেছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে এক পর্যায়ে ম্যাচটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশের বিপক্ষে স্মরণীয় এক সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
২৪৮ রানের লক্ষ্যে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের ৪৯ বলে প্রয়োজন ছিল ৪১ রান। হাতে ৫ উইকেট। তারপরই ঘটে নাটকীয় ধস। মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ ব্যাটার হিসেবে ১৪ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি। ৪৮.১ ওভারে এনগারাভার বলে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন। তাতে ২৩৪ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা।
অথচ এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২০৭। তখন বাংলাদেশকে দিশা দেখাচ্ছিলেন নুরুল হাসান (৩৮)। সঙ্গে ছিলেন মিরাজ। নুরুল হাসান আউট হতেই ছন্দ হারায় ইনিংস। ভাঙে মিরাজ-নুরুলের ৩১ রানের জুটি। তার পর একে একে ফেরেন রিশাদ হোসেন (৮), তাসকিন আহমেদ (০), শরিফুল ইসলাম (৬) ও সর্বশেষ মিরাজ (২৭)। ২৭ রানে পড়েছে শেষ ৫ উইকেট!
তার আগে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গাতেই ছিল। তানজিদ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের ফিফটিতে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ১২২ রান। তানজিদ ৫৭ রানে ফিরলে ভাঙে ৮৪ রানের জুটি। তার পর কিছুদূর এগিয়ে তাওহীদ হৃদয় ৬০ রানে ফিরলে তখন হাল ধরেন নুরুল হাসান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধস হারের কারণ হয়েছে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা। দুটি করে নেন ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স। একটি করে নেন সিকান্দার রাজা, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধেভেরে।
এরআগে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে শুরুতে ফিল্ডিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিকরা।
বল হাতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এদিনও জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছিল ৬৬ রানে তুলে নেয় ৪ উইকেট। তার পর অবশ্য জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর দায়িত্ব নেন বেন কারান। অপরাজিত সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
বাংলাদেশ ১৪৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট তুলে নিলেও তার পর আর জিম্বাবুয়েকে বিপদে ফেলতে পারেনি। সিকান্দার রাজা ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করেছিলেন। পঞ্চম উইকেটে কারানের সঙ্গে যোগ করেন ৬৮ রান। রাজার বিদায়ের পর মাদান্দে-কারানের জুটিটা বড় হয়নি। তার পরই সপ্তম উইকেটে মূল প্রতিরোধটা গড়েন বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্স।
ইনিংসের শেষভাগে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তারা। মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়েকে শক্ত ভিত এনে দেন ইভান্স। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কা! আর ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে দিশা পেতে মূল অবদান রাখেন কারান। ১৩৫ বলে ৯ চারে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাদের ব্যাটিংয়েই শেষ দিকে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। সপ্তম উইকেটে তাদের ৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ৬ উইকেটে ২৪৭ রান পায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে ৫৭ রানে দুটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। ৩২ রানে দুটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে নিয়েছেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।
মানুষের রাগ একটা জটিল ও ক্ষতিকর বিষয়। কেননা রাগ থেকে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি বা কলহ। আর কলহ থেকে যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, সুখী দম্পতিদের চেয়ে অসুখী দম্পতিদের ক্ষত বা ঘা নিরাময় হতে দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া এ ধরনের অসুখী দম্পতিদের বিষাদগ্রস্ততা, উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
অনিয়ন্ত্রিত রাগের সময় কর্টিসল হরমোন ক্ষরিত হয়, কর্টিসল (Cortisol) হল অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি প্রধান স্টেরয়েড হরমোন, যা “স্ট্রেস হরমোন” নামে পরিচিত। এটি শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মানসিক বা শারীরিক চাপের সময় এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শরীরকে সামাল দিতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ সময় ধরে রেগে থাকলে এই হরমোন শরীরকে অবিরত ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থায় রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে অকার্যকর করে দেয়। সুতরাং রাগে কলহ আর কলহ থেকে শারিরীক ও মানসিক ক্ষতি অনিবার্য!
ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, অসুখী দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ তাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, দাম্পত্য কলহ থেকে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় তা রক্তে প্রোটিনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেয়। অসুখী দম্পতিদের জন্য এটি দুঃসংবাদ বটে।
জেনে নিন রাগের সময় শরীরে কি ঘটে
আমরা যখনই রেগে যাই বা কোন মানসিক বা শারীরিক চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়, মস্তিষ্ক কিডনির ওপরে অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে সঙ্কেত পাঠায় ফলে, গ্রন্থি থেকে দ্রুত কর্টিসল হরমোন রক্তে নিঃসৃত হয়।
কর্টিসল যকৃতে প্রোটিন এবং চর্বি ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এর ফলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস পায়।
আবার কর্টিসল ইনসুলিনের কার্যকারিতার বাধা দেয়, যাতে পেশি বা চর্বি গ্লুকোজ ব্যবহার না করে এবং মস্তিষ্ক তা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারে। (কর্টিসল কোষের ইনসুলিন রিসেপ্টর এবং পরবর্তী সংকেত প্রদান ব্যবস্থা নষ্ট করে, ফলে ইনসুলিন থাকলেও কোশ গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে না, সাময়িক ডায়াবেটিসের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়)
রাগ হজম প্রক্রিয়ার ওপরেও খারাপ প্রভাব ফেলে,যাকে বলে “অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা গাট হেল্থ ব্যাহত হয় (Gut Health)”, এটা কেবল হজম প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নয়, বরং এটি আমাদের মানসিক অবস্থা, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
কর্টিসলের উচ্চমাত্রা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ, কারণ অতিরিক্ত কর্টিসল অন্ত্রের কোশগুলোর মধ্যেকার সূক্ষ্ম সংযোগ বা ‘টাইট জাংশন’ গুলোকে দুর্বল করে দেয়, এরফলে অন্ত্রের প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়লে টক্সিন, ক্ষতিকর জীবাণু সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যায়, যা শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে।
অন্যদিকে আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ‘মাইক্রোবায়োম’ নামে পরিচিত, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস এবং রাগ এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, স্ট্রেসের কারণে উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।
আবার রাগের সঙ্গে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ মানসিক উত্তেজনা বা রাগ মস্তিষ্কের মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে সংকেত পাঠিয়ে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে এবং খাদ্যনালীর পেশী শিথিল করে রিফ্লাক্স বা অম্বল বাড়িয়ে দেয়। রাগের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ (Stress) শরীরের সংবেদনশীলতা বাড়ায়, ফলে সামান্য অ্যাসিডেও তীব্র বুকজ্বালা অনুভূত হয় এবং খাবার হজমে দেরি হয়, যা রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়।
(সায়েন্স ম্যাগাজিন)