বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হারানো উৎসব, বদলে যাওয়া আশাশুনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
হারানো উৎসব, বদলে যাওয়া আশাশুনি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরা-বাংলার গ্রামীণ জনপদ একসময় ছিল উৎসব, ঐতিহ্য আর মানবিক বন্ধনের এক অপূর্ব মিলনস্থল। সেই চিরচেনা গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে দেখা যেত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। নবান্নের আনন্দ, নৌকাবাইচের উল্লাস, যাত্রাপালার আবেগ কিংবা বৈশাখী মেলার প্রাণচাঞ্চল্য-সব মিলিয়ে এটি ছিল এক জীবন্ত সংস্কৃতির আধার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যাওয়ার পথে। এক সময় আশাশুনির গ্রামগুলোতে অগ্রহায়ণ এলেই শুরু হতো নবান্নের উৎসব। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি হতো নানা রকম পিঠা-পুলি। বাড়ি বাড়ি চলত আদান-প্রদান, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত উৎসবের আমেজ। আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল গফুর (৭৫) স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে নবান্ন মানেই ছিল উৎসব। তিন-চার দিন ধরে পিঠা বানাতো বাড়ির মেয়েরা। এখন আর সেই পরিবেশ নেই, সব কিছুই ছোট হয়ে গেছে। বর্তমানে নবান্ন পালিত হলেও তা অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্বও কমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীতে বসত নৌকাবাইচের আসর। শত শত বৈঠার ছন্দে নদী মুখরিত হতো, দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের ভিড় জমত। বুধহাটা এলাকার মাঝি হাশেম আলী (৬০) বলেন, “আগে বর্ষা মানেই নৌকা বাইচ। এখন নদীতে পানি নাই, আয়োজনও নেই। ছেলেপুলেরা আর আগ্রহ দেখায় না।” নদীর নাব্যতা সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক বিনোদনের কারণে এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তপ্রায়। শীতের রাত মানেই ছিল যাত্রাপালা। গ্রামের খোলা মাঠে বসত আসর, যেখানে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা মগ্ন থাকত। একইভাবে পুঁথি পাঠ, বায়োস্কোপ, সাপ খেলা, লাঠিখেলা ছিল গ্রামীণ বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। বুধহাটার ব্যবসায়ী গৌতম ব্যানার্জী বলেন, আমরা ছোটবেলায় যাত্রা না দেখে শীত কাটাইনি। এখন বাচ্চারা মোবাইলেই ব্যস্ত, যাত্রা কী-তাই জানে না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আশাশুনির বিভিন্ন স্থানে বসত বৈশাখী মেলা। হালখাতা, গ্রামীণ পণ্যের দোকান, লোকজ খেলাধুলা-সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি সার্বজনীন উৎসব। বড়দল বাজারের নিতাই চন্দ্র বলেন, আগের মেলায় মানুষের ভিড়, আনন্দ-সবই ছিল আলাদা। এখন মেলা হয় ঠিকই, কিন্তু সেই প্রাণটা আর নেই। বর্তমানে মেলাগুলো অনেকটাই বাণিজ্যিক হয়ে গেছে, হারিয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের প্রসার মানুষের জীবনধারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সহজেই মানুষ বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে স্থান করে নিচ্ছে স্থানীয় সংস্কৃতির জায়গায়। আশাশুনির কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, আমরা এখন অনলাইনে বেশি সময় কাটাই। গ্রামের পুরোনো খেলাধুলা বা উৎসবগুলো তেমন আকর্ষণ করে না। এই পরিবর্তন শুধু সংস্কৃতিতেই নয়, সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণ, এখন সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ। স্থানীয়ভাবে নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। আশাশুনি উপজেলা সাংস্কৃতিক কর্মী অসিম দত্ত বলেন, “আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ে পড়ে এসব জানবে। বাস্তবে কিছুই থাকবে না।” সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়। আশাশুনির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য শুধু একটি অঞ্চলের ক্ষতি নয়, এটি পুরো বাঙালি জাতিসত্তার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি আমাদের শিকড়কে ধরে রাখতে হবে। আজ প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস-তবেই হয়তো আবার নবান্নের গন্ধে ভরে উঠবে গ্রাম, নদীতে ফিরবে নৌকাবাইচের ঢেউ, আর আশাশুনি ফিরে পাবে তার হারানো প্রাণ।

Ads small one

প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক গৃহবধূকে হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিঘলারআইট গ্রামে সড়কের ওপর এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয় এবং হাতুড়ি দিয়ে ট্রাঙ্ক ভেঙে সঞ্চিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অলংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক বা পরিচয় দিয়ে এভাবে তা-ব চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

নম্বর বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ও কলারোয়ার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬২ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় জিরা, শাড়ি, মদ ও ফেন্সিডিলজাতীয় ‘ফেন্সিডিল/ডেক্সপোটেন’ সিরাপ এসব চালানের মধ্যে রয়েছে।

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) জানায়, ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বৈকারী, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বৈকারী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ৭/৬৫-এস থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৬,৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কাশির সিরাপ আটক করে। অপরদিকে কাকডাঙ্গা বিওপির দুটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৪ ও ৫ আরবি থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি এলাকা থেকে ১১,৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা ও মদ উদ্ধার করে।

এ ছাড়া মাদরা বিওপির অপর একটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৮ আরবি থেকে ২০০ গজ অভ্যন্তরে কলারোয়ার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৪৫,০০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল।

ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নুর আলম নামে এক ব্যক্তির বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল নম্বরে চলে যাওয়া ৯ হাজার ৬০০ টাকা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

জানা যায়, সম্প্রতি নুর আলম ভুলবশত ৯ হাজার ৬০০ টাকা অন্য একটি বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় এএসআই জাফর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুল নম্বরে পাঠানো ওই টাকা কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা এলাকার একটি নম্বরে চলে গেছে। পরবর্তীতে ভৈরব থানা পুলিশের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ৯ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত টাকা শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে নুর আলমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নুর আলম বলেন, এত দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা উদ্ধার করে শ্যামনগর থানার ওসি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়রির অভিযোগের ভিত্তিতে ভুল লেনদেনের অর্থ উদ্ধারে আইনগত প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে দেয়া হয়েছে।