রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

৬ মে থেকে খুলতে পারে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা: দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে স্বস্তির ইঙ্গিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
৬ মে থেকে খুলতে পারে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা: দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে স্বস্তির ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ বিরতি ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৬ মে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র। গত কয়েক মাস ধরে ভিসা কার্যক্রমে ধীরগতি ও সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে চিকিৎসা, পর্যটন ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসার ওপর নির্ভরশীল বহু রোগী ও তাদের পরিবারকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

 

শনিবার (২ এপ্রিল) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এখন নীতিগত পর্যায়ে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মাসেই পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে প্রধানমন্ত্রীর-এর অনুমোদনের পর।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিষয়টি সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর-এর অধীনে।

 

দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী ঠাকুর। তিনি সম্প্রতি একাধিক আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ও আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর নিরাপত্তা ও কৌশলগত মূল্যায়নও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিবেচনাও এতে যুক্ত রয়েছে। এদিকে ভিসা চালুর সম্ভাবনার খবরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে ভারতের পর্যটন ও বাণিজ্যনির্ভর অঞ্চলগুলোর মধ্যে।

 

বিশেষ করে কোলকাতার পার্ক স্ট্রিট, নিউ মার্কেট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশি পর্যটকের অনুপস্থিতিতে যেসব হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও শপিং এলাকা ক্ষতির মুখে পড়েছিল, তারা এখন পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা ফিরলে শুধু হোটেল বা দোকান নয়, পুরো স্থানীয় অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে চিকিৎসা পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতীয় পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও স্বাভাবিক করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভিসা ইস্যুটি ধীরে ধীরে ইতিবাচক সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে অগ্রগতি স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে তা শুধু ভ্রমণ নয়, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, চিকিৎসা সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন গতি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Ads small one

নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের মেহেদীবাগ এলাকার এক চিলতে ভবনের ভেতরে ১৯ জন প্রবীণের বসবাস। এই ছোট ঘরগুলো যেন এক একটি স্মৃতির মহাফেজখানা, যেখানে জমে আছে কেবলই অবহেলা আর বঞ্চনার গল্প। সাতক্ষীরার ‘আরা’ বৃদ্ধাশ্রমের এই বাসিন্দাদের ৯ জনই নারী, যারা জীবনের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেও আজ ঠাঁই পেয়েছেন অন্যের দয়ায় গড়ে ওঠা এই আশ্রমে।

মিলি বিশ্বাসের গল্পটা অন্য দশটা সাধারণ মায়ের মতো হতে পারতো। নব্বইয়ের দশকে স্বল্প বেতনের চাকরিতে সংগ্রাম শুরু করে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের উপার্জনে গড়েছেন দোতলা বাড়ি। বড় ছেলে ও ছোট ছেলে দুজনেই সচ্ছল, মেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু অভিযোগের তির বড় ছেলের দিকে। মিলি বিশ্বাসের দাবি, কৌশলে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর শুরু হয় নির্যাতন। নিজ বাড়িতেই পরবাসী হয়ে পড়া এই মা অবশেষে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। ক্ষোভ আর অভিমানে নীল হয়ে যাওয়া এই জননী বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের মৃত্যু নিজের চোখে দেখে যেতে চাই।” এই চরম হাহাকার যেন কেবল একজন মায়ের নয়, বরং চরম অবহেলার শিকার এক সত্তার আর্তনাদ। আশ্রমের প্রতিটি ঘরেই লুকিয়ে আছে এমন আরও বহু দীর্ঘশ্বাস।

জাহানারা খাতুনের একসময় নাম ছিল করুণা বিশ্বাস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাকে তার স্বামী অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে তার দাবি। নতুন জীবনে ধর্ম পরিবর্তন করে সন্তানদের মানুষ করলেও আজ তারা কেউ পাশে নেই। এক সন্তান সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, অন্যজন রাখে না কোনো খোঁজ।

লাভলী খাতুন খুলনার খালিশপুরের এই নারীর জীবন যেন সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। পঙ্গুত্ব বরণ করার পর স্বামী ছেড়ে গেলে গার্মেন্টস কর্মী আর দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তিন মেয়েকে মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। সেই মেয়েরা আজ প্রতিষ্ঠিত হলেও মায়ের ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের এই চার দেয়াল।

আশ্রমের ১৯ জন প্রবীণের দিন কাটে একঘেয়ে রুটিনে। ভোরে উঠে ওষুধ সেবন আর প্রার্থনা। এরপর জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকা বা বারান্দায় বসে শূন্যতায় চেয়ে থাকা। বিকেলে সামান্য হাঁটাহাঁটি আর আড্ডা থাকলেও অবচেতনে সবাই যেন কারো অপেক্ষায় থাকেন। পরিবার থেকে যোগাযোগ না থাকায় মোবাইল ফোনগুলোও অধিকাংশ সময় নীরব থাকে। রাতের আঁধারে পুরনো স্মৃতি আর সন্তানদের মুখ মনে করেই ভাঙা ঘুমে পার হয় তাদের সময়।

সীমিত সাধ্যের মধ্যেও এই প্রবীণদের আগলে রাখছে ‘আরা’ সংস্থা। আবাসন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কেবল আশ্রয় দেওয়াই তাদের শেষ লক্ষ্য নয়, তারা চান এই প্রবীণদের আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিতে। দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শত শত প্রবীণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে যাদের পরিবার কোনোভাবেই গ্রহণ করতে রাজি হয় না, তাদের জন্যই ‘আরা’ আজ শেষ ঠিকানা।

সপ্তাহে চার দিন মাছ, দুই দিন ডিম ও এক দিন মাংসের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা ব্যক্তি-অনুদান নির্ভর। সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় বলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়।

 

 

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধসহ প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১০ মে) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর বিভিন্ন বিওপির সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদরা, হিজলদী, কাকডাঙ্গা, কালিয়ানী বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। অভিযানে কলারোয়ার উত্তর ভাদিয়ালী থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঔষধ, ফকির পাড়া থেকে ৩০ হাজার টাকার শাড়ি এবং কেরাগাছি এলাকা থেকে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল পার্টস জব্দ করা হয়।

এছাড়া সদর থানার গোবিন্দকাঠি ও কালিয়ানী আমবাগান এলাকা থেকে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকার ঔষধ ও মোবাইলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের মোট বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ টাকা। শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।

 

 

 

কালিগঞ্জে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: অসুস্থ বাবার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়া এবং আপন ভাইসহ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেল ৩টায় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অভিযুক্ত জান্নাতুল বুশরা পেশায় একজন অধ্যাপিকা। মানববন্ধনে তার বড় ভাই ও শ্রীকলা জামে মসজিদের ইমাম আব্দুস সবুর অভিযোগ করেন, তাদের বাবা আব্দুর সাত্তার ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘকাল শয্যাশায়ী ছিলেন। এই সুযোগে তিন বছর আগে জান্নাতুল বুশরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বাবার ৬ শতক বসতভিটা নিজের নামে লিখে নেন। গত ৩ এপ্রিল বাবার মৃত্যুর পর এই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

আব্দুস সবুর আরও জানান, জমি লিখে নেওয়ার পর জান্নাতুল বুশরা তাকে ও তার অসুস্থ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর গ্রামবাসী তাকে ওই ভিটায় তুলে দিলে আবারও উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। তাকে হয়রানি করতে আদালতে মামলাও করেছেন ওই অধ্যাপিকা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী আব্দুস সবুর শিমুল, ফরিদা বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম ও লুৎফন নেছা প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যাপিকা বুশরা বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তারা এই হয়রানি থেকে মুক্তি এবং পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীসহ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।