৬ মে থেকে খুলতে পারে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা: দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে স্বস্তির ইঙ্গিত
নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ বিরতি ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৬ মে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র। গত কয়েক মাস ধরে ভিসা কার্যক্রমে ধীরগতি ও সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে চিকিৎসা, পর্যটন ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসার ওপর নির্ভরশীল বহু রোগী ও তাদের পরিবারকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।
শনিবার (২ এপ্রিল) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এখন নীতিগত পর্যায়ে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মাসেই পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে প্রধানমন্ত্রীর-এর অনুমোদনের পর।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিষয়টি সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর-এর অধীনে।
দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী ঠাকুর। তিনি সম্প্রতি একাধিক আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ও আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর নিরাপত্তা ও কৌশলগত মূল্যায়নও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিবেচনাও এতে যুক্ত রয়েছে। এদিকে ভিসা চালুর সম্ভাবনার খবরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে ভারতের পর্যটন ও বাণিজ্যনির্ভর অঞ্চলগুলোর মধ্যে।
বিশেষ করে কোলকাতার পার্ক স্ট্রিট, নিউ মার্কেট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশি পর্যটকের অনুপস্থিতিতে যেসব হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও শপিং এলাকা ক্ষতির মুখে পড়েছিল, তারা এখন পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা ফিরলে শুধু হোটেল বা দোকান নয়, পুরো স্থানীয় অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে চিকিৎসা পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতীয় পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও স্বাভাবিক করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভিসা ইস্যুটি ধীরে ধীরে ইতিবাচক সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে অগ্রগতি স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে তা শুধু ভ্রমণ নয়, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, চিকিৎসা সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন গতি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।






