শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস: পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস: পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা, ময়লামুক্ত নদীর পাড়, প্লাস্টিকবিহীন সমুদ্রসৈকত কিংবা আবর্জনামুক্ত শহরÑএসব শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পরিচ্ছন্নতার এ বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস।

২০২৬ সালের বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের প্রতিপাদ্যÑ“পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর”। এবারের কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি খাদ্য অপচয় রোধ, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চক্রাকার অর্থনীতি ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওশিং শহরে দিবসটির বৈশ্বিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাস। ২০০৮ সালে এস্তোনিয়ায় মাত্র পাঁচ ঘণ্টার একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। পুরো দেশকে এক দিনে পরিচ্ছন্ন করার সেই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়। মানুষ নিজ উদ্যোগে জনপরিসর পরিষ্কারের পাশাপাশি বর্জ্য কমানো, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের বিষয়ে সচেতন হতে শুরু করে।

এই ব্যাপক নাগরিক অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে গৃহীত রেজুলেশন ৭৮/১২২-এর মাধ্যমে প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি দিবসটি উদযাপনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।

হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নÑএই ৩আর নীতি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি। এবারের “পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর” প্রতিপাদ্য খাবারের প্লেট থেকে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র তুলে ধরে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে। এর প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার, ২৮ শতাংশ খাদ্য পরিবেশন খাত এবং ১২ শতাংশ খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে অপচয় হয়েছে। বিশ্বে বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্রতিদিন অপচয় হলেও একই সময়ে কোটি কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। খাদ্য অপচয় পরিবেশের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি জড়িত।

পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ও অনুকরণীয় পদ্ধতি রয়েছে। জাপানে বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় খাদ্যবর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আইন, নাগরিক সচেতনতা ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বয় দেখা যায়।

বাংলাদেশের শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা এবং পর্যাপ্ত বর্জ্য পৃথকীকরণের অভাব পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট-এর মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদক ও আমদানিকারকদের দায়িত্বশীল করার লক্ষ্যে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)-ভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; এটি প্রতিদিনের অভ্যাস পরিবর্তনের একটি আহ্বান। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত করা, বাজারে পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ নেওয়া, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলা এবং জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরির মতো ছোট ছোট অভ্যাস বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

একটি পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে শুরু হতে পারে পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, পরিচ্ছন্ন বাড়ি, পরিচ্ছন্ন পাড়া এবং পরিশেষে একটি পরিচ্ছন্ন নগর। আসুন, বর্জ্য ফেলার আগে এর পরিণতি নিয়ে ভাবি এবং পরিচ্ছন্নতাকে শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলি।

 

Ads small one

দেশে প্রথমবার ‘ইমোশনাল ডোনার’ দিয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
দেশে প্রথমবার ‘ইমোশনাল ডোনার’ দিয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার পর নতুন জীবনের পথে ফিরেছেন এক রোগী। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন স্বেচ্ছাদাতার কিডনি নিয়ে সফলভাবে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে তার শরীরে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা ‘আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত’ স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রোগী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত চিকিৎসক, স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিএমইউ। এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

উপাচার্য জানান, ইমোশনাল ডোনার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো কাজ করছে। সম্ভাব্য ডোনারের আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পরই প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ টিম ডোনারের মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করে। রোগীর সঙ্গে ডোনারের সম্পর্ক, দানের স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ কি না, তাও যাচাই করা হয়।

তবে কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই বলে কঠোরভাবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “অর্থের বিনিময়ে কিডনি দান বা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে।”

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমও চলমান রয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিএমইউ আরও সক্ষমতা অর্জন করছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনার কিডনি প্রতিস্থাপন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশেই এ ধরনের জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে। এতে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপও কমানো সম্ভব হবে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, এই সফলতা শুধু একটি রোগীর চিকিৎসায় সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত একজন রোগী গত ১০ আগস্ট ২০২৬ বিএমইউতে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ৩১ আগস্ট তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা ওই রোগীকে কিডনি দান করেন।

সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার এই মুহূর্তটি আবেগঘন করে তোলে পুরো আয়োজন। রোগী ও তাঁর স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহম্মদ, গ্রহীতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, ডোনার টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্যরা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিএমইউর এই সফলতা দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনসম্মত, নিরাপদ ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে অঙ্গদানের সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেতগ্রাম-কয়রা সড়ক উন্নয়ন: ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পে আশার আলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
বেতগ্রাম-কয়রা সড়ক উন্নয়ন: ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পে আশার আলো

এম.এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতগ্রাম থেকে তালা-পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণ কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’-এর ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আঠারো মাইল (বেতগ্রাম) থেকে তালা উপজেলার মধ্যবর্তী অংশ এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বিলম্ব হওয়ার পর গত জুনে পাইকগাছার কপিলমুনি বাজার অংশে বাঁক সরলীকরণের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে কপিলমুনি ফকিরবাসা ও পাইকগাছা গোলাবাটি মোড়ের বাঁক সরলীকরণে পিচঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।

পথচারী মনিরুজ্জামান মনির ভাষ্যমতে, দেরিতে হলেও কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রয়েছে। বর্ষায় বড় বড় গর্ত আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির যে যন্ত্রণা ছিল, তা অবসান হতে চলেছে।

সওজের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করতে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে কপিলমুনি, গোলাবাটি, গোপালপুরসহ ১০টি পয়েন্টে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীদের চেকের অর্থ হস্তান্তরের পর বর্তমানে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং সুজন কয়রা শাখার সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম জানান, এই সড়কটি যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় উন্নয়নকাজে স্থানীয়রা সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন।
মোজাহার এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাজন আহমেদ ও সওজের খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, চলতি মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট সব কাজ শেষ করে সড়কটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

 

শিকড়ী স্কুল মোড় থেকে বৈকারী বাজার সড়কের বেহাল দশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
শিকড়ী স্কুল মোড় থেকে বৈকারী বাজার সড়কের বেহাল দশা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী-কুশখালী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ শিকড়ী কাথন্ডা-বৈকারী বাজার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য এটি প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি দিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে মাটির পথ বের হয়ে এসেছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। বৈকারী বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষের জেলা ও উপজেলা সদরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাথন্ডা আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন ও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন অবস্থা হলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
ভোগান্তি নিরসনে শিকড়ী হাই স্কুল মোড় থেকে বৈকারী বাজার পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত ও টেকসই পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দগুলো ভরাট করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।