শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াছিন আলী গাজী (পিতা: মৃত মনছুর আলী গাজী) দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর পায়ের সমস্যায় ভুগছেন। অসহায় এই ব্যক্তির উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জানা গেছে, বহুকাল আগে একটি দুর্ঘটনায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলেও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পায়ে মোট চারটি রিং বসানোর পরামর্শ দেন। ইতোমধ্যে একটি রিং বসাতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে আরও তিনটি রিং বসানো এবং পরবর্তী চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন।

কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কর্মক্ষম না থাকায় তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা চরম সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তার পরিবারের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় তিনি সমাজের হৃদয়বান, দানশীল ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নিকট আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। সময়মতো সহযোগিতা পেলে তার উন্নত চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

যোগাযোগ ও সহায়তা প্রদান: ইয়াছিন আলী গাজী মোবাইল: ০১৭২৪-৮৬৮৮৬৭ (বিকাশ)
সাংবাদিক: রিয়াজুল ইসলাম: ০১৯১৬৪৮৯৯৭৮ প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

পাইকগাছায় নার্সারীতে গুটি কলম তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় নার্সারীতে গুটি কলম তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিক

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছার নার্সারী গুলিতে গুটি কলম তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে মালিক ও শ্রমিকরা। গুটি কলম তৈরীর উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। সাধারণত বৈশাখ-আষাঢ় গুটি কলম তৈরীর উপযুক্ত সময়। বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়া ও মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় এই সময়ে কলমের ডালে খুব দ্রুত ও সফলভাবে শিকড় গজায়।

মাতৃগুণ বজায় রাখা, দ্রুত ফলন, রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ানো এবং অধিক ফলন পেতে গুটিকলম ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ মাতৃগাছে গুণাগুন সমৃদ্ধ চারা করার জন্য গুটিকলম জনপ্রিয়। কাগজি লেবু, পেয়ারা, লিচু, জলপাই, ডালিম, করম চা, গোলাপ জামসহ বিভিন্ন গাছে গুটি কলম করা হয়।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিত নার্সারী গড়ে উঠেছে। যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে গদাইপুর গ্রামে। বর্ষা মৌসুম শুরুতে চারা তৈরীর জন্য নার্সারী মালিক ও কর্মচারীরা গুটিকলম তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে। যে গাছের ডালে গুটি করা হবে সে ডালের বয়স কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ২ বছর হতে হবে। গুটি কলম তৈরী করতে গাছের ডালের দুই ইঞ্চি মত ছাল পুরাটা গোল করে কেঁটে ফেলে জৈব সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে কাঁটা অংশ ভাল করে বেঁধে গুটি করতে হবে। মাটির গুটি সবসময় ভিজা রাখতে হবে। মাটিতে পলিথিন দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। ১ মাসের মধ্যেই মাটির ভিতর থেকে শিকড় বেড় হয়।

হিতামপুর গ্রামে অবস্থিত রজনীগন্ধা নার্সারীর মালিক সুকনাথ পাল জানান, এ বছর তার নার্সারীতে ২৫ হাজার গুটি কলমের চারা তৈরী করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মিস্টি জলপাই, মাল্টা, পেয়ারা ও লিচু।

গদাইপুর নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার জানান, তার নার্সারীতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪৫ হাজার গুটি কলম তৈরী করছেন। শ্রমিকের অভাবে কলম তৈরী করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কলম তৈরীর সময় পার হয়ে গেলে এ মৌসুমের আর গুটি কলম তৈরী করা যাবে না। সে কারনে কলম তৈরীতে অধিক পয়সা খরচ হচ্ছে। এছাড়া শামসুল, আক্তার, রওশনারা, মিজানুর, নাসির, নজরুল, বিল্লালসহ বিভিন্ন নার্সারি মালিক গুটি কলম তৈরি করছেন।

গদাইপুর গ্রামের গুটি কলমের অভিজ্ঞ কারিগর হামিদ মোড়ল জানান, প্রতিটি গুটি দুই টাকা দরে তৈরী করছি। গোপালপুর গ্রামের গুটি কলমের অভিজ্ঞ কারিগর মোক্তার ও সালাম বলেন, লেবু গুটি ২টাকা ও অন্য জাতের গুটি কলম ১ টাকা ৭০ পয়সা দরে তৈরী করছি।

পাইকগাছা উপজেলা নার্সারী মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার পাল জানান, কলম তৈরীর শ্রমিক ঠিকমত না পাওয়ায় কারণে উচ্চ মূল্যে শ্রমিক নিয়ে কলম তৈরী করতে হচ্ছে। গদাইপুর এলাকার তৈরী কলম বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। তবে ঠিকমত বাজার দর না পাওয়ায় নার্সারী মালিকরা আশানারুপ ব্যবসা করতে পারছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পাইকগাছার নার্সারী শিল্প খুলনা জেলার শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। নার্সারীতে উৎপাদিত চারা সবুজ বননায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে তেমনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বাংলাদেশের পর্যটনের মহাপরিকল্পনা: আজকের উদ্যোগ, আগামীর বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটনের মহাপরিকল্পনা: আজকের উদ্যোগ, আগামীর বাংলাদেশ

মো. মামুন হাসান

একটি দেশের অর্থনীতি শুধু শিল্প, কৃষি কিংবা রপ্তানির ওপর নির্ভর করে না। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় পর্যটন এমন একটি খাত, যা একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করে এবং একটি দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত পর্যটন উন্নয়নের পরিবর্তে এখন একটি সমন্বিত জাতীয় মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক দশকের পর্যটন উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এটি শুধু একটি পরিকল্পনা নয়, বরং বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত রোডম্যাপ।

সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে পর্যটনের অবদান ছয় থেকে সাত শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কেবল নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করলেই হবে না; প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কার্যকর বিপণন।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবদান নির্ণয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব ছিল। তথ্য ছাড়া নীতিনির্ধারণ কখনোই কার্যকর হতে পারে না। তাই পর্যটনের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনার অন্যতম শক্তি হলো দেশের এক হাজার চারশো আটানব্বইটি পর্যটন আকর্ষণকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা। এতদিন দেশের পর্যটন উন্নয়ন অনেকাংশে কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন পরিকল্পনা সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে অঞ্চলভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে।

পর্যটন সম্পদকে তিপ্পান্নটি ক্লাস্টারে ভাগ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদর্শী। কারণ প্রতিটি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। একই নীতিতে সব অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ক্লাস্টারভিত্তিক পরিকল্পনা স্থানীয় সম্পদকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং অঞ্চলভিত্তিক পর্যটন অর্থনীতির বিকাশ ঘটাবে।

তবে এই মহাপরিকল্পনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়ন।পর্যটন এমন একটি খাত, যেখানে একক কোনো মন্ত্রণালয় সফল হতে পারে না। সড়ক, রেল, নৌপরিবহন, বিমান, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ, বন, প্রতœতত্ত্ব, সংস্কৃতি, আইনশৃঙ্খলা এবং তথ্য প্রযুক্তিসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। অতীতে সমন্বয়ের অভাবই বহু সম্ভাবনাময় প্রকল্পকে কাঙ্খিত সফলতা থেকে বঞ্চিত করেছে। তাই এই মহাপরিকল্পনার সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিশ্বমানের পর্যটন অবকাঠামো এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা কেবল কক্সবাজারকেই নয়, সমগ্র দক্ষিণ উপকূলীয় অর্থনীতিকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট, খুলনা এবং অন্যান্য অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা ড়ে তোলার উদ্যোগ দেশের পর্যটনকে বহুকেন্দ্রিক করে তুলবে। এর ফলে কক্সবাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

এই পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন।বিশ্বের কোনো পর্যটন শিল্পই দক্ষ জনবল ছাড়া সফল হয়নি। আধুনিক পর্যটন শিল্পে শুধু হোটেল নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ ফ্রন্ট অফিস কর্মী, শেফ, হাউসকিপিং বিশেষজ্ঞ, ট্যুর গাইড, পর্যটন উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ। জাতীয় হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক বিনিয়োগ।

এক্ষেত্রে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। পর্যটন শিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক করতে পারলে দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও আগামী দিনের পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি হতে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল ট্যুর, স্মার্ট ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার, অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল গাইডিং সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যটন সেবা বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে পারে। ভবিষ্যতের পর্যটক প্রথমে ইন্টারনেটে ভ্রমণ করেন, পরে বাস্তবে গন্তব্যে পৌঁছান। তাই ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিনিয়োগ।

তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীর বহু পর্যটন গন্তব্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের ফলে তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পার্বত্য অঞ্চল, হাওর, নদী এবং উপকূলীয় পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ইকো ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম এবং জলবায়ু সহনশীল পর্যটন উন্নয়নকে এই মহাপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।

স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো পর্যটন উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে সফল হয় না। বরং স্থানীয় মানুষকে উদ্যোক্তা, গাইড, হোমস্টে পরিচালনাকারী, কারুশিল্প উৎপাদক এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপক হিসেবে যুক্ত করতে পারলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতিতে পৌঁছে যাবে।

বাংলাদেশের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের পর্যটন বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভ্রমণ এবং টেকসই পর্যটনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশের নদী, বন, সমুদ্র, পাহাড়, লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন এবং আতিথেয়তার ঐতিহ্য এই পরিবর্তিত বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
তবে মহাপরিকল্পনা সফল হবে তখনই, যখন এটি কেবল একটি সরকারি নথি হয়ে থাকবে না; বরং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবে রূপ পাবে।

আজ যে মহাপরিকল্পনার সূচনা হয়েছে, সেটি যদি ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং সমন্বয়ের সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আগামী দুই দশকে পর্যটন শুধু বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাতই থাকবে না; এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, ব্যাপক কর্মসংস্থানের উৎস, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের শক্তিশালী মাধ্যম এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নতুন পরিচয়ের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: মো. মামুন হাসান,ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

বিশ্ব জুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্রমাগত ঝুঁকিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্ব জুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্রমাগত ঝুঁকিতে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বিশ্বজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের ভূমি অধিকার হরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, ভাষার বিলুপ্তি, প্রান্তিকীকরণ এবং সাংস্কৃতিক বিলুপ্তির মতো মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। আধুনিকায়নের চাপে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক পরিচয় দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী আধুনিক উন্নয়ন ও বন ধ্বংসের ফলে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ও অস্তিত্ব আজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬.২ শতাংশ আদিবাসী। বিশ্বের ৯০টি দেশে প্রায় ৫০ কোটি আদিবাসী বসবাস করলেও তারা ক্রমাগত তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৩ সালকে জাতিসংঘ প্রথমবার বিশ্বে আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করে। পরের বছর ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতি বছর ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯৪ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো আদিবাসী দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বের সব আদিবাসীর অধিকার, শত বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী বলতে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা ভূখন্ডে উপনিবেশ স্থাপন বা অন্য কোনো অঞ্চলের মানুষের অভিবাসনের পূর্বে যারা প্রথাগতভাবে সেখানে বসবাস করে আসছে, তাদের বংশধরদের বোঝায়। এরা সাধারণত নিজস্ব সংস্কৃতি, সামাজিক নিয়ম, ভাষা এবং ঐতিহ্যের অধিকারী হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীবাংলাদেশ এবং প্রাচীন বাংলার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন সমৃদ্ধ আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া যায়। ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এদের প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন পাহাড় ও সমতাল। পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি, লুসাই এবং চাক। সমতল অঞ্চলের আদিবাসীরা সাঁওতাল, গারো, খাসিয়া, মুন্ডা, ওরাওঁ, হাজং, রাজবংশী, কোচ, কোল এবং ডালু।

বাংলাদেশে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, মণিপুরি, ম্রো, তঞ্চঙ্গা প্রভৃতি ১৪ জনগোষ্ঠী প্রাচীনকাল থেকেই আদিবাসী হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আদিবাসী শব্দকে বিলুপ্ত করে ৫০টি জাতিগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্প্রতি গেজেট প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ৫০ জাতের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছেন। তারা হলো চাকমা,ওরাঁও, কোচ, কোল, খাসিয়া বা খাসি, খিয়ং, খুমি, গারো, চাক, ডালু, তঞ্চঙ্গা, ত্রিপুরা, পাংখোয়া বা পাংখো, বর্মণ, বম, মণিপুরী, মারমা, পাহাড়ি বা মালপাহাড়ি, মুন্ডা, ম্রো, রাখাইন, লুসাই, সাঁওতাল, হাজং, মাহাতো বা কুর্মি মাহাতো বা বেদিয়া মাহাতো, কন্দ, কড়া, গঞ্জু, গড়াইত, গুর্খা, তেলী, তুরি, পাত্র, বাগদী, বানাই, বড়াইক বা বাড়াইক, বেদিয়া, ভূমিজ ভূইমালী, ডিল, মালো বা ঘাসিমালো, মাহালী, মুসহর, রাজোয়াড়, লোহার, শবর, হুদি, হো, খারিয়া বা খাড়িয়া এবং খারওয়ার বা খেড়োয়ার। এসব নৃগোষ্ঠী বা আদিবাসী লোকজনের অধিকাংশই পাহাড়ে ও সামান্য কিছু সমতলে নানা বঞ্চনা ও হয়রানির শিকার হয়ে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে। তবে সংবিধানে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দগুলো পরিবর্তন করে সরাসরি আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি এখনও জোরালো।

জল, জঙ্গল আর পাহাড়ের সাথে তাদের জীবন ও অর্থনীতি নিবিড়ভাবে জড়িত। অধিকাংশ সম্প্রদায়েরই নিজস্ব মৌখিক বা লিখিত মাতৃভাষা রয়েছে। বিজু, সাংগ্রাই, ওয়ানগালা, সোহরাই ইত্যাদি তাদের নিজস্ব প্রধান উৎসব। নিজস্ব সমাজ পরিচালনা ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথাগত রাজা বা হেডম্যান ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে। বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহভূমির অধিকার সংকট, প্রথাগত জমির মালিকানা হারানো এবং উচ্ছেদ হওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সমস্যা। নিজস্ব ভাষার লিখিত রূপের অভাব এবং চর্চা কমে যাওয়ায় অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো; বহুজাতিক কর্পোরেশন ও প্রভাবশালী মহলের কারণে আদিবাসীরা তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারাচ্ছে। অনেক দেশে আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের কোনো আইনি দলিল বা স্বীকৃতি নেই। আধুনিকতার চাপ এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষা ও মৌখিক ঐতিহ্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। মূলধারার সংস্কৃতির আধিপত্যের কারণে তরুণ আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও আলাস্কার মতো অঞ্চলের উপকূলীয় ক্ষয় আদিবাসীদের বাস্তুচ্যুত করছে। আমাজনের দাবানল ও নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে আদিবাসীরা তাদের জীবন ধারণের মূল উৎস হারাচ্ছে। শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে তারা চরমভাবে বঞ্চিত। বিশ্বজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে।

এই বৈশ্বিক সংকটগুলোর সমাধানে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। বিশ্ব জুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের জমি ও সম্পদ নিয়ে হুমকি, তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণতার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তারা সাংস্কৃতিক বিলুপ্তি, প্রান্তিকীকরণ ও বর্জনের ক্রমাগত ঝুঁকিতে থাকে। বিশ্বজুড়ে আদিবাসী দিবসের আলোচনা ও বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে তাদের সুরক্ষার বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট