সন্তানের দায়বদ্ধতা: পিতা-মাতার সম্মান যেখানে শেষ ঠিকানা
মাসুদ রানা
আমরা সবাই মাটির মানুষ এবং মাটিই আমাদের শেষ ঠিকানা। এই ধরণীতে জন্ম নিলে মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের কর্মই তার আসল পরিচয় নির্ধারণ করে। বিশেষ করে একটি সন্তানের কর্মের ওপর নির্ভর করে তার পিতা-মাতার সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক শান্তি।
পিতা-মাতার স্বপ্ন বনাম অপরাধবোধ: পৃথিবীর কোনো পিতা-মাতা চান না তাদের সন্তান সমাজে খারাপ পথে চলুক। প্রতিটি বাবা-মা স্বপ্ন দেখেন-তার সন্তান সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করবে, মানুষ তাদের সন্তানকে সম্মান করবে। কোনো আদর্শ পিতা-মাতা চান না তার সন্তান টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিংবা মাদকের মতো মরণব্যাধিতে আসক্ত হোক।
যখন কোনো সন্তান অপরাধ বা সমাজবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, তখন সমাজের মানুষ আঙুল তোলে পিতা-মাতার দিকে। “অমুকের ছেলে খুবই খারাপ, সে সমাজের জন্য বিপজ্জনক”-এই একটি বাক্য যখন একজন পিতা-মাতার কানে পৌঁছায়, তখন তারা তীব্র অপরাধবোধে ভোগেন। সন্তানকে জন্ম দেওয়াটাই তখন তাদের কাছে এক মহাসংকট ও পাপ বলে মনে হয়।
অপরদিকে, যখন সমাজ বা রাষ্ট্রের মানুষ বলে, “অমুকের সন্তান সমাজের জন্য কল্যাণকর কাজ করছে,” তখন পিতা-মাতার বুক গর্বে ভরে ওঠে। সন্তানের সততার আলোয় আলোকিত হন জন্মদাতারা।
“সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে সবার আগে নিজের মন-মানসিকতা বদলাতে হবে। নিজেকে সৎ ও কর্তব্যপরায়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আসল প্রতিষ্ঠা।”
পিতা-মাতার নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আমাদের অঙ্গীকার: সন্তান প্রতিবন্ধী, মাদকাসক্ত কিংবা ছন্নছাড়া-যাই হোক না কেন, পৃথিবীর সব পিতা-মাতার কাছে তাদের সন্তানই সেরা। পিতা-মাতার এই নিঃশর্ত ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া প্রতিটি সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।
আমি চলার পথে কোনো অন্যায় করলে সমাজে আমার পিতা-মাতা অপমানিত হবেন-এই বোধটি যদি প্রতিটি তরুণ ও যুবকের হৃদয়ে জাগ্রত থাকে, তবে সমাজ থেকে অপরাধ এমনিতেই দূর হয়ে যাবে। আগামী প্রতিটি দিন যেন আমরা আমাদের পিতা-মাতাকে সমাজে সম্মানিত করার প্রত্যয় নিয়ে চলতে পারি, আজকের দিনে এটাই হোক সবার দৃঢ় প্রত্যাশা। লেখক: সংবাদকর্মী









