শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস: পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস: পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা, ময়লামুক্ত নদীর পাড়, প্লাস্টিকবিহীন সমুদ্রসৈকত কিংবা আবর্জনামুক্ত শহরÑএসব শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পরিচ্ছন্নতার এ বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস।

২০২৬ সালের বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের প্রতিপাদ্যÑ“পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর”। এবারের কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি খাদ্য অপচয় রোধ, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চক্রাকার অর্থনীতি ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওশিং শহরে দিবসটির বৈশ্বিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাস। ২০০৮ সালে এস্তোনিয়ায় মাত্র পাঁচ ঘণ্টার একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। পুরো দেশকে এক দিনে পরিচ্ছন্ন করার সেই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়। মানুষ নিজ উদ্যোগে জনপরিসর পরিষ্কারের পাশাপাশি বর্জ্য কমানো, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের বিষয়ে সচেতন হতে শুরু করে।

এই ব্যাপক নাগরিক অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে গৃহীত রেজুলেশন ৭৮/১২২-এর মাধ্যমে প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি দিবসটি উদযাপনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।

হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নÑএই ৩আর নীতি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি। এবারের “পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর” প্রতিপাদ্য খাবারের প্লেট থেকে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র তুলে ধরে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে। এর প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার, ২৮ শতাংশ খাদ্য পরিবেশন খাত এবং ১২ শতাংশ খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে অপচয় হয়েছে। বিশ্বে বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্রতিদিন অপচয় হলেও একই সময়ে কোটি কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। খাদ্য অপচয় পরিবেশের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি জড়িত।

পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ও অনুকরণীয় পদ্ধতি রয়েছে। জাপানে বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় খাদ্যবর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আইন, নাগরিক সচেতনতা ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বয় দেখা যায়।

বাংলাদেশের শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা এবং পর্যাপ্ত বর্জ্য পৃথকীকরণের অভাব পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট-এর মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদক ও আমদানিকারকদের দায়িত্বশীল করার লক্ষ্যে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)-ভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; এটি প্রতিদিনের অভ্যাস পরিবর্তনের একটি আহ্বান। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত করা, বাজারে পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ নেওয়া, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলা এবং জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরির মতো ছোট ছোট অভ্যাস বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

একটি পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে শুরু হতে পারে পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, পরিচ্ছন্ন বাড়ি, পরিচ্ছন্ন পাড়া এবং পরিশেষে একটি পরিচ্ছন্ন নগর। আসুন, বর্জ্য ফেলার আগে এর পরিণতি নিয়ে ভাবি এবং পরিচ্ছন্নতাকে শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলি।

 

Ads small one

বেতগ্রাম-কয়রা সড়ক উন্নয়ন: ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পে আশার আলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
বেতগ্রাম-কয়রা সড়ক উন্নয়ন: ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পে আশার আলো

এম.এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতগ্রাম থেকে তালা-পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণ কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’-এর ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আঠারো মাইল (বেতগ্রাম) থেকে তালা উপজেলার মধ্যবর্তী অংশ এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বিলম্ব হওয়ার পর গত জুনে পাইকগাছার কপিলমুনি বাজার অংশে বাঁক সরলীকরণের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে কপিলমুনি ফকিরবাসা ও পাইকগাছা গোলাবাটি মোড়ের বাঁক সরলীকরণে পিচঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।

পথচারী মনিরুজ্জামান মনির ভাষ্যমতে, দেরিতে হলেও কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রয়েছে। বর্ষায় বড় বড় গর্ত আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির যে যন্ত্রণা ছিল, তা অবসান হতে চলেছে।

সওজের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করতে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে কপিলমুনি, গোলাবাটি, গোপালপুরসহ ১০টি পয়েন্টে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীদের চেকের অর্থ হস্তান্তরের পর বর্তমানে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং সুজন কয়রা শাখার সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম জানান, এই সড়কটি যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় উন্নয়নকাজে স্থানীয়রা সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন।
মোজাহার এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাজন আহমেদ ও সওজের খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, চলতি মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট সব কাজ শেষ করে সড়কটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

 

আশাশুনিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪৪ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আশাশুনি উপজেলা শাখা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় আশাশুনি সরকারি কলেজ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘মেধা, সততা, দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ নম্বরের স্লোগান নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী।

উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, জেলা সভাপতি যোবায়ের হোসেন, জামায়াতে ইসলামী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবী আব্দুস সোবহান মুকুল, উপজেলা আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান, যুব বিভাগের সভাপতি চিকিৎসক রোকনুজ্জামান ও সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম এবং সংবর্ধিত শিক্ষার্থী দীপ্তি সরকার, হাবিবা ও দিয়া। অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪৪ শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ। শনিবার রাত আটটার দিকে আলিপুর ইউনিয়নের বুলারআটি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম মাহমুদপুর গ্রামের মৃত মতি সানার ছেলে।

সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিন জানান, আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি কখনো সেনাবাহিনীর মেজর, আবার কখনো পুলিশের ডিআইজিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম ও প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।