সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ঝুঁকি বেড়েছে। এতে জ্বালানি তেল আমদানিতে সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রভাব দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে এখনই পড়ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সরকার আগেই জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাব আল-মানদেব নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের সময় দীর্ঘ হলে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানান, মোখায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তরল জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানান, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে আরও ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ঠিক এই সময়ে এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু বৈশ্বিক তেলের বাজারেই নয়, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও এখনই তা ভোক্তার কাঁধে বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসেও একই দাম বহাল রাখা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরেও দাম অপরিবর্তিত থাকায় টানা চতুর্থ মাসে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানো বা কমানো হয়নি।

লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে সরু জলপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি। হরমুজের পর তেল পরিবহনে বিকল্প জলপথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কিন্তু গত শুক্রবার বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথিরা। তারা বন্দরনগর মোখা দখল করেছে।

গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর এক সপ্তাহে এখন তেলের দামের সবচেয়ে বড় উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আনার ক্ষেত্রে বাব আল-মানদেব গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশগামী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারকে এই প্রণালি এড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এতে যেখানে বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে আসতে প্রায় ১৬ দিন লাগতো, সেখানে ঘুরপথে সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। এভাবে একটি ট্যাংকারে বাড়তি ব্যয় হতে পারে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত বলে জানিয়েছে জাহাজের সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানির প্রধান নৌপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে তেল আনার পথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখন বাব আল-মানদেবেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামনে বাড়বে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার।

তবে বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেল আমদানির সময় ও ব্যয় কতটা বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে পড়বে কিনা, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানির পরবর্তী ব্যয়ের ওপর।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, এর ফলে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাবে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এমনিতেই ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। এই দাম আরও বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হলো। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এখনই আমেরিকায় গ্যালনপ্রতি ডিজেলের দাম ছয় ডলার ছাড়িয়েছে, যা সর্বোচ্চ। এটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজার নিয়ে কাজ করে আসা অয়েল ডটকম তাদের এক খবরে জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছিল তেলের দাম। বর্তমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি আবার চলে যেতে পারে তেলের দাম।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জামায়াতের যুব দায়িত্বশীল বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জামায়াতের যুব দায়িত্বশীল বৈঠক

Oplus_131072

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব বিভাগের এক সাংগঠনিক ও দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আল-আমীন ট্রাস্ট জেলা কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ।
উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক আশরাফুল আলম বুলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য শহীদ হাসান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল শক্তি যুবসমাজ। যুবকদের দক্ষ, নীতিবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পাদকীয়/ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবহেলিত শিক্ষাঙ্গন: উপকূলীয় জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবহেলিত শিক্ষাঙ্গন: উপকূলীয় জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত জরুরি

উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় দুটি ভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামোর জরাজীর্ণ অবস্থার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে পলেস্তারা খসে পড়া অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় বসে সেবা দিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের, অন্যদিকে সদর উপজেলার বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা ও ঢাকনাবিহীন খোলা ড্রেনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক শিক্ষাÑএই দুটি খাত যেকোনো সমাজের মূল ভিত্তি। তবে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরাজমান নিরাপত্তা ঝুঁকি স্পষ্ট করে দেয় কীভাবে গ্রামীণ অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো স্থায়ী তদারকির অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে।

নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় আড়াই দশকে কোনো দৃশ্যমান বড় সংস্কার দেখেনি। ছাদের ঢালাই ধসে ইতোমধ্যে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মূল কক্ষ ছেড়ে বারান্দায় চিকিৎসা প্রদান কিংবা পাশের ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও গ্রহণÑউভয়ই চরম উদ্বেগজনক। একইভাবে বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটকে উন্মুক্ত ড্রেন ও মাঠে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা শিশুদের নিরাপত্তাকে সংকটে ফেলেছে। ফলে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ উভয় সংকটেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে একাধিকবার অবহিত করা সত্ত্বেও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো গ্রামীণ অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের দ্রুত পুনর্বাসন বা নতুন ভবন নির্মাণের আগপর্যন্ত একটি নিরাপদ বিকল্প স্থানে স্বাস্থ্যসেবা স্থানান্তর করা জরুরি। একই সঙ্গে বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং খোলা ড্রেনে অবিলম্বে ঢাকনা বসিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই অচলাবস্থা থেকে স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করতে।

শ্যামনগরে জেন্ডার সমতা ও অধিকারবিষয়ক উঠান বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জেন্ডার সমতা ও অধিকারবিষয়ক উঠান বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় এলাকায় নারী ও জেন্ডার সমতা, অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান’-এর উদ্যোগে ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মু-া পাড়ায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে এলাকার ২০ জন প্রান্তিক উপকূলীয় নারী অংশ নেন।

সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরতি সরকারের পরিচালনায় বৈঠকে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ, সমমজুরি, সমান শিক্ষার সুযোগ, গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি এবং নারী নির্যাতন বন্ধে সামাজিক সচেতনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।