মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলাদেশ-নদীমাতৃক দেশের এক অনন্য উদাহরণ। এই ভূখ-ের জন্ম, বিকাশ ও সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদী, খাল-বিল ও পানির ওপর নির্ভর করে। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই পানিই আজ সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব পানি দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে” আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে-বাংলাদেশে কি সত্যিই পানি প্রবাহ আছে? আর থাকলেও তা কি সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের চোখে পড়ে এক জটিল বাস্তবতা-কোথাও পানি বেশি, কোথাও কম; কোথাও পানির গুণগত মান ভয়াবহ, কোথাও প্রাপ্যতা সীমিত; কোথাও নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও বন্যা গ্রাস করছে জনপদ। এই বৈপরীত্যই বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০০টিরও বেশি নদী রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদের অনেকই আজ মৃতপ্রায়। নদীর নাব্যতা হ্রাস, দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা, যমুনা, মেঘনার মতো প্রধান নদীগুলো এখনো শক্তিশালী হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অসংখ্য শাখা নদী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব নদী হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু পানি হারানো নয়; এটি কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সরাসরি আঘাত। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে একদিকে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মাটির নিচের পানি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে-যা একটি দ্বিমুখী সংকট তৈরি করছে। বাংলাদেশে পানি সংকটের অন্যতম বড় দিক হলো এর বৈষম্য। শহরের একটি শ্রেণি সহজেই বোতলজাত পানি কিনতে পারে, কিন্তু গ্রামের দরিদ্র মানুষকে অনেক দূর হেঁটে পানি আনতে হয়। রাজধানী ঢাকায় ওয়াসার মাধ্যমে পানি সরবরাহ থাকলেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক এলাকায় পানির রং, গন্ধ ও স্বাদ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় এখনো অনেক মানুষ নিরাপদ পানির বাইরে রয়েছে। এই বৈষম্য কেবল ভৌগোলিক নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক। দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ফলে পানি সংকট একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং ভেড়িবাঁধের দুর্বলতার কারণে লবণ পানি ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে, পানীয় পানির সংকট বাড়ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মিঠা পানি সংগ্রহ করছে। নারীরা এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আবার ভিন্ন চিত্র। এখানে শুষ্ক মৌসুমে খরা দেখা দেয়। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এই অঞ্চলে পানি সংকট খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। শহরে পানি সংকট একটু ভিন্ন রূপে দেখা দেয়। এখানে পানির প্রাপ্যতা থাকলেও মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্প বর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশন এবং প্লাস্টিক দূষণের কারণে নদী ও খাল দূষিত হচ্ছে। ফলে পানি পরিশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অনেক নদী কার্যত মৃত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের নদীগুলো আজ দূষণের ভারে ন্যুব্জ। শিল্প বর্জ্য, রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিক এবং গৃহস্থালি বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
এর ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর প্রয়োগ দুর্বল। বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানি একটি প্রধান উৎস। কিন্তু অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আর্সেনিক সমস্যা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অনেক এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বিপজ্জনক। এটি একটি নীরব স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের পানি সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস-সবকিছুই পানির স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল মনিটরিং এবং রাজনৈতিক প্রভাব বড় বাধা। বাংলাদেশে পানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে। তবে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় উদ্যোগে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কমিউনিটি ব্যবস্থাপনা-এসব উদ্যোগ টেকসই সমাধানের পথ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের পানি সংকট মোকাবেলায় জরুরি কিছু পদক্ষেপ-নদী পুনরুদ্ধার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবহার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি।
এখনই সময় পানি সংকট এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি বর্তমান বাস্তবতা। “পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে”-এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা আজ কী সিদ্ধান্ত নিই তার ওপর। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ পানি সংকট রেখে যাব। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার রেজাকাটি শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীর হাতে জমির মালিক দম্পতি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই (সোমবার) জমির মালিক ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক কাকরকে অভিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর রেজাকাটি মৌজার ৩৭৫৪ নম্বর দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সূত্রে ফিরোজা খাতুন ডাঙ্গা ও অন্যান্য শ্রেণিতে মোট ১৮.৩৮ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছগাছালিও রোপণ করেছিলেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের আয়াকে দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলেন এবং উক্ত বিতর্কিত জমিতেই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন।
গত ২০ জুলাই সকালে ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আব্দুল হাদিস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে ভবন করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল হাদিসকে মারধর ও গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। ফিরোজা বেগমের জমি স্কুলের ভেতর রয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই; সরকারিভাবে নকশা এলে জমি মেপে দেখা হবে।
যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুয়া এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শেষ ধাপের তদন্ত শেষে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই অভিযোগের ওপর তদন্ত চালান। এতে উপজেলার ৩৪ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জমা দেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের রিট মামলার খরচ বাবদ শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম মিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।
তদন্তে হাজির হয়ে অভিযোগকারী হিসেবে নাম থাকা সহকারী শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো কাগজে সই করেননি; তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফোনে যোগাযোগের পর অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলন, মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার তাঁর সই জাল করেছেন।
অবশ্য বাবুল আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ বক্তব্যের পরই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পাইকগাছা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনকে হেয় করতে একদল শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।