মরুভূমির উট এখন যশোরের সীমান্তে, খামার দেখতে মানুষের ভিড়
Oplus_0
এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): মরুভূমির জাহাজখ্যাত প্রাণি উট এখন চড়ে বেড়াচ্ছে সবুজে ঘেরা বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক উটের খামার বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালি গ্রামে। শখের বশে শুরু করা এই খামারটি এখন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ উট দেখতে ভিড় করছেন এই খামারে।
বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সীমান্তবর্তী গ্রাম পুটখালি। এখানকার পশুপ্রেমী ও শৌখিন খামারি নাসির উদ্দিন বছরখানেক আগে সৌদি আরব থেকে পাঁচটি উট আমদানি করেন। সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝে এই বিশাল আকৃতির প্রাণীগুলো এখন ওই এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শিশু থেকে বৃদ্ধÑসব বয়সী দর্শনার্থী উটগুলো দেখতে খামারে আসছেন।
খামার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মরুভূমির আবহাওয়ায় অভ্যস্ত এই প্রাণিগুলোকে বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়াতে বিশেষ যতœ নেওয়া হচ্ছে। খামারের পরিচর্যাকারী আতিয়ার রহমান জানান, গরমের কারণে উটগুলোকে প্রতিদিন তিনবার করে গোসল করানো হয়। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে সয়াবিন, ভুট্টা, ছোলা, আলু, নিমপাতা ও সাধারণ সবুজ ঘাস। সামনে কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য রেখে উটগুলোর বাড়তি পরিচর্যা করা হচ্ছে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন ঈদে বিক্রির জন্য প্রতিটি উটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৩০ লাখ টাকা। উট দেখতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, “এত কাছ থেকে আমরা আগে কখনো উট দেখিনি। শুধু চিড়িয়াখানায় দূর থেকে দেখেছি। এখানে সরাসরি এবং এত বড় আকারের উট সশরীরে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে উট পালন করা সম্ভব। এই খামারটিতে প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, নতুন এই উদ্যোগটি দেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় রূপ নেবে।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উট পালন এখন আর শুধু মরুভূমির গল্প নয়; শার্শার এই খামারটি সফলভাবে উটের বংশবৃদ্ধি করতে পারলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলটি দেশের অন্যতম প্রধান উট পালন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।











