বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

হারানো উৎসব, বদলে যাওয়া আশাশুনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
হারানো উৎসব, বদলে যাওয়া আশাশুনি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরা-বাংলার গ্রামীণ জনপদ একসময় ছিল উৎসব, ঐতিহ্য আর মানবিক বন্ধনের এক অপূর্ব মিলনস্থল। সেই চিরচেনা গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে দেখা যেত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। নবান্নের আনন্দ, নৌকাবাইচের উল্লাস, যাত্রাপালার আবেগ কিংবা বৈশাখী মেলার প্রাণচাঞ্চল্য-সব মিলিয়ে এটি ছিল এক জীবন্ত সংস্কৃতির আধার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যাওয়ার পথে। এক সময় আশাশুনির গ্রামগুলোতে অগ্রহায়ণ এলেই শুরু হতো নবান্নের উৎসব। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি হতো নানা রকম পিঠা-পুলি। বাড়ি বাড়ি চলত আদান-প্রদান, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত উৎসবের আমেজ। আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল গফুর (৭৫) স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে নবান্ন মানেই ছিল উৎসব। তিন-চার দিন ধরে পিঠা বানাতো বাড়ির মেয়েরা। এখন আর সেই পরিবেশ নেই, সব কিছুই ছোট হয়ে গেছে। বর্তমানে নবান্ন পালিত হলেও তা অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্বও কমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীতে বসত নৌকাবাইচের আসর। শত শত বৈঠার ছন্দে নদী মুখরিত হতো, দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের ভিড় জমত। বুধহাটা এলাকার মাঝি হাশেম আলী (৬০) বলেন, “আগে বর্ষা মানেই নৌকা বাইচ। এখন নদীতে পানি নাই, আয়োজনও নেই। ছেলেপুলেরা আর আগ্রহ দেখায় না।” নদীর নাব্যতা সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক বিনোদনের কারণে এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তপ্রায়। শীতের রাত মানেই ছিল যাত্রাপালা। গ্রামের খোলা মাঠে বসত আসর, যেখানে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা মগ্ন থাকত। একইভাবে পুঁথি পাঠ, বায়োস্কোপ, সাপ খেলা, লাঠিখেলা ছিল গ্রামীণ বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। বুধহাটার ব্যবসায়ী গৌতম ব্যানার্জী বলেন, আমরা ছোটবেলায় যাত্রা না দেখে শীত কাটাইনি। এখন বাচ্চারা মোবাইলেই ব্যস্ত, যাত্রা কী-তাই জানে না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আশাশুনির বিভিন্ন স্থানে বসত বৈশাখী মেলা। হালখাতা, গ্রামীণ পণ্যের দোকান, লোকজ খেলাধুলা-সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি সার্বজনীন উৎসব। বড়দল বাজারের নিতাই চন্দ্র বলেন, আগের মেলায় মানুষের ভিড়, আনন্দ-সবই ছিল আলাদা। এখন মেলা হয় ঠিকই, কিন্তু সেই প্রাণটা আর নেই। বর্তমানে মেলাগুলো অনেকটাই বাণিজ্যিক হয়ে গেছে, হারিয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের প্রসার মানুষের জীবনধারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সহজেই মানুষ বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে স্থান করে নিচ্ছে স্থানীয় সংস্কৃতির জায়গায়। আশাশুনির কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, আমরা এখন অনলাইনে বেশি সময় কাটাই। গ্রামের পুরোনো খেলাধুলা বা উৎসবগুলো তেমন আকর্ষণ করে না। এই পরিবর্তন শুধু সংস্কৃতিতেই নয়, সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণ, এখন সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ। স্থানীয়ভাবে নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। আশাশুনি উপজেলা সাংস্কৃতিক কর্মী অসিম দত্ত বলেন, “আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ে পড়ে এসব জানবে। বাস্তবে কিছুই থাকবে না।” সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়। আশাশুনির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য শুধু একটি অঞ্চলের ক্ষতি নয়, এটি পুরো বাঙালি জাতিসত্তার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি আমাদের শিকড়কে ধরে রাখতে হবে। আজ প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস-তবেই হয়তো আবার নবান্নের গন্ধে ভরে উঠবে গ্রাম, নদীতে ফিরবে নৌকাবাইচের ঢেউ, আর আশাশুনি ফিরে পাবে তার হারানো প্রাণ।

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সামাজিক ঐক্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সামাজিক ঐক্য

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং তা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে। শ্যামনগরে বিজিবির ১৭ নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে ধ্বংস করা এবং জেলা পুলিশের উদ্যোগে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির উপস্থিতিতে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানের ঘোষণা কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা নয়; এটি মাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স নীতিরই এক বাস্তব প্রতিফলন।
বাজেয়াপ্ত মাদকের দীর্ঘ তালিকার দিকে তাকালে সার্বিক চিত্রটি বেশ শঙ্কা জাগায়। বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, ইয়াবা, অ্যালকোহল ও হেরোইনের পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) কিংবা এলএসডির মতো প্রাণঘাতী ও অতি-উচ্চমূল্যের সিন্থেটিক মাদকের অনুপ্রবেশ নিশ্চিতভাবেই তরুণ সমাজকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকাগুলোকে চোরাচালানকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সীমান্ত রক্ষীদের দৃঢ়তার কারণে প্রায় ৫২ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হলেও মূল জোগান থামানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই প্রেক্ষাপটে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষ থেকে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি, অনলাইন জুয়া রোধ এবং মাদকের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরসহ (এমনকি পুলিশ সদস্য হলেও) কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে ও বাইরে নিরপেক্ষভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলে তা সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে।
তবে মাদক কেবল একটি একক আইনি বা সামাজিক অপরাধ নয়, এটি এক বহুমাত্রিক জটিল ব্যাধি। শুধু সীমান্ত টহল জোরদার করা বা বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাময়িক সাফল্য অর্জন দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, যতক্ষণ না অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সিন্ডিকেটের নেপথ্যের গডফাদারদের সমূলে উৎপাটিত করা যাচ্ছে। বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে যেমনটা গুরুত্ব পেয়েছেÑমাদক নির্মূলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে পুলিশ ও বিজিবির ধারাবাহিক পেশাদার অভিযান এবং সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ জিরো টলারেন্স অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই।

বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির ঝাড়ুদার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির ঝাড়ুদার

এম শফিকুল ইসলাম
শকুনকে বলা হয় প্রকৃতির ঝাড়ুদার। এটি মৃত প্রাণীর দেহ ভক্ষণ করে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নানা সংক্রমণ ও রোগবালাই থেকে রক্ষা করে। আশি-নব্বইয়ের দশকে কোন এলাকায় গরু মহিষ ছাগল মারা গেলে শত শত শকুন এসে ভিড় করত। মূহর্তের মধ্যে মাংস চামড়া খেয়ে হাঁড়গুলো রেখে ফিরে যেত আবাসস্থলে। এখন গবাদি পশু মরে পড়ে থাকলে সেটা পরিষ্কারের দৌড়ঝাপ শুরু করতে হয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের বেতনভুক্ত কর্মীদের। কারণ হারিয়ে গেছে শকুন। কয়েক দশকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ৯০-এর দশকে এদেশের সর্বত্র শকুন দেখা গেলেও বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া শকুনের দেখা মেলে না। এ প্রজন্মের শিশুরাও শকুনের দেখার সুযোগ পাই বইয়ের পাতায় কিংবা চিড়িয়াখানায়। শকুন রক্ষায় সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখনো আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। শকুন এখনো কমছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি শকুন ছিল। বনবিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর বনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এর ২০২৩ সালের সুমারিতে ২৬৭ টি শকুনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতির সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে প্রকাশ, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ২১০ টি শকুন বেঁচে আছে।

গবেষকদের মতে, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ৯০% শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। আর শকুন হারিয়ে যাওয়াই পশুর অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, জলাতঙ্ক, ক্ষুরা ইত্যাদি রোগ বাড়ছে। এ থেকে মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে শকুনের পাকস্থলীতে থাকা বিশেষ ধরনের জারক রস অ্যানথ্রাক্স, যক্ষা, কলেরা, ক্ষুরা প্রভৃতি রোগের জীবাণু সহজেই হজম করে ফেলে, যা অন্য প্রাণীরা পারে না। তাই এসব রোগে কোন প্রাণী মারা গেলে সেই মাংস খেয়ে প্রকৃতিতে রোগ ছড়িয়ে পড়া আটকে দিত শকুন। আইইউসিএনের হিসাবে, আঁশির দশকের শুধু সার্কভুক্ত দেশগুলোতেই শুকন ছিল প্রায় ৪ কোটি। বর্তমানে তা কমে ৪০ হাজারে কমে এসেছে। পৃথিবীর প্রায় ৯০ ভাগ শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শকুনের সব প্রজাতিকে ‘মহাবিপন্ন’ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে শকুনের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে গবাদি পশুর চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহারকে দায়ী করা হয়। এছাড়া বছরে মাত্র একটি ডিম পাড়া, খাদ্য সংকট, বড় গাছ কেটে ফেলায় ব্যবস্থান সংকট, বৈদ্যুতিক তার ও বিষ প্রয়োগে হত্যা, মানুষের মধ্যে শকুন নিয়ে নানা কুসংস্কারের কারণে শকুন দেখলে তাড়িয়ে দেওয়া বা মেরে ফেলার প্রবনাতাও শকুন বিলুপ্তিতে ভূমিকা রাখছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের অধ্যাপক লিন্ডসে ওক তার এক গবেষণায় দেখতে পান, ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেন ব্যবহারের পর কোন পশু মারা গেলে সেই মৃত পশুর মাংস খাওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই শকুন কিডনি বিকল হয়ে মারা যায়। মাত্র শূণ্য দশামিক ২২ মিলিগ্রাম ডাইক্লোফেনাক একটি শকুনের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। ১৯৮০ দশকে ঔষধটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সস্তায় পাওয়া যায় বলে গবাদি পশুর প্রায় রোগেই এ ঔষধটি কৃষকরা ব্যবহার শুরু করেন। ফলে দলে দলে মারা যেতে থাকে শকুন। পরিবেশবিদদের আন্দোলনের মুখে ২০১০ সালে আইন করে গবাদি পশুর জন্য ডাইক্লোফেনাক উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৪ সালে খুলনার সুন্দরবনের বিলুপ্ত প্রায় শকুনের জন্য দুটি নিরাপদ এলাকা ঘোষণা হয়। বাংলাদেশে এখন শুধু বাংলা শকুন টিকে আছে। অন্য কিছু পরিজায়ী শকুন আসে, আবার চলে যায়। শকুন অনেক উপকারী। এই প্রাণীটিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। শকুনের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। শকুন রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। লেখক: সাংবাদিক ও নাট্যকর

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা: নীরবতা ভাঙার এখনই সময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা: নীরবতা ভাঙার এখনই সময়

নিকোলাস বিশ্বাস
নারী ও শিশু নির্যাতন কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অপরাধের পরিসংখ্যানগত হিসাব নয়; এটি একটি সমাজের মানবিকতা, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে সামনে আসছে। শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধগুলো আমাদের দৈনন্দিন সামাজিক জীবনে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন কোনো একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয়, রাজনৈতিক, পারিবারিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সবক্ষেত্রেই এ ধরনের অপরাধ অহরহ ঘটছে। অপরাধীরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক কুসংস্কার এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুর্বল মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। আমাদের সমাজে নারী ও শিশুরা তুলনামূলকভাবে আর্থ-সামাজিক অবস্থানগত কারণে দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা প্রায়ই তাদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা কেবল ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা, কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে বিঘিœত করে।
বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি ২০২৬ সালেও অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন দেশে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, সম্মুখসারিতে কাজ করা মানবসেবা ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর তীব্র অর্থসংকট এবং লিঙ্গসমতার অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়েক দশকের আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় প্রতি তিনজন নারীর একজন তার জীবদ্দশায় ঘনিষ্ঠ সঙ্গী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

এর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত হয়রানি ও হুমকির মাধ্যমে নারী সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক আন্দোলনকারী ও পরিচিত ব্যক্তিত্বদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) শিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি স্থানীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অপরাধীদের প্রতি ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এক মাসেই সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ২,০১১টি মামলা নিবন্ধিত হয়েছে-যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর গত নয় মাসের মধ্যে একক মাসে সর্বোচ্চ।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১,৬২১ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১,০৪২। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধে ৪৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯৫ জন শিশু শারীরিক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা অথবা যৌন নির্যাতনের পর করুণ পরিণতি হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে।
এছাড়াও সংগৃহীত উপাত্তসমূহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে নির্দেশ করে: ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৮৬ শতাংশ শিশু শৃঙ্খলার নামে শারীরিক সহিংসতার মুখোমুখি হয় এবং দেশের ৪৭.২ শতাংশ কিশোরীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৭০ শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় সঙ্গীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন।
তবে এ তথ্যগুলো মূল ঘটনার একটি অংশমাত্র। সামাজিক কলঙ্ক, প্রতিশোধের ভয়, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং সামাজিক চাপের কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নিতে পারেন না এবং আদালতের বাইরে আপস করতে বাধ্য হন।
বাংলাদেশে ১০২টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং ‘১০৯ ও ১০৯২১’ জাতীয় হেল্পলাইনের মতো আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে চরম দুর্বলতা রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নথিভুক্ত হওয়া ৫,৬০০টিরও বেশি যৌন সহিংসতার মামলার মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ মামলায় আসামির শাস্তি বা রায় কার্যকর হয়েছে।
জরুরি ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশকে অতিসত্বর একটি ডেডিকেটেড ‘শিশু বিষয়ক বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংস্কার করতে হবে এবং পেশাদার ও সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কর্মী দল গঠন করতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত একটি কার্যকরী কর্মগোষ্ঠী গঠন করা প্রয়োজন, যা সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের মাধ্যমে অরক্ষিত নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয়ে রূপান্তর করবে।
প্রযুক্তির বিকাশ অপরাধের ধরণ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। স্মার্টফোন ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখন সবার হাতে থাকায় যেকোনো নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অতীতেও সহিংসতা হতো, কিন্তু প্রযুক্তি অপ্রতুল থাকায় এত দ্রুত তা সামাজিক প্রভাব তৈরি করতে পারতো না। সামাজিক মাধ্যমে নির্যাতনের বিষয় ছড়ানোর দুটি দিক রয়েছে:
ক) ইতিবাচক প্রভাব: অন্যায়ের ভিডিও বা ছবি জনমত গঠন করতে সাহায্য করে, অপরাধীকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে।
খ) নেতিবাচক প্রভাব: সহিংসতার ভয়াবহ দৃশ্য বারবার দেখার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।
নারী ও শিশুদের ওপর এই মানসিক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর হয়। কোনো মা যখন একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের ভিডিও দেখেন, তখন নিজ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তার মনে স্থায়ী শঙ্কা তৈরি হয়। একইভাবে, প্রকাশ্যে কোনো নারীকে লাঞ্ছিত হতে দেখলে অন্য নারীদের মনে ভয় জন্মায় এবং তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও চলাফেরা সংকুচিত করেন। এভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও প্রযুক্তি মারফতে পুরো সমাজে এক যৌথ মানসিক আঘাত ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে।
এছাড়া প্রযুক্তির অসচেতন ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন না রাখা, সংবেদনশীল ছবি বারবার পোস্ট করা কিংবা গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার দ্বিতীয়বারের মত সামাজিকভাবে হেনস্থা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন। প্রযুক্তি কেবল একটি মাধ্যম; তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।
দলীয় সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গণতান্ত্রিক চর্চায় মতাদর্শিক ভিন্নতা স্বাভাবিক, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ কখনোই কোনো ব্যক্তির ওপর অমানবিক অত্যাচারকে সমর্থন করতে পারে না।
গণপিটুনি, শারীরিক নির্যাতন, প্রকাশ্যে অপমান ও নৃশংসতা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে। ক্ষমতা প্রদর্শন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতাকে যখন নিয়মিত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। একসময় মানুষের এই কষ্ট দেখে সমাজ উদাসীন হয়ে পড়ে, যা একটি অসুস্থ সামাজিক ব্যবস্থার লক্ষণ।
একইভাবে, পারিবারিক সহিংসতা একটি মারাত্মক কিন্তু গোপনীয় সমস্যা। পরিবার ও সমাজ প্রায়ই একে ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়’ বলে এড়িয়ে যায়। স্ত্রীর ওপর নির্যাতন, শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নিষ্ঠুরতা এবং বয়োবৃদ্ধ বা দুর্বলদের অপমান করা গুরুতর অপরাধ হলেও সম্মানহানি ও সংসার টিকিয়ে রাখার চাপে ভুক্তভোগীরা নীরব থাকেন। এই নীরবতা অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করে। তাই পরিবার ও সমাজকে এ নীরবতা ভেঙে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে শুধু আইন সংশোধন বা আলোচনার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও বহুমুখী পদক্ষেপ:
১. কঠোর ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ: রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘসূত্রতা বিচারব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস নষ্ট করে।
২. নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষা: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও লিঙ্গসমতার শিক্ষা দিতে হবে। ছেলেদের শেখাতে হবে যে শক্তি কখনো অন্যকে নিপীড়নের অধিকার দেয় না। মেয়েদেরও তাদের অধিকার, আত্মরক্ষা এবং হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
৩. ভিকটিম দোষারোপ বন্ধ করা: সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগীর পোশাক, চলাফেরা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপরাধীর ওপর থেকে দায় সরানোর মানসিকতা বাদ দিতে হবে। অপরাধের সমস্ত দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর; তবে ভুক্তভোগী সহানুভূতি ও আইনি সমর্থন পাওয়ার যোগ্য।
৪. গণমাধ্যম ও রাজনীতির দায়িত্ব: গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে দায়িত্বশীল পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি মেনে চলতে হবে এবং কোনো অপরাধীকে দলীয় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
একটি সভ্য সমাজের পরিচয় তার বড় বড় অট্টালিকা, প্রযুক্তি বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে নয়; বরং তার সবচেয়ে দুর্বল ও অরক্ষিত নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
নারী ও শিশুর সুরক্ষা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সমাজ, নাগরিক সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা অপরাধকে সমর্থন করার নামান্তর। আজ যে ঘটনা অন্যের পরিবারে ঘটছে, তা আগামীকাল আমাদের নিজেদের ঘরেও ঘটতে পারে।
আমাদের এমন এক সমাজ তৈরি করতে হবে যেখানে নারীরা ঘরে ও বাইরে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং শিশুরা ভয়হীন পরিবেশে বড় হবে। কোনো মতপার্থক্যই সহিংসতাকে বৈধ করতে পারে না। নীরবতা ভেঙে সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমেই আমরা একটি বাসযোগ্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। লেখক: একজন উন্নয়নকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল-টঘঋচঅ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত