শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

পাকিস্তানের পর নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানের পর নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক

স্পোর্টস ডেস্ক: মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে। অনূর্ধ-২৩ বয়সীদের আসরে গ্র্যান্ড ফাইনালে নেপালের সাবেক ওয়ার্ল্ড জুনিয়র ১ নম্বর শাটলার প্রিন্স দাহাল ও ক্রিস্তিজ কাহালকে ২১–১৫ / ১৮–২১ / ২১–১৪ পয়েন্ট তথা ২–১ সেটের ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দলে খেলেছেন সিফাত উল্লাহ গালিব ও নাজমুল ইসলাম জয়। এর আগে সেমিফাইনালে পাকিস্তান ও কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার শাটলারদের হারায় তারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে ভুটানের কাছে ওয়াকওভার পায় গালিব-জয় জুটি।

গালিব পদক জিতে বলেছেন, ‘আমরা ভালো খেলে স্বর্ণপদক জিতেছি। সামনেও সাফল্য পেতে চাই।’

বাংলাদেশ দলে কোচ হিসেবে ছিলেন সাবেক চ্যাম্পিয়ন মোস্তফা জাবেদ।

Ads small one

দেশ ঘুরলেই দেশ গড়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
দেশ ঘুরলেই দেশ গড়ে

মো. মামুন হাসান

ঈদের ছুটি এলেই দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে যাওয়া মানুষের ছবি। অনেকের কাছে এখন বিদেশ ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই প্রবণতার ভেতরে একটি বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। আমরা কি অজান্তেই নিজের দেশের পর্যটন খাতকে দুর্বল করে দিচ্ছি?

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনোদনমূলক ভ্রমণের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা, শিক্ষা বা ব্যবসায়িক কারণে ভ্রমণ স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু অবকাশ যাপনের জন্য যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দেশের ভেতরেই ব্যয় হলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা এবং হাজারো তরুণ উদ্যোক্তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারত।

বিশ্বের বহু দেশ পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে গড়ে তুলেছে। অনেক দেশ তাদের আয়ের বড় অংশ পর্যটন থেকে অর্জন করে। বাংলাদেশও চাইলে এই খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিনের প্রবাল দ্বীপ, সাজেকের পাহাড়ি সৌন্দর্য, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সবুজ, রাত্রির জলাবন রাটারগুল, কুয়াকাটার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নিদর্শন, লালবাগ কেল্লার ইতিহাস, বিছানাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের পর্যটনকে অনন্য করে তুলেছে।

এছাড়া বাংলাদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, বৈসাবি, বাউল গান, লোকনৃত্য, গ্রামীণ মেলা, জামদানি বয়নশিল্প, নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প এবং চা বাগানের জীবনধারা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কোনো ভিসা বা বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন নেই। অল্প সময় ও কম খরচে দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব।

তবুও মানুষ বিদেশমুখী হচ্ছে। কারণ তারা শুধু সৌন্দর্য নয়, নিরাপত্তা, পরিষ্কার পরিবেশ, সেবার মান এবং স্বচ্ছ খরচ চায়। অনেক পর্যটন এলাকায় ছুটির সময়ে হোটেল ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা থাকে না, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যকেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিত সহকারীর অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশে পর্যটন খাত এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। প্রতিটি পর্যটন এলাকাকে উন্নত করতে প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামো, মানসম্মত সেবা, নিরাপদ পরিবহন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা।

উৎসবভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ, দুর্গাপূজা, নববর্ষ ও শীতকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করা গেলে মধ্যবিত্ত পরিবার সহজেই দেশ ভ্রমণে আগ্রহী হবে। ট্রেন, বাস, আবাসন ও খাবার একত্রে যুক্ত করে সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসফর আরও কার্যকর করা দরকার। শিক্ষার্থীরা যদি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সরাসরি দেখার সুযোগ পায়, তাহলে দেশ সম্পর্কে তাদের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

পর্যটন শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত। একজন পর্যটক যখন কোনো এলাকায় অর্থ ব্যয় করেন, তখন তা স্থানীয় মানুষের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। বিদেশ ভ্রমণ খারাপ নয়, কিন্তু নিজের দেশকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিজের দেশ না জেনে শুধু বিদেশমুখী হওয়া আত্মপরিচয়ের দুর্বলতা তৈরি করে।

বাংলাদেশ ছোট দেশ নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ। এখানে নদী আছে, পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, বন আছে, ইতিহাস আছে, সংস্কৃতি আছে এবং মানুষের আতিথেয়তা আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিজের দেশকে নতুনভাবে দেখার মানসিকতা।

বছরে অন্তত একবার দেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, স্থানীয় মানুষের আয় বাড়বে এবং পর্যটন খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নিজের দেশকে জানা, দেখা এবং অনুভব করাই দেশপ্রেমের অন্যতম সুন্দর প্রকাশ।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

ষোড়শীকে ধর্ষণের পর ধারণকৃত ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে, গ্রেপ্তার হয়নি আসামী হদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
ষোড়শীকে ধর্ষণের পর ধারণকৃত ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে, গ্রেপ্তার হয়নি আসামী হদয়

পত্রদূত রিপোর্ট: মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির ষোড়শী কন্যাকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামী হৃদয় ঘোষকে গত তিন মাসেও গ্রেপ্তার কররা যায়নি। তবে র‌্যাব এর হাতে গ্রেপ্তারকৃত দেবাশীষ ম-লের আজো জামিন মেলেনি। আসামী হৃদয় ঘোষ সাতক্ষীরা সদরের কুলতিয়া গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের বুধহাটা ইউনিয়নের একটি গ্রামের ষোড়শী এক নারীকে (বর্তমানে কলেজ পড়–য়া) বেশ কিছুদিন আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সূযোগে ধর্ষণ করে কুলতিয়া গ্রামের দেবাশীষ ম-ল। ধর্ষণে বাধা দেওয়া ওই ষোড়শীকে উপর্যুপরি কামড়ে জখম করা হয়। ধারণ করা হয় ধর্ষণের ভিডিও চিত্র। ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরে বেশ কয়েকবার ওই মেয়েকে ধর্ষণ করে দেবাশীষ। দেবাশীষের সহযোগী ছিলো একই গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে কলেজ ছাত্র হৃদয় ঘোষ ও মাদকসেবী হাবিব।

 

বিষয়টি ওই ষোড়শী তার বাবা ও মাকে জানানোর পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে ওই ষোড়শীর মা বাদি হয়ে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১)/১০ ধারা তৎসহ ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)(২)(৩) এবং পেনাল কোডের ৩৪১/৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় দেবাশীষ ও হৃদয় এর নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব সদস্যরা গঙ্গারামপুর মাসিমার বাড়ি থেকে দেবাশীষকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ঐ রাতেই (বুধবার রাত ১০টা ৪১ মিনিটে) হৃদয় ঘোষ আবারো ওই ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ২৯ জানুয়ারি দেবাশীষ ম-ল সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম তনিমা ম-লের কাছে নিজের ও হৃদয়ের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

মামলার বাদির অভিযোগ, দোবশীষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হৃদয়ের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে তার কৈফিয়ৎ চান জগবন্ধু ঘোষ। বিষয়টি বার বার তদন্তকারি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও তিনি হৃদয়কে ধরার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে গত তিন মাসে হৃদয় ঘোষ রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাঝে মাঝে বাড়িতেও আসছে বলে জানতে পেরেছেন তিনি। একপর্যায়ে সম্প্রতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনকে কালিগঞ্জ থানায় বদলী করা হয়। পরবর্তী তদন্তকারি কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

মামলার বাদি আরো আভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ এপ্রিল তার ও ভিকটিমের উপস্থিতিতে দেবাশীষ ম-লের জামিন শুনানী হয় দায়রা জজ আদালতে। বাদির কাঠগোড়া থেকে নেমে তিনি ও ভিকটিম আসামীর কাঠগোড়ার সামনে দিয়ে আসার সময় ভিকটিমকে জামিনের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বর্তমান তদন্তকারি কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি যে কোন সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আসামী হৃদয়কে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেবেন।

 

আশাশুনিতে সোনালি ধানের মাঠে ব্যস্ততা, তবু দুশ্চিন্তায় কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে সোনালি ধানের মাঠে ব্যস্ততা, তবু দুশ্চিন্তায় কৃষক

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরা-আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদে এখন বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম। ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষক-কৃষাণিরা। কাস্তের টুংটাং শব্দ, ধান মাড়াইয়ের ঘূর্ণি আর শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর চারপাশ। কোথাও মাথায় করে, কোথাও ভ্যানে, আবার কোথাও ট্রলি করে যাচ্ছে সোনালি ফসল-মাঠ থেকে ঘর পর্যন্ত এখন একটিই দৃশ্য, ব্যস্ততার।

 

এবারের মৌসুমে বোরো ধানের ফলন তুলনামূলক ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে প্রথমদিকে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন, ভালো ফলন মানেই সংসারে স্বস্তি ফিরবে, ঋণের বোঝা কমবে। কিন্তু ধান ঘরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই আশায় ভাটা পড়েছে। মাঠপর্যায়ে ধানের দামের অস্থিরতা আর ফড়িয়া-সিন্ডিকেটের প্রভাব এখন কৃষকের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বাজারে যেখানে শুকনো ধানের দাম তুলনামূলক বেশি, সেখানে মাঠ থেকেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক এবং শ্রমিক মিলিয়ে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে গড়ে ৮৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে। অথচ অনেক কৃষককে ১১০০/১২০০ টাকার মধ্যেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

 

ফলে ভালো ফলনের পরও অনেক কৃষকের মুখে হাসি নেই, বরং বাড়ছে চাপা উদ্বেগ। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক ঋণ পরিশোধ ও নগদ টাকার প্রয়োজনে ধান ঘরে না তুলে সরাসরি মাঠেই বিক্রি করছেন। দালাল ও ফড়িয়ারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কম দামে ধান কিনে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার ধান ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু লাভ হচ্ছে না।

 

সার, শ্রমিক আর ঋণের টাকা দিতে গিয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছি। হাতে টাকা না থাকলে উপায়ও নেই।” একই গ্রামের আরেক কৃষক হাসানুর রহমান বলেন, “আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করে ফসল ফলাই। কিন্তু বাজারে আমাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার যদি সরাসরি ধান কিনতো, তাহলে আমরা অন্তত ন্যায্যমূল্য পেতাম।” ধান কাটা শ্রমিকরাও বলছেন, কৃষকের মুখে স্বস্তির পরিবর্তে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। শ্রমিক শিউলি বেগম জানান, “কাজের চাপ অনেক, কিন্তু কৃষকদের অবস্থা ভালো না।

 

দাম কম পাওয়ায় তারা খুব চিন্তায় আছে।” এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষকের প্রকৃত লাভ নির্ভর করছে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের ওপর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় হলে কৃষকরা কিছুটা হলেও ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করাও চলছে বলে তিনি জানান।

 

সব মিলিয়ে আশাশুনির গ্রামীণ জনপদে এখন একদিকে সোনালি ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা, অন্যদিকে বাজারদরের অনিশ্চয়তায় কৃষকের চোখে চাপা হতাশা। ভালো ফলনের আনন্দ যেন পুরোপুরি পরিণত হতে পারছে না স্বস্তিতে। কৃষকের প্রত্যাশা-এই সোনালি মৌসুম যেন শেষ পর্যন্ত তাদের ঘরে নিয়ে আসে ন্যায্যমূল্যের হাসি, না যে শুধু পরিশ্রমের হিসাব।