বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

কেশবপুর মুরগির ফার্মে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল মুসা সরদারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুর মুরগির ফার্মে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল মুসা সরদারের

কেশবপুর পৌর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা সরদারের পোল্ট্রি ফার্মে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে বিদ্যুৎ স্পর্শে অকালে প্রাণ গেল বিল্লাল সরদারের ছেলে মুছা সরদার (৩৩)। মুছার ছোট ভাই ইউসুফ সরদারের স্ত্রী আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার বেলা আনুমান ১১টায় মুছা সরদার মোস্তফা সরদারের মুরগির ফার্মে কর্মচারী হিসেবে মুরগী দেখাশোনা করতে যায়। এসময় অসাবধানতার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হন তিনি। অবস্থা খারাপ দেখে কেশবপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় থমকে আছে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমিটির চাকা, উপবৃত্তি পাচ্ছে মাত্র ২ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় থমকে আছে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমিটির চাকা, উপবৃত্তি পাচ্ছে মাত্র ২ শতাংশ

মো. হোসেন আলী: সাতক্ষীরা জেলায় ৬৭ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী মানুষের বসবাস থাকলেও তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোর সঠিক প্রয়োগ নেই বললেই চলে। একদিকে শিক্ষা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত বিশাল এক অংশ, অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের সুরক্ষা কমিটিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা, এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন জেলার হাজার হাজার প্রতিবন্ধী মানুষ।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় মোট নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৭২৫ জন মাসিক ভাতা পেলেও শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। শতাংশের হিসেবে যা মোট প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মাত্র ২ শতাংশের সামান্য বেশি। তবে জেলায় মোট প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জেলা শিক্ষা অফিস বা পরিসংখ্যান অফিসে সংরক্ষিত নেই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে না পেরে অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সমাজসেবা কার্যালয় জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় আবেদনকারী সকল যোগ্য শিক্ষার্থীকে এই তালিকার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

উপবৃত্তি না পাওয়ার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। এমনই একজন সাতক্ষীরা সদরের শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আশিস বিশ্বাস, যিনি হাতের কম্পনজনিত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এবারের (২০২৬) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আশিস বলেন, আমি কোনো শিক্ষা উপবৃত্তি পাই না। অভাবের সংসারে পড়াশোনা চালানোই কঠিন। আজ পরীক্ষার দিনেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে সময় নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় পাওয়ার কথা থাকলেও আমাকে তা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়েই খাতা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমার জন্য স্বাভাবিক গতিতে লেখা সম্ভব না।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনেছেন যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে শ্রুতিলেখকের অনুমতি নিতে হয়। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও সহায়তা না পাওয়ায় তিনি সময়মতো আবেদন করতে পারেননি। ফলে নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়েই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে, প্রতিবন্ধকতা যে মেধার পথে বাধা হতে পারে না, তার উদাহরণ মো. সিহাব সিদ্দিকী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি ২০১৯ সালে ‘শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ৬২ জন সদস্যের এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে এসএসসি ও ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেছেন সিহাব।

তবে নিজের অভিজ্ঞতায় বৈষম্যের চিত্রই তুলে ধরেন তিনি। সিহাব বলেন, একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাজীবন এক ধরনের যুদ্ধ। আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় ও শ্রুতিলেখকের সুবিধা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক সময় পাওয়া যায় না। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব অধিকার পেতে অনুরোধ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলায় ভাতার তুলনায় উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম, যা প্রমাণ করে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ কম। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য গঠিত উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলোও কার্যত নিষ্ক্রিয়। নিয়মিত সভা না হওয়ায় তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো সামনে আসে না।

এই প্রতিকূলতার চিত্র আরও ভয়াবহ নারী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই কঠিন, তার ওপর পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়তে হয়। শ্রুতিলেখক বা অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে পরিষ্কারভাবে কেউ আগে থেকে জানায় না। মেয়েদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও কেন্দ্রে ওঠানামার সমস্যাও থাকে। অনেক সময় এসব কারণে ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারি না।

‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় একটি সংবিধিবদ্ধ ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা কমিটি’ থাকার বিধান রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার এই কমিটির সভা হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাতক্ষীরার চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এসব কমিটির কোনো সভা হচ্ছে না।

প্রতিবন্ধীব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত বলেন, আমরা নিয়মিত তদারকির চেষ্টা করি। তবে অনেক সময় দাপ্তরিক ব্যস্ততায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর সভা করা সম্ভব হয় না। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সায়েদুর রহমান মৃধা নিয়মিত সভা না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের উপজেলা পর্যায়ে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে, যে কারণে প্রতি তিন মাস পর পর সভা করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। সাধারণত যখন বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তখনই আমরা সভা আহ্বান করি। তবে নিয়মিত না হলেও বছরে গড়ে ১টি বা ২টি সভা হয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি সামনের দিনগুলোতে এই সমন্বয় আরও বাড়াতে।

গত এক বছরে জমা পড়া অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে এসে মৌখিকভাবে তাদের সমস্যার কথা জানান। আমরা চেষ্টা করি তাৎক্ষণিকভাবে সেসব সমস্যার সমাধান করে দিতে।

উপবৃত্তির সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জেলায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত থাকার মূল কারণ হলো চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের স্বল্পতা। বরাদ্দ কম থাকায় অনেক সময় আবেদনকারী সকল যোগ্য শিক্ষার্থীকে এই তালিকার আওতায় আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এসএম বিপ্লব হোসেন মনে করেন, কমিটির এই নিষ্ক্রিয়তা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এটি একটি সংবিধিবদ্ধ আইন যার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী উপজেলা কমিটিগুলোর নিয়মিত সভা না হওয়া এবং নীতিমালার তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত সময় না দেওয়া সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকারের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করাও তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার শামিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা ‘কাজের চাপে’ সভা করতে না পারার যে অজুহাত দিচ্ছেন, তা আইনি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে বিশেষ একটি জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি আইন ও নীতিমালার এই ব্যত্যয়গুলো দ্রুত সমাধান না করে, তবে ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকারের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রাখেন।

মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, কাজের চাপের অজুহাত দিয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ কমিটির সভা বন্ধ রাখা যায় না। এর ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের অধিকার ও অভাব-অভিযোগ জানানোর কোনো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছেন না। আইন অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সভা না হওয়া মানে তাদের সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া। নিয়মিত তদারকি না থাকায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের স্থায়ী কমিটিগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না।

অপরদিকে, জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে যারা লিখতে পারেন না, তাদের জন্য শ্রুতিলেখক ও সহায়তাকারীর স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নতুন নীতিমালা (২০২৫) অনুযায়ী, একজন পরীক্ষার্থী চাইলে নিজের পছন্দের বা কেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রুতিলেখকের সাহায্যে পরীক্ষা দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী প্রতি ঘণ্টায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাওয়ার অধিকারী।

শিক্ষা অফিস আরও জানায়, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার আগে নির্ধারিত ফরমে কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রুতিলেখকের অনুমতির আবেদন করতে হয়। শ্রুতিলেখককে অবশ্যই পরীক্ষার্থীর চেয়ে অন্তত এক বা দুই ধাপ নিচের ক্লাসের (যেমন এসএসসির জন্য ৮ম বা ৯ম শ্রেণি) শিক্ষার্থী হতে হবে। বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই যোগ্যতা যাচাই করে অনুমোদন প্রদান করেন। তবে শিক্ষা অফিসে এ সংক্রন্ত কোনো অভিযোগ কেউ করেনি।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর বলেন, শ্রুতিলেখকের অনুমতির জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি। এছাড়া কতজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, সে সম্পর্কেও আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। কেউ যদি কোনো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটনও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটনও

স্পোর্টস ডে:
তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৩৩ ওভারে ১৫৭/৩ (লিটন ৫২*, শান্ত ৮১*; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮)

চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে দিশা দেখাচ্ছেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্তর পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন লিটনও। লিটন ১৩তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ৭১ বলে। তাদের পার্টনারশিপ একশও ছাড়িয়েছে।

শান্তর টানা দ্বিতীয় ফিফটি

৩২ রানে তিন উইকেট পড়ার পর জুটি গড়ে দলকে স্থিতি এনে দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। জুটি গড়েছেন তারা। শান্ত সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটির দেখাও পেয়েছেন। তার পঞ্চাশ পূরণ হয়েছে ৭০ বলে। এটা তার ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি।

ও’রুর্কের তৃতীয় শিকার সৌম্য

৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন সৌম্য। কিন্তু নবম ওভারে সেই ও’রুর্কের গতি আর বাউন্সের কাছে পরাস্ত হয়েছেন। বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হয়েছেন ১৮ রানে। তাতে ৩২ রানে পতন হয়েছে তৃতীয় উইকেটের।

ও’রুর্কের আঘাতে সাজঘরে সাইফ-তানজিদ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৩ ওভারের মধ্যে ফিরেছেন দুই ওপেনার। উইল ও’রুর্কের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান (০)। এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও আঘাত হানেন ও’রুর্ক। তার বাউন্সি বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও (১)।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে মোস্তাফিজ

শেষ ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের টস ভাগ্য সহায় হয়নি। টানা তিন ম্যাচেই টস জিতলো নিউজিল্যান্ড। চট্টগ্রামে এবার অবশ্য টস জিতে শুরুতে বোলিং নিয়েছে সফরকারী দল। বাংলাদেশ এবার প্রথমে ব্যাট করবে।

চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১১টায়। ওয়ানডে সিরিজে এখন ১-১ সমতা। তাই তৃতীয় ওয়ানডেটা সিরিজ নির্ধারণী।

একাদশে কারা

শেষ ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার তানভীর ইসলাম। নিউজিল্যান্ড একাদশে পরিবর্তন একটি। বাদ পড়েছেন ব্লেয়ার টিকনার, তার জায়গায় এসেছেন বেন লিস্টার।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, তানভীর ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), মুহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, জেডেন লেনক্স, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও বেন লিস্টার।

 

‘গত ১০ বছরে সেরা খবর শুনলাম’, কেন বললেন সাদিয়া আয়মান?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
‘গত ১০ বছরে সেরা খবর শুনলাম’, কেন বললেন সাদিয়া আয়মান?

দীর্ঘ এক দশক পর নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেফতারের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘গত দশ বছরে সেরা খবর শুনলাম!’

স্ট্যাটাসে এমন প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে সাদিয়া আয়মান বলেন, এত বছর পর দৃশ্যমান একটা কিছু দেখতে পেলাম, এটা স্বস্তি দিচ্ছে, যদিও এখনও বিচার হয়নি বা কবে হবে জানি না, তবু দশ বছর পর হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হলো, নিশ্চয়ই এ প্রক্রিয়া আরও এগোবে- এমনটাই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা করছি।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথম একজনকে গ্রেফতার দেখানো হলো।

প্রসঙ্গত, নাট্যকর্মী তনু হত্যার ঘটনায় সে সময় কেঁপে উঠেছিল সারা দেশ। সরব হয়েছিল দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন। তারকারাও নেমেছিলেন প্রতিবাদে। তৎকালীন সরকারের কাছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে তনু হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে সংস্কৃতিকর্মীরা সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সারা দেশে একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এমনকি কুমিল্লায় রাস্তাও অবরোধ করেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়া জানালেন সাদিয়া আয়মান। তবে এটিই প্রথম নয়—নানা সময়েই সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থাকেন এ অভিনেত্রী।

বর্তমানে ছোটপর্দায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের প্রথম মাইক্রোড্রামা সিরিজ ‘সিলভার সাদিয়া’-তে। এতে তার বিপরীতে দেখা গেছে অ্যালেন শুভ্রকে।

এ প্রসঙ্গে সাদিয়া বলেন, এটি একটি ভিন্নধর্মী নির্মাণ, সামনে হয়তো সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। এতটুকু বলতে পারি এটা গতানুগতিক সিরিজের মতো নয়। প্রতিটিই এক দুই মিনিটের সিরিজ। ইউটিউবের মতো ফ্রেমেও নয়, এ সিরিজের ফ্রেম হবে ফেসবুক রিলসের মতো। আশা করছি সবাই এটা উপভোগ করবেন।

মায়ের দোয়া স্টুডিওজের প্রযোজনায় এটি নির্মাণ করেছেন মিরাজ হোসেইন।