বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

মো. মামুন হাসান

শৈশবের যশোর, কপোতাক্ষের পাড়, আর প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারে জেগে ওঠা এক প্রাণচঞ্চল জনপদ, এই স্মৃতিগুলো আজও আমার মনে অমলিন হয়ে আছে। যশোর জেলার সন্তান হিসেবে বলুহ দেওয়ানের মেলা আমার কাছে কেবল একটি লেখার বিষয় নয়, এটি আমার নিজের বেড়ে ওঠার একটি অংশ। আজ যখন সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলি, তখন আমার মনের গভীরে বারবার ভেসে আসে আমার নিজের জেলার এই প্রাচীন মেলার ছবি।

চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে, ঐতিহাসিক কপোতাক্ষ নদের পশ্চিম তীরে একটি উঁচু ঢিবির ওপর শায়িত রয়েছেন এ অঞ্চলের বিখ্যাত পীর বলুহ দেওয়ান। এই একই কপোতাক্ষকে নিয়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন তাঁর অমর পঙক্তি, যেখানে তিনি এই নদকে মায়ের দুধের সমান বলে অভিহিত করেছেন। এই মহান কবির স্মৃতিধন্য নদের তীরেই প্রায় তিনশ বছর ধরে বসে আসছে বলুহ দেওয়ানের মেলা, যা বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে প্রায় দশ দিন ধরে চলে, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ অনুমতির মাধ্যমে।

যশোরের মাটিতে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষের কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা একটি বিশেষ আবেগের নাম। ছোটবেলায় বাড়ির বড়দের মুখে শুনতাম, এই মেলা কেবল একটি বছরের অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এক অমূল্য উপহার। আজ যখন নিজেই একজন শিক্ষক, তখন বুঝি সেই কথাগুলোর গভীরতা কতটা। ইতিহাস কোনো স্থবির বিষয় নয়, বরং প্রতিটি প্রজন্মের হাত ধরে বয়ে চলা এক নিরন্তর প্রবাহ, এবং বলুহ দেওয়ানের মেলা তার এক জীবন্ত প্রমাণ।

দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা ব্যবসায়ীদের হাতে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার অর্থনীতির এক অনন্য চিত্র। বাঘারপাড়া থেকে আসা চটপটির দোকানি থেকে মাদারীপুরের প্রসাধনী বিক্রেতা, সবার কাছেই এই মেলায় আসাটা যেন এক অলিখিত পারিবারিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ বেতের সামগ্রী, নাগরদোলা, মিষ্টির দোকান, লোকসংগীতের আসর, সব মিলিয়ে এই মেলা হয়ে ওঠে আবহমান বাংলার প্রাণবন্ত এক প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, এই দৃশ্যগুলো কোনো পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে কম মূল্যবান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য এক বাস্তব ক্লাসরুম।

যশোরের সন্তান হিসেবে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের এই জেলা কেবল কবি মধুসূদনের জন্মভূমি নয়, এটি এমন এক ভূখ-, যেখানে লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সামাজিক সংহতির এক অসাধারণ মিশ্রণ ঘটেছে যুগ যুগ ধরে। বলুহ দেওয়ানের মেলায় ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণির ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একত্র হয় এক অভিন্ন আবেগের বন্ধনে। শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে এটি এক বিশেষ শিক্ষণীয় বিষয়, কারণ সামাজিক সম্প্রীতির যে পাঠ আমরা শ্রেণিকক্ষে দিতে চাই, তা এই মেলার মাটিতে বাস্তবে ঘটে চলে যুগের পর যুগ, কোনো বইয়ের সাহায্য ছাড়াই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলার পবিত্রতা ও শালীনতা রক্ষার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, কেননা একটি ঐতিহ্যবাহী লোকমেলার আসল সৌন্দর্য নিহিত থাকে তার সরলতা ও শুদ্ধতায়। আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য বুঝাতে না পারি, তবে একদিন এই মেলাগুলো কেবল ব্যবসায়িক আয়োজনে রূপ নিতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে তার আসল আত্মিক তাৎপর্য।

আমার পেশাগত জীবন যেহেতু পর্যটন ও হসপিটালিটি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাই আমি বিশেষভাবে বিশ্বাস করি, বলুহ দেওয়ানের মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসবগুলো আমাদের দেশীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রচার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই মেলাকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত করে তোলা সম্ভব, যা একদিকে যশোরের স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে আমাদের এই ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করবে। আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের বলি, নিজের জেলার এমন সম্পদ চিনতে না পারলে দূরের পর্যটন গন্তব্যের গল্প শুনিয়ে কোনো লাভ নেই।

যশোরের মাটিতে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে, এবং একজন শিক্ষক হিসেবে, আমার কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা শুধু অতীতের এক স্মারক নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়িত্বও। কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি আর বলুহ দেওয়ানের মাজারের নীরব উপস্থিতি যেন আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার মাটির গন্ধে, নদীর তীরে, আর হাজার বছরের লোকবিশ্বাসের ধারাবাহিকতায়। আমার প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে শুধু দর্শকের চোখে না দেখে, বরং নিজেদের শিকড় হিসেবে অনুভব করবে।

বলুহ দেওয়ানের মেলা তাই কেবল একটি মেলা নয়, এটি আমার জন্মভূমি যশোরের গর্ব, বাংলার আত্মার এক অক্ষয় প্রতীক, যা যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের গৌরবগাথা। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের, কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তার অতীতের প্রতি সম্মান থেকেই।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা

Ads small one

তালায় তৃণমূল নারী সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
তালায় তৃণমূল নারী সমাবেশ

তালা প্রতিনিধি: বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের সভা কক্ষে তৃণমূল নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর সহযোগিতায় ও উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার আশা। সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী বাবর আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জিএম শাওন, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তৌহিদ কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস, আইসিটি কর্ককর্তা মোতাহার হোসেন, শহীদ কামেল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী জাহিদুর রহমান, ভূমিজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক অচিন্ত্য সাহা, উত্তরণের সমন্বয়কারী শম্ভূ চরণ চৌধুরী, হাসিনা পারভীন, প্রফেসর রেজাউল করিম, দিলীপ সানা, রুপালীর পরিচালক সফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান ও সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন এলাকার নারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উপর আলোচনা হয়।

শ্যামনগরে নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতায় উঠান বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতায় উঠান বৈঠক

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে নারীর অধিকার, জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের মানিকখালী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান’ এ বৈঠকের আয়োজন করে।
উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীদের নিয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসন ও নারী অধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জেন্ডার বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরতী সরকার, স্বপ্না, টুম্পা, একাদশী, কালীদাসী, সবিতা, ভারতী প্রমুখ।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় ১০ নম্বর প্রতাপনগর ইউনিয়নের মধ্য নাকনা (জেলেপাড়া) এলাকার শেখ আ. হাদির বাড়িতে এ সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান’। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২০ জন নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে আলোচনায় অংশ নেন সংস্থাটির যুব সদস্য আব্দুল আহাদ (সবুজ), কিরণ সানা, স্বপ্না, রিনা, পার্বতী, রেহেনা, সুমা, শ্যামতোষ, খালিদ সানা, রাবেয়া, একাদশী, নিলীনা দাসী প্রমুখ।