মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মশা পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
মশা পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ

প্রকাশ ঘোষ বিধান
মশা পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তপিপাসু এবং জীবনঘাতী পতঙ্গ। মশা আকারে ছোট হলেও পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী জীব। প্রতি বছর মশার কামড়ে হওয়া বিভিন্ন রোগে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। আকারে ছোট হলেও মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর অবস্থান সবার উপরে।
মশা হলো একটি ছোট উড়ন্ত পতঙ্গ, যা তার কামড় এবং রোগ ছড়ানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত। মশা নিজে কোনো রোগ তৈরি করে না। এটি কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায়। রক্ত চোষার সময় মশা মানুষের শরীরে তার লালা প্রবেশ করায়। এই লালার মাধ্যমেই ভাইরাস বা প্যারাসাইট মানুষের রক্তে মিশে যায়।
মশা সত্যিই পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ এবং প্রাণী। আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও এটি বিভিন্ন মারাত্মক রোগ ছড়ানোর মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাঘ, সাপ বা হাঙরের চেয়েও মশার কামড়ে মানুষ বেশি মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মশার কামড়ে হওয়া বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।
জীবাণু বহনকারী এই মশা আসলেই পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ। আকারে অত্যন্ত ছোট হলেও, মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই মশা। পৃথিবীতে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি প্রজাতির মশা রয়েছে। এদের মধ্যে কেবল স্ত্রী মশা মানুষকে কামড়ায়, কারণ ডিম পাড়ার জন্য তাদের রক্তের প্রয়োজন হয়। পুরুষ মশারা রক্ত খায় না, তারা গাছের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। ৩টি প্রধান ক্ষতিকর মশা ও রোগ হলো; এডিস মশা: এই মশার গায়ে সাদা-কালো দাগ থাকে। এটি কামড়ালে ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া রোগ হয়। অ্যানোফিলিস মশা: এই মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া জ্বর হয়। কিউলেক্স মশা: এই মশার মাধ্যমে ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ ছড়ায়।
প্রতিবছর ২০ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব মশা দিবস। ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট চিকিৎসক রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস মশা বাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেছিলেন। ২০ আগস্ট মশা দিবস পালন করা হয় মূলত চিকিৎসক রোনাল্ড রসের আবিষ্কারকে সম্মান জানানোর জন্য। পরবর্তীকালে তিনি এই আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৩০ এর দশক থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি প্রথম পালন করা শুরু করে।
মশা সবসময় জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে ছোট পোকা বা লার্ভা বের হয়। লার্ভাগুলো পানিতে বড় হয়ে কয়েকদিনের মধ্যে উড়ন্ত মশায় পরিণত হয়। প্রজাতি অনুযায়ী ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হওয়ার সময়ের পার্থক্য দেখা যায়। কিছু প্রজাতির ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে সময় লাগে পাঁচ দিনের মত, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে ৪০ দিন বা কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগে। পূর্ণাঙ্গ মশার শারীরিক আকৃতি শূকের ঘনত্ব ও পানিতে খাদ্যের সরবরাহের উপর নির্ভর করে।
এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৩৫১২ প্রজাতির মশা দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত কিউলেক্স মাইমেটিকাসসহ বাংলাদেশে রয়েছে ১১৪ প্রজাতির মশা। একটি মশার ওজন সাধারণত ২.৫ মিলিগ্রাম। মশা ১ থেকে ৩ মাইল পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে, যা ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২.৫ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে। ওরা প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ থেকে ৩০০ বার পর্যন্ত পাখা নাড়াতে পারে।
মশা এক প্রকারের ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ। অধিকাংশ প্রজাতির স্ত্রীমশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে থাকে। মশার দাঁত সংখ্যা ৪৭টি। মশা কিন্তু রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে না। মূলত রক্তের প্রোটিন অংশটি কাজে লাগিয়ে তারা ডিম পাড়ে। নারী মশা সচরাচর ৬-৮ সপ্তাহ বেঁচে থাকে। পুরুষ মশা কখনো হুল ফোটায় না। পুরুষ মশা কেবল একদিন বাঁচে। আর পুরুষ মশা একদিনের বেশি বাঁচলেও; তাদের পরিস্থিতি একেবারেই নাজুক হয়ে পড়ে। এই ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ দীর্ঘ ২৫০০ বছর ধরে পৃথিবীর বুকে টিকে আছে।
মশার ছড়ানো প্রধান মারাত্মক রোগসমূহ হলো ম্যালেরিয়া: অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আফ্রিকা মহাদেশে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গু: এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি এখন বড় মহামারী। চিকুনগুনিয়া: এটিও এডিস মশার কামড়ে হয়। এতে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাস: গর্ভবতী নারীদের এই ভাইরাস আক্রান্ত করলে নবজাতকের মারাত্মক জন্মত্রুটি হতে পারে।
যেকোনো নোংরা বা জমে থাকা পানিতে মশা খুব দ্রুত ডিম পেড়ে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। মশার হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির আশেপাশে বালতি, টব বা ডাবের খোসায় পানি জমতে না দেওয়া। বালতি, ফুলের টব বা টায়ারে ৩ দিনের বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে হবে। ঘরে যাতে মশা ঢুকতে না পারে, সেজন্য জানালায় জালি বা নেট লাগানো। ঘরের কোণে রসুন ও লবঙ্গের ধূপ দিলে মশা দূর হয়। মশা তাড়াতে নিরাপদ মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা। মসকুইটো রিপেলেন্ট বা মশা তাড়ানোর উপাদান হলো এমন কিছু পদার্থ যা ত্বকে, পোশাকে বা ঘরে ব্যবহার করলে মশা দূরে থাকে এবং কামড়াতে পারে না। বাজারে ক্রিম, স্প্রে, লিকুইড ভেপোরাইজার, কয়েল ও রোল-অন আকারে বিভিন্ন ধরনের কার্যকর মসকুইটো রিপেলেন্ট পাওয়া যায়।
মশাকে যতই তুচ্ছ আর অবহেলা করা হোক না কেন, জীবাণু সংক্রমণকারী এই মশাই পৃথিবীতে সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ। মশা মারার ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণেই এখন ডেঙ্গু নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

সম্পাদকীয়/ খাল উন্মুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসন: স্থানীয় উদ্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধানের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ খাল উন্মুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসন: স্থানীয় উদ্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধানের পথ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে বর্ষাকালে সামান্য ভারী বৃষ্টিপাত হলেই বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি তলিয়ে থাকে পানির নিচে। শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শিমনখালী ও বুড়িগোয়ালিনী খালসহ অন্যান্য জলধারা দখল, নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়া এবং অবৈজ্ঞানিক ইজারা বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে আজ এই বিপত্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পাঁচ হাজার বিঘা কৃষি জমির জলনিষ্কাশন পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনা কেবল কৃত্রিম সংকটের জলন্ত প্রমাণ নয়, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
এ অবস্থায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গণশুনানিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্থানীয় জনগণ, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধিদের মুখোমুখি বসে সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং তা সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস স্থানীয় শাসনের ইতিবাচক দিক প্রকাশ করে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জলধারা উন্মুক্তকরণ, নেট-পাটা উচ্ছেদ এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য রেজুলেশন গ্রহণের ঘোষণা উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন।
তবে কেবল আশ্বাস বা সাময়িক নেট-পাটা অপসারণের মধ্য দিয়েই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের অবসান সম্ভব নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায় উপকূলীয় খালগুলো। তাই প্রয়োজন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে খালের ইজারা বা বন্দোবস্ত স্থায়ীভাবে বাতিল করা। পাশাপাশি, প্রতিটি খালের স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত পুনঃখনন অত্যন্ত জরুরি।
উপকূলের জীববৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে এই দুটি খালসহ এলাকার সব জলধারাকে দখলমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক। আমরা আশা করি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত উপজেলা সমন্বয় সভা ও জেলা প্রশাসনে অনুমোদিত হবে এবং প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে উপকূলীয় জলাশয়গুলোকে দখলমুক্ত করে কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটপাট, দেবহাটা থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটপাট, দেবহাটা থানায় অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটায় ২৫ বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, সশস্ত্র হামলা ও মাছসহ নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে দেবহাটা উপজেলার বালিথা গ্রামের ‘ধাপার ঘেরে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রওশন আরা রুবী জানান, স্বামী ফজলুল কাদের খোকনের মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ওই সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর ছেলে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ করে আসছেন। মঙ্গলবার সকালে শরিফুল, আলমগীর ও তুহিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ঘেরে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রওশন আরার ছেলে যায়েদ বিন কাদের (২৪) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লিখিত আসামিরা হলেনÑ শরিফুল ইসলাম (৪৮), আলমগীর হোসেন (৫০), মো. তুহিনুর রহমান এবং মো. রেজাউল করিম। অভিযোগে বলা হয়, গত ২ আগস্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘেরে গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা না দিলে ঘের দখলের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, জিআই পাইপ ও রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা ঘেরে অনধিকার প্রবেশ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান আসামি শরিফুল ইসলাম বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। একই সময় অন্য আসামিরা পাহারাদারের ঘর থেকে মাছ বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা এবং বেড়জাল টেনে আনুমানিক ৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ মণ চিংড়ি ও সাদা মাছ লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীদের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সংবদ্ধভাবে এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চীনে নেওয়ার কথা বলে ভারতের কারাগারে বন্দি জামালপুরের সিরাজুল ৪ বছর পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চীনে নেওয়ার কথা বলে ভারতের কারাগারে বন্দি জামালপুরের সিরাজুল ৪ বছর পর উদ্ধার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): চীনে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ চার বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন সিরাজুল ইসলাম (৫৭) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক। বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তিনি দেশে ফেরেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাছে তাঁকে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা সিরাজুল ইসলাম জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার চারমরিহাট গ্রামের ফরমান আলীর ছেলে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দালাল চক্র চীনে পাঠানোর কথা বলে বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে সিরাজুলকে ভারতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বিহারে পৌঁছানোর পর দালাল তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরার কাজ শুরু করলেও একই বছরের জুলাইয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন তিনি।
পরবর্তীতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদ- দিয়ে বিহার জেলে পাঠায়। চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সাজা মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৮ আগস্ট বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত আনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী জানান, সিরাজুল ইসলামকে আপাতত তাঁদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। আইনি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে তাঁকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।