বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সুযোগসন্ধানী নয়, সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
সুযোগসন্ধানী নয়, সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলুদ সাংবাদিকতা ও ক্লিকবেইট সংস্কৃতির ভিড়ে কোনো সাংবাদিক যখন তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ হাসিলে বেশি মনোযোগী হন, তখন সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমের মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।

সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর মূল লক্ষ্য সত্য প্রকাশ ও ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যখন জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তখন সমাজ ভুল বার্তা পায় এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।

সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা, নির্ভরযোগ্যতা ও উৎস যাচাই করা সাংবাদিকের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শাসকগোষ্ঠীর অনিয়ম-দুর্নীতি সাহসের সঙ্গে তুলে ধরাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সংবাদ পরিবেশনের মূল ভিত্তি সত্য। তাই সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে হবে।

উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ব্যক্তিস্বার্থে গুজব ছড়ানো কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে। হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন করে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে ব্যক্তিস্বার্থ ও বাণিজ্যিক লাভের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।

সাংবাদিকতার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সত্যের পক্ষে থাকা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের যথার্থতা যাচাই করতে হবে। ব্যক্তিগত মতামত, প্ররোচনা ও পক্ষপাত থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনা তুলে ধরতে হবে। কারণ সাংবাদিকতার মূল আনুগত্য সাধারণ মানুষ বা নাগরিকদের প্রতি।

অসত্য ও উসকানিমূলক সংবাদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি কারও জীবনও বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই সংবাদের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক হতে হবে।

সাংবাদিকতা ব্যক্তিগত বা দলীয় লাভের মাধ্যম নয়। এর মূল লক্ষ্য জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকার ও সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাংবাদিকদের এই দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। সুযোগসন্ধানী মানসিকতা সাময়িক সুবিধা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে। গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অটুট রাখতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

একটি সুস্থ, সচেতন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। দায়বদ্ধতাহীন সাংবাদিকতা সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা চর্চাই হোক প্রতিটি সাংবাদিকের অঙ্গীকার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাতীয় যুব দিবসে রক্তদান ও মশক নিধন কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয় যুব দিবসে রক্তদান ও মশক নিধন কর্মসূচি

পত্রদূত ডেস্ক: ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে অধিদপ্তর চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের পঞ্চম দিনের কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক সঞ্জীত কুমার দাস।

বক্তব্যে সঞ্জীত কুমার দাস বলেন, দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আর্তমানবতার সেবায় যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। স্বেচ্ছায় রক্তদান মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে। একইভাবে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রশিক্ষণার্থীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন এবং কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চত্বরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।

পাটকেলঘাটা বাজারে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ জিল্লুর রহমানের গণসংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটা বাজারে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ জিল্লুর রহমানের গণসংযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ জিল্লুর রহমান গণসংযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা বাজার এলাকায় তিনি এ গণসংযোগ করেন।

শেখ জিল্লুর রহমান জেলা জাসাসের আহ্বায়ক। গণসংযোগকালে তিনি বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনা ও ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপি, জাসাস ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় নির্মিত হলো জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র ‘একটি কার্ড, একটি স্বপ্ন’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নির্মিত হলো জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র ‘একটি কার্ড, একটি স্বপ্ন’

পত্রদূত ডেস্ক: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সাতক্ষীরায় নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একটি কার্ড, একটি স্বপ্ন’। ঘাসফড়িং ফিল্মসের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মো. আসিফুল আলম (আসিফ)।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরাসহ শহরের কয়েকটি স্থানে চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য, তথ্য সংগ্রহ, উপকারভোগী নির্বাচন এবং কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় ও সহযোগিতা করেছেন জিয়াউল হক (জিয়া), খালেদুর রহমান (বাচ্চু), ছন্দা, মনিরুল ইসলাম (মনির), মনিরা, আফরিন, বিজলি, মিম, তাসমিন, মায়া, মায়মুনা, ফাতেমা, আল-আমিন ও নয়নসহ অনেকে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যকর্মী, ক্যামেরাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও চিত্রায়ণে সহযোগিতা করেন।

চলচ্চিত্রটির সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিদুল হক। এ ছাড়া বন্ধন টেলিমিডিয়া ও শিল্পী সংসদ সহযোগিতা করেছে।

পরিচালক মো. আসিফুল আলম জানান, সাধারণ মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় চিত্রায়ণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।