শিবসা: প্রথম দেখার সেই ক্ষণ
অরুণ সান্যাল
সেদিন দুপুরের ঘামঝরা রৌদ্রোজ্জ্বল আলোয়
প্রথম যখন তোমার সামনে দাঁড়ালাম,
থমকে গিয়েছিল আমার চেনা জগতটাও।
দিগন্তজোড়া তোমার ওই বিশাল রূপ দেখে মনে হয়েছিল,
কোনো নদী নয়-এক জীবন্ত ইতিহাস বয়ে চলেছে।
বাতাসে উথাল-পাথাল নোনা ঘ্রাণ আর ঢেউয়ের গর্জন
প্রথমবার আমার কানে কোনো এক অচেনা তৃষ্ণার কথা বলেছিল।
বিস্ময়ে চেয়ে দেখেছিলাম, কীভাবে আকাশের সবটুকু নীল
তোমার অথৈ জলের গভীরে এসে আশ্রয় নিয়েছে।
তীরের পলিমাটিতে রাখা আমার প্রথম পদক্ষেপটি যেন
এক আজন্ম সম্পর্কের নীরব অঙ্গীকার ছিল।
ঢেউয়ের ছোঁয়ায় যখন পায়ের আঙুল ভিজে উঠল,
এক অদ্ভুত শিহরণে কেঁপে উঠেছিল আমার সত্তা।
বনের কোল ঘেঁষে তোমার বাঁক নেওয়া সেই ভঙ্গিটি
ছিল যেন কোনো লাজুক কিশোরীর প্রথম আড়চোখে চাওয়া।
সেই প্রথম দেখাতেই বুঝেছিলাম, আমার বুকের ভেতরকার
সবটুকু হাহাকার তোমার এই মোহনাতেই এসে মিশবে।
একপাশে সুন্দরবন আর মাঝে তোমার এই অশান্ত
বিস্তার সেদিন আমার কাছে এক মহাকাব্যের মতো মনে হয়েছিল।
শিবসা, সেই একটি দেখাতেই তুমি আমার হৃদয়ে স্থায়ী
এক গভীর ও নীল ক্ষত হয়ে আজীবন রয়ে গেলে।









