বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি পরিষেবায় অভিগম্যতা বিষয়ক পরামর্শ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
তালায় দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি পরিষেবায় অভিগম্যতা বিষয়ক পরামর্শ সভা

তালা প্রতিনিধি: নাগরিক পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা বৃদ্ধি ও বৈষম্য লাঘবের লক্ষ্যে তালা উপজেলায় একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ কক্ষে এনজিও ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘মানবাধিকার সুরক্ষা ও সহায়তার মাধ্যমে দলিত ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও বিদ্যমান বৈষম্য লাঘব’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলিত নেত্রী সোমা সরকার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।
নাগরিক উদ্যোগের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর জুয়েল সরকারের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুরজামান ও তালা সদর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, নাগরিক উদ্যোগের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর পলাশ হালদার, বিডিইআরএম-এর জেলা সভাপতি দিলিপ দাস, সমন্বয়কারী জয়ন্তী রানী মন্ডল, স্থানীয় দলিত নেত্রী স্বরসতী দাস ও সুমিত্র সরকার।
সভায় সরকারি পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় জোরদার করা, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী সরকারি কবরস্থান নির্মাণ, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা এবং দলিত অধ্যুষিত এলাকায় ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।

Ads small one

ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে এবার স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ১৯০ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত সভায় নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কত হলো স্বর্ণের দাম

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৮ হাজার ৮৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১৬ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৩ হাজার ২৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৮১ টাকা। এর সঙ্গে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা। সে হিসাবে এক ভরিতে দাম বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ২১৪ টাকা।

তবে এর আগের কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ২৮ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারও আগে ২৬ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৯৭০ টাকা।

ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে স্বর্ণের বাজারে একাধিকবার দাম পরিবর্তন করেছে বাজুস।

রুপার দামও বাড়লো

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলংকারের দামও বাড়িয়েছে বাজুস।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ছিল ৩৫৫ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা।

আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে বিক্রয়মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে।

পুরোনো স্বর্ণের অলংকার বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত এ দাম কার্যকর থাকবে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বর্ণের দাম কয়েক দফা পরিবর্তন করেছে বাজুস। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

কোটিপতি আমানতকারী বাড়লেও কমেছে তাদের জমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
কোটিপতি আমানতকারী বাড়লেও কমেছে তাদের জমা

ব্যাংক খাতে পরিবারভিত্তিক আমানতকারীর সংখ্যা বাড়লেও কোটিপতি আমানতকারীদের জমার পরিমাণ কমেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন— এই তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ জন। তবে একই সময়ে তাদের ব্যাংকে রাখা আমানতের পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

অপরদিকে ক্ষুদ্র ও লাখপতি আমানতকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণও। তিন মাসে এই শ্রেণির আমানতকারী বেড়েছেন ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ জন। তাদের ব্যাংক আমানত বেড়েছে ৩১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবারভিত্তিক আমানতসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কোটিপতি বেড়েছে, টাকা কমেছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিলেন ৪০ হাজার ৬৪৫ জন। তাদের ব্যাংক আমানতের স্থিতি ছিল ৯১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

জুনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০১ জনে। অর্থাৎ তিন মাসে সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ জন। কিন্তু এ সময় তাদের আমানতের স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমানত কমেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

এদিকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে— এমন গ্রাহকের সংখ্যাও এক বছরে কমেছে। গত বছরের জুনে এ ধরনের আমানতকারী ছিলেন ২৬ জন। তাদের মোট আমানত ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। একই সঙ্গে তাদের আমানতের পরিমাণও কমে হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

ছোট সঞ্চয়কারীদের আমানত বেড়েছে

কোটিপতি আমানতকারীদের বিপরীতে ছোট ও লাখপতি সঞ্চয়কারীদের ব্যাংকমুখী প্রবণতা বেড়েছে। মার্চে পরিবারভিত্তিক ক্ষুদ্র ও লাখপতি আমানতকারী ছিলেন ১৭ কোটি ১০ লাখ ১৮ হাজার ৩১০ জন। তাদের মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১১ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

জুনে এই শ্রেণির আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯ জন। তাদের আমানতের স্থিতি বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ক্ষুদ্র ও লাখপতি আমানতকারী বেড়েছেন ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ জন। একই সময়ে তাদের আমানত বেড়েছে ৩১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

পরিবারভিত্তিক আমানত বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, মার্চে পরিবারভিত্তিক আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ ৫৯ হাজার। তাদের মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

জুনে পরিবারভিত্তিক আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার। তাদের মোট আমানতের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ তিন মাসে পরিবারভিত্তিক আমানত বেড়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে আমানতকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সব মিলিয়ে জুনে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন— তিন মাসে আমানত বেড়েছে প্রায় আড়াই শতাংশ।

কেন কমছে বড় আমানতকারীদের টাকা

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় আমানতকারীদের একটি অংশ এখন ব্যাংকে টাকা রাখার পরিবর্তে অন্য খাতে বিনিয়োগ করছেন। বিশেষ করে সরকারি ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রবণতা রয়েছে। কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্য খাতেও সরিয়ে নিচ্ছেন।

এ কারণে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা সামান্য বাড়লেও তাদের মোট আমানতের পরিমাণ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে ক্ষুদ্র ও লাখপতি আমানতকারীদের বড় অংশের কাছে ব্যাংক এখনও সঞ্চয়ের প্রধান মাধ্যম। ফলে এই শ্রেণির গ্রাহকদের আমানত বাড়ছে।

আমানতের চিত্রে বদল

ব্যাংক খাতের আমানতের চিত্রে এ পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পরিবারভিত্তিক আমানতের অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে ক্ষুদ্র ও লাখপতি সঞ্চয়কারীদের হাতে। কোটিপতি আমানতকারীদের মোট আমানতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

এর বাইরে ব্যাংকগুলোতে করপোরেট খাতের আমানতও রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা।

ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে আমানত বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসছে ছোট ও মাঝারি সঞ্চয়কারীদের কাছ থেকে। বিপরীতে বড় আমানতকারীদের একটি অংশ ব্যাংকের বাইরে বিভিন্ন বিনিয়োগমাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় তাদের আমানতের স্থিতি কমেছে।

সম্পাদকীয়/প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট: অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট: অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি

একটি জাতির উন্নতির মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শৈশবের এই পাঠশালাতেই শিশুর মেধা, চরিত্র ও ভবিষ্যতের সঠিক বুনিয়াদ গড়ে ওঠে। অথচ দেশের প্রান্তিক জেলা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পতিত হয়েছে। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উপজেলাটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পাশাপাশি শিক্ষকদের বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে, যা স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিকে মারাত্মকভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। বাধ্য হয়ে সহকারী শিক্ষকদেরকে দিয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে স্কুলের প্রশাসনিক দায়িত্ব চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে ৫৮টি পদ শূন্য থাকায় সব মিলিয়ে শিক্ষক পদ খালি রয়েছে ১৫৬টি। শুধু ক্লাসরুমেই নয়, সংকট উপজেলা শিক্ষা অফিসেও। ৬ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিপরীতে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাত্র ৪ জন, আর ৫টি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে চালকের ভূমিকায় রয়েছেন মাত্র দু’জন কর্মচারী।
এই চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যখন একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন গাদা গাদা দাপ্তরিক ফাইলপত্র ও প্রশাসনিক ঝামেলা সামলাতে হয়, তখন শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকের অভাবে যথাযথ ক্লাস হচ্ছে না, অন্যদিকে বাড়তি চাপে শিক্ষকেরাও পাঠদানে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছেন। পরিণতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক মেধা বিকাশ।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদের তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি আশ্বাসও পাওয়া গেছে। আমরা এই আশ্বাসকে স্বাগত জানাই, তবে একই সাথে মনে করিয়ে দিতে চাই যেÑশুধু সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েই এই সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে স্থায়ী নিয়োগ না দিলে বিদ্যালয় পরিচালনার অচলাবস্থা কাটবে না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে চলতে দেওয়া যায় না। প্রাথমিক শিক্ষার সংকট দূর করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক জনবল পূরণ করে পরিদর্শনের কাজ বেগবান করা আবশ্যক। কালিগঞ্জের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিলম্ব না করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেনÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।