বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-সংকট, পরিবর্তন ও উত্তরণের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-সংকট, পরিবর্তন ও উত্তরণের পথ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতিসত্তা, আর সেই সত্তার সবচেয়ে জীবন্ত প্রকাশ ঘটে সংস্কৃতির মাধ্যমে। বাংলাদেশ-একটি নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর, গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা দেশ-তার সংস্কৃতির দিক থেকে এক অসামান্য বৈচিতত্র্য ও ঐশ্বর্য্যরে অধিকারী। হাজার বছরের বিবর্তনে এখানে সৃষ্টি হয়েছে লোকজ ঐতিহ্যের এক বিস্তৃত ভা-ার, যা শুধু বিনোদনের উপাদান নয়, বরং মানুষের জীবনবোধ, সামাজিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ ও চেতনার প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে-এই ঐতিহ্য কি আগের মতো জীবন্ত আছে? নাকি আধুনিকতার প্রবল গ্রোতে ধীরে ধীরে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে? বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি আজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে একদিকে রয়েছে প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের অগ্রযাত্রা, অন্যদিকে রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূল শিকড় গ্রামবাংলায় প্রোথিত। দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষের জীবন ছিল কৃষিকেন্দ্রিক, প্রকৃতিনির্ভর এবং সামষ্টিক। সেই জীবনধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল নানান উৎসব, আচার ও বিনোদনের মাধ্যম। নবান্ন উৎসব ছিল নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্ত, যা শুধু কৃষকের নয়, পুরো সমাজের জন্য ছিল এক উৎসব। একইভাবে বর্ষাকালে নদীভিত্তিক জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে নৌকাবাইচ ছিল এক অনন্য ঐতিহ্য। শীতকালে যাত্রাপালা, পুঁথিপাঠ, পালাগান-এসব ছিল বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যম। এসবের মাধ্যমে সমাজের নৈতিকতা, ইতিহাস, ধর্মীয় কাহিনি ও সামাজিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যেত। বৈশাখী মেলা ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে গ্রামীণ উৎপাদন, কারুশিল্প ও লোকজ শিল্পের বিকাশ ঘটত। এই সংস্কৃতিগুলো শুধু উৎসব নয়; এগুলো ছিল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম। প্রতিবেশী, আত্মীয়, বন্ধু-সবাই একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করত। ফলে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হতো, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বাড়ত। বিশ্বায়ন, নগরায়ণ ও প্রযুক্তির বিকাশ বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশেষ করে গত দুই দশকে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনের বিস্তার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে, অন্যদিকে তা সংস্কৃতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এখন মানুষ বিনোদনের জন্য আর গ্রামীণ উৎসব বা লোকজ আয়োজনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা ঘরে বসেই বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের বিনোদন উপভোগ করতে পারছে। ফলে ধীরে ধীরে লোকজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতের ধারক-বাহক, তারা দেশীয় ঐতিহ্যের চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, নিয়ন্ত্রণহীন হলে তা সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, একসময় জনপ্রিয় ছিল এমন অনেক লোকজ সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে গেছে। নবান্ন উৎসব এখন অনেক জায়গায় শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। নৌকাবাইচ আয়োজন কমে গেছে নদীর নাব্যতা সংকট ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। যাত্রাপালা, যা একসময় গ্রামীণ বিনোদনের প্রাণ ছিল, এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। পুঁথিপাঠ, বায়োস্কোপ, সাপ খেলা, লাঠিখেলা-এসব ঐতিহ্য এখন কেবল ইতিহাসের অংশ। বৈশাখী মেলাগুলোও তাদের আগের রূপ হারিয়ে ফেলেছে; অনেক ক্ষেত্রে তা বাণিজ্যিকতার কারণে স্বকীয়তা হারাচ্ছে। গ্রামীণ খেলাধুলা-যেমন দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি-এসবও এখন শিশুদের কাছে অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে। তার জায়গা দখল করেছে মোবাইল গেম ও ভার্চুয়াল বিনোদন। সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে একটি উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণ, এখন সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। মানুষ এখন নিজ নিজ জগতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে, ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে। সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতির পরিবর্তনের পেছনে পরিবেশগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর নাব্যতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-এসব কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। যেমন, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌকাবাইচ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক কারণও একটি বড় ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ মানুষ এখন জীবিকার চাপে আগের মতো সময় দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো টিকে থাকতে পারছে না, ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে জমিদার বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাংস্কৃতিক আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। বর্তমানে সেই পৃষ্ঠপোষকতা কমে গেছে। সরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক নীতির অভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশার আলো রয়েছে। বাংলাদেশে এখনও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি মানুষের একটি আবেগ রয়েছে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন, লোকসংগীতের জনপ্রিয়তা, গ্রামীণ মেলা-এসবই প্রমাণ করে যে সংস্কৃতি এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন-স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে লোকজ সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন করতে হবে, যাতে মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। লোকশিল্পী ও কারুশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লোকজ সংস্কৃতি ভিত্তিক অনুষ্ঠান বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের আকৃষ্ট করতে হবে। আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মা। এটি হারিয়ে গেলে জাতির পরিচয়ও সংকটে পড়ে। বাংলাদেশ তার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য বিশ্বে পরিচিত। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, কিন্তু সেই পথে যেন আমরা আমাদের শিকড় ভুলে না যাই। আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি-যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্য পাশাপাশি চলবে। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ের পাতায় পড়বে নবান্ন, নৌকাবাইচ বা যাত্রাপালার গল্প। কিন্তু যদি আমরা এখনই উদ্যোগ নিই, তাহলে হয়তো আবারও ফিরে আসবে সেই হারানো দিন-যেখানে গ্রামবাংলা ভরে উঠবে উৎসবের আনন্দে, আর বাংলাদেশ তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই: আলোচনা সভার বক্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই: আলোচনা সভার বক্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী সিপিজি কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ।

সিএমসি সভাপতি মাহামুদা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বনভিবাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন। সিএমসি সদস্য আবু ফরিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী, কলাগাছিয়া বনবিভাগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুলজ কুমার দ্বীপ, ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম রেজাউল করিম, সিপিজি সদস্য পঞ্চি রানী ও রুহুল আমিন, সিএমসি সদস্য আব্দুর রশিদ এবং উপকূল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম।

বক্তারা বলেছেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু বাংলাদেশের জাতীয় গর্ব নয়, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

দেবহাটায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী

সংবাদদাতা: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার আয়োজনে ও দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন ও দেবহাটা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আলিম,
সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুহা: মুনিরুদ্দীন, দেবহাটা সরকারি বি. বি. এম.পি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দেবহাটা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আকবর আলী, দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ শাহজাহান আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জয়দেব কুমার পাল, দেবহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মির্জা মুহসিন আলী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, দেবহাটা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল আজাদ প্রমুখ।

 

ফাইনালে বিতর্কের বিষয় ছিল- দুর্নীতি দমনের জন্য আইন ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন এবং বিতর্কের বিপক্ষ দল হিসাবে অংশ নেয় পারুলিয়া এসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার লাভ করেন আফরিনা আলম পাপড়ি

রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেবহাটা উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, দেবহাটা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান।

 

 

 

দেবহাটায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা।

সভায় বক্তব্য রাখেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল বারী মোল্লা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিফুল ইসলাম, পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কাজল, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি উজ্জ্বল, দেবহাটা বিজিবির নায়েব সুবেদার সোলাইমান হোসেন, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ আব্দুস সাত্তার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজসহ বিজিবি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবিকে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে জানানো হয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মিলন সাহা বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।