মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কালিগঞ্জে ফারজানা হত্যার ঘটনায় মামুনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ফারজানা হত্যার ঘটনায় মামুনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আদালতে এ আবেদন জানান।

এদিকে ফারজানার মৃত্যুকে ঘিরে মব সৃষ্টি করে গৃহবধু সুমাইয়া খাতুনকে পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ দিনের কোন মামলা হয়নি। ফলে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তবে এ দুটি হত্যার ঘটনার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চার বছর আগে কাশিপুর গ্রামের এন্তোফ মোড়লের ছেলে হামিদুলের কথায় তার বোন সুমাইয়া খাতুনকে একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর তারা জানতে পারেন যে, আমিরুল একজন নেশাগ্রস্ত ও জুয়াড়ি। এ নিয়ে সুমাইয়া ও আমিরুলের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমাইয়ার উপর চলতো নির্যাতন। এ নিয়ে শালিসি বৈঠক হয়েছে কয়েকবার। এক শালিসি বৈঠকে হামিদুলকে লাঞ্চিত হতে হয় মামুনের কাছে।

 

পরবর্তীতে মামুনকে মারপিট করে বদলাও নেন হামিদুল। এরপর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কেও চরম অবনতি হয়। তবে নিহত ছাত্রী ফারাজানা সুলতানা ও সুমাইয়া খাতুনের পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। একে অপরের বাড়িতে রান্না করা খাবার বিনিময় করতেন। চলতো অর্থনৈতিক লেনদেনও। হামিদুলের সঙ্গে তার বোনের সুসম্পর্ক ছিল। ২০ জুলাই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সে ভাগ্নি আমেনাকে খাবার কিনে দিয়ে বাড়ি চলে আসে। দুপুর সোয়া একটার দিকে কয়েকটি মোবাইল থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, সুমাইয়া ও ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কি না?

চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদে বসবাসকারি এশার আলী জানান, তার বলা মতে গত ২০ জুলাই সকালে তার পুত্রবধু সুমাইয়া খাতুন তাদের বাড়িতে আসেন। দুপুর দেড়টার দিকে ফারজানার চাচীসহ কয়েকজন মুঠোফোনে জানতে চান যে, ফারজানা তার কাছে আছে কিনা! উত্তর না বলায়, তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়।

কলুরমেদে গ্রামের নাছিমা খাতুন জানান, ফারজানাকে পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর পেয়ে বিষয়টি সুমাইয়া তাকে অবহিত করে। তিনিও মেয়ে সুমাইয়ার সাথে তাদের বাড়িতে চলে আসেন। এ সময় হামিদুলসহ কয়েকজন সুমাইয়ার কাছে ফারজানা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে কিছু জানে না বলে জানায়। কিছুক্ষণ পর সুমাইয়ার বাবা শেখ আব্দুল লতিফ চলে আসায় তারা দুইজন কথা বলে বাড়িতে ফিরে অসেন।

নাছিমা খাতুন আরো জানান, ফারজানাকে কোথাও খুঁজে না পাওয়ায় সুমাইয়ার উপর চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সুমাইয়ার লাশ নিয়ে গেছে এমন খবর ছড়িয়ে দিলে একটি মহল উত্তর দিকের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। পরে সুমাইয়ার কাছে চাবি না চেয়ে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে পুলিশসহ স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় লক বিহিন পিছনের জানালা খুলে পড়ে ছিল। পরবর্তীতে সোয়া ছয়টার দিকে আবারো ঘরে ঢুকে কয়েকজন ওয়ালসোকেচ থেকে ফারজানার হাত ও পা বাঁধ লাশ উদ্ধার করে।

 

সুমাইয়া কিছু জানে না বলার পরও কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে উঠানে ফেলে দিয়ে পুলিশের সামনেই ইট দিয়ে থেঁতলে মৃত ভেবে ফেলে রাখে হামিদুল মোড়ল, একই গ্রামের মাসুম, হুসাইন খান, পানি বিক্রেতা তৌফিকসহ কয়েকজন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সুমাইয়াকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ইন্দ্রনগর মোড়ে অবস্থান নেয়।

 

রাত প্রায় ৯টার দিকে পুলিশ এসে ফারজানা ও সুমাইয়ার লাশ নিয়ে চলে যায়। একজোড়া দ্ইু আনা সোনার দুল নিতে ফারাজানাকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে বাড়িতে ডেকে সুমাইয়া হত্যা করেছে মর্মে প্রচার করা হয়। নিয়ে নেওয়া হয় সুমাইয়ার ফোন। নতুন করে হামলার ভয়ে ময়না তদন্তের একদিন পর গভীর রাতে কলুরমেদে গ্রামে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়। আবারো হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা হত্যাকারিদের নামে মামলা করতে পারছেন না। রয়েছে এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির চাপও।

নাছিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ফারজানার কানের দুল দুটি ও সুমাইয়ার মোবাইল ফোন কোথায় তা তিনি জানতে চান। পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে ও মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘটনাস্থলে না থাকায় পরও ফারজানা হত্যা মামলায় তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামী করেছে হামিদ মোড়ল। এমনকি নিজে সুমাইয়া হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে ফারজানা হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী হয়েছেন। সুমাইয়া হত্যার ব্যাপারে তারা দ্রুত মামলা করবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমাইয়ার ঘরে আসবাবপত্র দিয়ে ঘর দুটি সাজানো- গোছানো ছিল। তবে যে ঘর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ওই ঘরের পিছনের জানালার পাল্লা মজবুত করে লাগানো ছিল না। তাছাড়া সুমাইয়ার ভাসুরের ছেলে মোস্তাককে (২৩) ২০ জুলাই দুপুরের পর থেকে আজো এলাকায় দেখা যায়নি। তাছাড়া ফারজানা ইউনিফর্ম পরে স্কুলে এলেও লাশ উদ্ধারের সময় তার পরিহিত পাজামা অন্য রং এর ছিল।

 

ইউনিফর্মের পায়জামা দিয়ে তার পা দুটি বাঁধা ছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে স্কুল থেকে সুমাইয়ার বাড়িতে আসা ফারজানাকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পিছনের জানালা দিয়ে ঢুকে হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় ওয়ালসোকেচের মধ্যে রাখা হয়েছে। কারণ ৯ বছরের একটি মেয়েকে টেনে নিয়ে একাকি ওয়ালসোকেচের মধ্যে রাখা অসম্ভব প্রায়। আর সুমইয়া দুলের লোভে ফারজানাকে হাত ও পা বেঁধে হত্যা করে ওয়ালসোকেচের মধ্যে রাখলে তাকে মোবাইল ফোনে ডাকার পর সে বাড়িতে আসতো? তা ছাড়া তার কাছে চাবি থাকার পরও তা না নিয়ে তালা ভাঙা হলো কেন? মোস্তাকের অবস্থান সম্পর্কে পরিবার নিশ্চুপ কেন?

 

গত বৃহষ্পতিবার জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ ফারাজানার বাড়িতে গেলে হামিদ মোড়ল কেন বললেন স্যার, গণপিটুনিতে মারা গেছে সুমাইয়া। এনিয়ে যেন কাউকে হয়রানি করা না হয়। তারা আরো জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ইচ্ছার গুরুত্ব না দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করলে পুলিশ দুটি হত্যাকা-ের ক্লু দ্রুত উদ্ধার করতে পারবে। ক্ষতিগ্রস্তরা পাবে ন্যায় বিচার।
এ ব্যাপারে হামিদুল মোড়লের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ফারজানাকে ময়নাতদন্তকারি চিকিৎসক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মাহাফুজুর রহমান প্রতিবেদন দেওয়ার আগে সে ধর্ষিত হয়েছিল কিনা তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমা- আবেদন জানানো হয়েছে। জব্দ তালিকায় ফারজানার স্কুল ইউনিফর্মের পাজামা না অন্য কিছু তা তিনি বলতে পরেননি। জব্দ তালিকা ও সুরতহাল প্রতিবেদন উপপরিদর্শক সাব্বির হোসেন প্রস্তুত করেছিল বলে জানান তিনি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, সুমাইয়া হত্যার ঘটনায় শনিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তবে শনিবার সন্ধ্যায় মামলা হতে পারে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করা হলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে। তবে দুটি হত্যার ব্যাপারে ন্যয়বিচারের স্বার্থে তারা যথাযথ তদন্ত করে যাচ্ছেন ।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার নিশ্চিত হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার নিশ্চিত হোক

উপকূলীয় লোনাঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনে লালিত একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বেতগ্রাম থেকে তালা-পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটির উন্নয়ন ও বাঁক সরলীকরণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে খুলনা ও সাতক্ষীরার চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বিশাল বিশাল গর্ত আর ধূলিবালির নরকযন্ত্রণা সহ্য করা পথচারী ও এলাকাবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা।
প্রকল্পের সুফল নিয়ে কোনো দ্বিধা না থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেসব অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে, তা এড়ানো অসম্ভব। ২০২০ সালে ৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালে এসে পৌঁছানো এবং ব্যয় প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা বেড়ে ৫৩৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকার বিষয়টি আমাদের পরিকাঠামো খাতের এক পুরনো ও পরিচিত ব্যাধির কথাই স্মর করিয়ে দেয়Ñপ্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও সময়মতো জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থতা।
সড়ক ও জনপথ দপ্তর (সওজ) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার ক্ষেত্রে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং জেলা প্রশাসন ও ভূমি মালিকদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই এই বিলম্ব। প্রয়োজনীয় অর্থ বা চেক প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ভূমি মালিকরা সঠিক সময়ে ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকল্পের শুরুতেই সঠিকভাবে নিবৃতি ও সমন্বয় করা গেলে আজ চার বছরের বাড়তি বিলম্ব এবং জনগণের দীর্ঘ ভোগান্তি এড়ানো যেত।
যেকোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ। এই অঞ্চলের মানুষের কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং দৈনিক যাতায়াত সহজ করতে সড়কটির অবদান হবে অনস্বীকার্য। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং কপিলমুনি ও গোলাবাটি মোড়সহ শেষদিকের বাকি কাজটি চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
আমরা আশা করব, সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট এই স্বল্প সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করবে। একই সাথে, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত যেসব জটিলতা এখনো বিক্ষিপ্তভাবে রয়ে গেছে, স্থানীয় জেলা প্রশাসন তা দ্রুত ও সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করবে। উন্নয়নের মিষ্টি ফলের পাশাপাশি যেন সময় ও অর্থের অপচয়ের তেঁতো অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রকল্পে পুনরায় দেখতে না হয়Ñসে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ ও চারা সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ ও চারা সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনপদে ১০ লাখ বীজ রোপণের পর এবার রোপিত বীজ ও জন্ম নেওয়া চারাগাছের সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানী। বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স ম ওসমান গনী সোহাগের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং প্রভাষক কিশোর কুমার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কেবল সবুজায়নের কর্মসূচি নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষার ওপর। উন্মুক্ত আলোচনায় চারাগাছের চারপাশে ঘের ও বেড়া নির্মাণ, নিয়মিত পাহারা এবং ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে পরিচর্যা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই শ্যামনগরে এই ১০ লাখ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল।

‘স্বাস্থ্যসেবায় যতেœর ছোঁয়া’: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
‘স্বাস্থ্যসেবায় যতেœর ছোঁয়া’: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা

সংবাদদাতা: ‘স্বাস্থ্যসেবায় যতেœর ছোঁয়া’ স্লোগান এবং ‘সম্মান, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও প্রো-অ্যাক্টিভনেস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরা লিমিটেডে মাসিক সার্ভিস উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসপাতালের কনসালটেশন সেন্টারে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হাসপাতাল ইনচার্জ মুহা. মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, পুষ্টি ও ডায়েট বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ তাছনীম জান্নাত প্রার্থী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম খান, সিনিয়র অফিসার ও হিসাব কর্মকর্তা শেখ শরিফুল আউয়াল, আরএমও ডা. আসলাম হোসেন এবং বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।