বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

সোহাগ হোসেন

শিশুরা একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষানির্ভর পরিবেশে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়েই একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো সমাজের একটি অংশের শিশু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত থেকে। এবারের প্রতিপাদ্যÑ “শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করি”— আমাদের সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

শিশুশ্রম কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটি মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। যে বয়সে একটি শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার, খেলাধুলা করার এবং নিজের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের কথা, সে বয়সে অনেক শিশু জীবিকার তাগিদে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। এর ফলে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এবং স্বাভাবিক শৈশব হারাচ্ছে।

শিশু শ্রমের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করা হলেও বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং সস্তা শ্রমের চাহিদাও এই সমস্যাকে জিইয়ে রাখছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু শ্রম সহজে দৃশ্যমান না হওয়ায় সমস্যাটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে, যখন তার প্রতিটি শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে। শিশু শ্রমের কারণে একটি শিশু যেমন নিজের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি দেশও হারায় একজন সম্ভাবনাময় নাগরিককে। ফলে শিশু শ্রম নিরসনকে শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।

শিশু শ্রম রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ সমূহ:
প্রথমত, শিশু শ্রমের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে পরিবারগুলো সন্তানদের শ্রমে পাঠাতে বাধ্য না হয়।

দ্বিতীয়ত, সকল শিশুর জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয় ত্যাগকারী শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় ও বাস্তবমুখী করে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, শিশু শ্রম সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থত, শিশু শ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার, নিয়োগকর্তা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পঞ্চমত, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে শিশু শ্রম প্রতিরোধে শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো শিশু শ্রমে জড়িত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ষষ্ঠত, ইতোমধ্যে শ্রমে জড়িত শিশুদের পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে শ্রম থেকে সরিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিশু শ্রম নির্মূল কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি উন্নত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত। তাই শিশুদের হাতে শ্রমের সরঞ্জাম নয়, শিক্ষা ও স্বপ্নের আলো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা

 

 

 

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।