রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

সোহাগ হোসেন

শিশুরা একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষানির্ভর পরিবেশে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়েই একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো সমাজের একটি অংশের শিশু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত থেকে। এবারের প্রতিপাদ্যÑ “শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করি”— আমাদের সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

শিশুশ্রম কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটি মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। যে বয়সে একটি শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার, খেলাধুলা করার এবং নিজের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের কথা, সে বয়সে অনেক শিশু জীবিকার তাগিদে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। এর ফলে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এবং স্বাভাবিক শৈশব হারাচ্ছে।

শিশু শ্রমের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করা হলেও বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং সস্তা শ্রমের চাহিদাও এই সমস্যাকে জিইয়ে রাখছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু শ্রম সহজে দৃশ্যমান না হওয়ায় সমস্যাটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে, যখন তার প্রতিটি শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে। শিশু শ্রমের কারণে একটি শিশু যেমন নিজের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি দেশও হারায় একজন সম্ভাবনাময় নাগরিককে। ফলে শিশু শ্রম নিরসনকে শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।

শিশু শ্রম রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ সমূহ:
প্রথমত, শিশু শ্রমের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে পরিবারগুলো সন্তানদের শ্রমে পাঠাতে বাধ্য না হয়।

দ্বিতীয়ত, সকল শিশুর জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয় ত্যাগকারী শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় ও বাস্তবমুখী করে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, শিশু শ্রম সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থত, শিশু শ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার, নিয়োগকর্তা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পঞ্চমত, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে শিশু শ্রম প্রতিরোধে শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো শিশু শ্রমে জড়িত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ষষ্ঠত, ইতোমধ্যে শ্রমে জড়িত শিশুদের পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে শ্রম থেকে সরিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিশু শ্রম নির্মূল কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি উন্নত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত। তাই শিশুদের হাতে শ্রমের সরঞ্জাম নয়, শিক্ষা ও স্বপ্নের আলো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা

 

 

 

Ads small one

ইমাম ফজলুর রহমানকে যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের সম্মাননা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:২২ পূর্বাহ্ণ
ইমাম ফজলুর রহমানকে যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের সম্মাননা

সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক ইমামকে বিশেষ সম্মাননা ও হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার নতুন বাজার মাছখোলা পশ্চিম পাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম ফজলুর রহমানের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন এবং সমাজে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনের তরুণরা এই উদ্যোগ নেন। মসজিদের ডিজিটাল নামাজ সময়সূচির সামনে এক আন্তরিক পরিবেশে ইমাম সাহেবের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপহার প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাস্টার আশরাফুল ইসলাম, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

পাটকেলঘাটায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: টেকসই কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বালাইনাশকের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় এক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে স্থানীয় ‘বাঁধন ফুড প্যালেস’-এ এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এলাকার ৫০ জন মডেল কৃষক এতে অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ খুলনার রিজনাল সেলস ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের সাতক্ষীরা অঞ্চলের টিএসও রবিউল ইসলাম, পাটকেলঘাটা বাজারের ডিলার ও মেসার্স মায়ের দোয়া বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম টুটুল এবং মেসার্স মুকুন্দ সীড ফার্মের ডিলার কেশব কুমার সাধু। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষি উদ্যোক্তা ও খুচরা বিক্রেতারাও (রিটেইলার) উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় জৈব বালাইনাশকের (বায়োপেস্টিসাইড) গুরুত্ব, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিষয়ে কৃষকদের ব্যবহারিক ধারণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড সবজি বীজ ও জৈব বালাইনাশক বিতরণ করা হয়।

পাটকেলঘাটায় প্রতারণার শিকার নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় প্রতারণার শিকার নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক নারী প্রতারণা ও সর্বস্ব খোয়ানোর শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ক্ষোভে কপোতাক্ষ নদের তীরে ইকো পার্কে ওই নারী বিষাক্ত বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী অঞ্জনা দাসের (২৫) বাড়ি তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামে। পাঁচ বছর আগে বিয়ে হওয়া অঞ্জনার তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সুকুমার দাসের ছেলে সম্রাট দাসের (৩০) সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্রাট দাসও বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।
গত ৫ জুন সন্ধ্যায় নতুন করে সংসার বাঁধার প্রলোভন দেখিয়ে অঞ্জনাকে পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ ইকো পার্কে ডেকে আনেন সম্রাট দাস। খিলঘাটা পপুলার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অঞ্জনা দাস জানান, ইকো পার্কে দীর্ঘ সময় কাটানোর একপর্যায়ে সম্রাট তাঁর কানের দুল, গলার চেইন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মেমোরি কার্ড কেড়ে নেন এবং তাঁর ওপর নির্যাতন চালান। এরপর সম্রাট তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে গেলে অঞ্জনা সেখানেই বিষাক্ত বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় পথচারীরা অচেতন অবস্থায় অঞ্জনাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটকেলঘাটার ‘সেবা ক্লিনিক’ ও পরে ‘স্বাগতা ক্লিনিক’-এ নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে রাতে তাঁকে পাটকেলঘাটা বলফিল্ড মোড়ের ‘পপুলার ক্লিনিক’-এ ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর অঞ্জনা কিছুটা সুস্থ হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের সন্ধান পায়।
এই ঘটনায় অঞ্জনার পরিবার পাটকেলঘাটা ও কালীগঞ্জÑউভয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত সম্রাট দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।