রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ: সুন্দরবনের কোলঘেঁষে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’: স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপকূলবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ: সুন্দরবনের কোলঘেঁষে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’: স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপকূলবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরাসরি সড়কপথে সুন্দরবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুবিধা তৈরি হওয়ায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় মানুষ এখন নিজেদের বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা (হোম-স্টে) করে বিকল্প আয়ের মুখ দেখছেন।

শ্যামনগরের দাতিনীখালী ও বুড়িগোয়ালিনী গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, বড় বাণিজ্যিক হোটেলের বদলে দর্শনার্থীরা স্থানীয় বনজীবীদের মাটির ও গোলপাতার ঘরে থাকছেন। এর মাধ্যমে পর্যটকেরা গ্রামীণ জীবনযাত্রা, লোকজ সংস্কৃতি এবং খাঁটি দেশি খাবারের অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।

সাতক্ষীরা বনজীবী বাড়ির তরুণ উদ্যোক্তা শামীম হোসেন বলেন, নতুন সড়ক যোগাযোগের কারণে দর্শনার্থীরা সরাসরি গ্রামে অবস্থান করছেন। ঘরের পরিবেশের পাশাপাশি তাঁদের জন্য পারমিট সংগ্রহ, গাইড ও ট্রলারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

একই এলাকায় নদীবাঁধের ওপর বাস করা আদিবাসী মু-া সম্প্রদায়ও এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ‘সুন্দরবন আদিবাসী মু-া সংস্থা’র মাধ্যমে তৈরি করা ইকো-হোমস্টেতে অতিথিদের সামনে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া গান ও নাচ পরিবেশন করছেন তারা। সংগঠনের সদস্য অনন্দিনী মুন্ডা জানান, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে তাদের নতুন প্রজন্ম নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা দূর হচ্ছে।

সংগঠনটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র মু-া বলেন, নোনা পানির কারণে প্রথাগত কৃষিকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা সংস্কৃতির চর্চাকে কেন্দ্র করে এই বিকল্প জীবিকা বেছে নিয়েছেন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তানভীর আহমেদও জানান, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পরিবেশে থাকার অনুভূতি আধুনিক হোটেলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

তবে স্থানীয় পরিকাঠামোর অভাবের বিষয়টি তুলে ধরে স্থায়ী বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, মধু, শুঁটকি কিংবা হস্তশিল্প বিক্রির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ট্যুরিজম মার্কেট’ বা পর্যটন বাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বনবিভাগও এই সামাজিক মডেলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দীন বলেন, স্থানীয় মানুষ পর্যটন থেকে সরাসরি আয় করতে পারায় বনের ওপর নির্ভরতা কমছে। ফলে তারা নিজেরাই এখন সুন্দরবন সুরক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছেন।

Ads small one

সুন্দরবনের বড় অংশ কয়রায়, তবুও মিলেনি পর্যটনের স্বীকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনের বড় অংশ কয়রায়, তবুও মিলেনি পর্যটনের স্বীকৃতি

জিএম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): তিন পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী, ওপারে ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। নদীর তীরে দাঁড়ালেই ভেসে আসে পাখির কলতান, বন্য প্রাণীর ডাক কিংবা নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনঘেঁষা মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর গ্রামটি যেন প্রকৃতিপ্রদত্ত এক পর্যটনকেন্দ্র। শুধু এই গ্রামই নয়, পুরো কয়রা জেড়েই রয়েছে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা। অথচ দেশের পর্যটন মানচিত্রে এখনও অলক্ষিত রয়ে গেছে এই জনপদ।

কয়রা উপজেলায় সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় অংশ যুক্ত থাকলেও এখানে গড়ে ওঠেনি পর্যটনকেন্দ্রিক মৌলিক অবকাঠামো। মানসম্মত আবাসন, কটেজ বা পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের দিনশেষে ফিরে যেতে হয় খুলনা শহর বা অন্যান্য এলাকায়।

অথচ সুন্দরবনের পাশাপাশি কয়রায় ছড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সুলতানি আমলের বিখ্যাত ‘মসজিদকুঁড় মসজিদ’, রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতিচিহ্ন, প্রাচীন দিঘি ও নানা ঐতিহাসিক স্থান এ অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। প্রতিবেশী পাইকগাছার রাড়ুলিতে অবস্থিত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন যুক্ত করে এখানে একটি আকর্ষণীয় ‘ট্যুরিজম সার্কিট’ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীদের মতে, পরিকল্পিত ইকোট্যুরিজম চালু করা গেলে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ২০২১ সালে দক্ষিণ বেদকাশীর গোলখালী এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু বনাঞ্চলের আইনি জটিলতায় পরবর্তীতে কয়রা সদর ইউনিয়নের কেওড়াকাটা এলাকায় স্থান পরিবর্তন করা হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ থমকে আছে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন জানান, স্থান পরিবর্তনের জটিলতা কাটিয়ে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ঠিকাদারের বকেয়া বিল না পাওয়ায় বর্তমানে নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

 

সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

সহকর্মীদের ভালোবাসায় সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শেখ আবদুল বারীর মেজ ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক খবর বাংলাদেশ’-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অন্যতম সদস্য। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম খান মামুনসহ সহ-সভাপতি, সংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সহকর্মীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ধারাবাহিক হামলা ও হুমকির অভিযোগের মধ্যে সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে নেট, পলিথিন ও জিও শিটসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার রতনপুর বাজারে অবস্থিত ‘এস কে এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে এই অগ্নিসংযোগ ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার।
ফিরোজ আহমেদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো একসময় দোকানের পেছনের অংশ দিয়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিপুল মালামাল পুড়ে যায়। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন ধরে হুমকি-ধামকির শিকার হয়ে আসছেন। এর আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে গত আগস্টে একই উপজেলায় সংবাদকর্মী ফেরদৌস আহমেদ ও শেখ ফিরোজ আহমেদের ওপর পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহমেদ জানান, এসব ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতা করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদের ওপর আগের হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।