শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-সংকট, পরিবর্তন ও উত্তরণের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-সংকট, পরিবর্তন ও উত্তরণের পথ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতিসত্তা, আর সেই সত্তার সবচেয়ে জীবন্ত প্রকাশ ঘটে সংস্কৃতির মাধ্যমে। বাংলাদেশ-একটি নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর, গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা দেশ-তার সংস্কৃতির দিক থেকে এক অসামান্য বৈচিতত্র্য ও ঐশ্বর্য্যরে অধিকারী। হাজার বছরের বিবর্তনে এখানে সৃষ্টি হয়েছে লোকজ ঐতিহ্যের এক বিস্তৃত ভা-ার, যা শুধু বিনোদনের উপাদান নয়, বরং মানুষের জীবনবোধ, সামাজিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ ও চেতনার প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে-এই ঐতিহ্য কি আগের মতো জীবন্ত আছে? নাকি আধুনিকতার প্রবল গ্রোতে ধীরে ধীরে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে? বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি আজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে একদিকে রয়েছে প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের অগ্রযাত্রা, অন্যদিকে রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূল শিকড় গ্রামবাংলায় প্রোথিত। দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষের জীবন ছিল কৃষিকেন্দ্রিক, প্রকৃতিনির্ভর এবং সামষ্টিক। সেই জীবনধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল নানান উৎসব, আচার ও বিনোদনের মাধ্যম। নবান্ন উৎসব ছিল নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্ত, যা শুধু কৃষকের নয়, পুরো সমাজের জন্য ছিল এক উৎসব। একইভাবে বর্ষাকালে নদীভিত্তিক জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে নৌকাবাইচ ছিল এক অনন্য ঐতিহ্য। শীতকালে যাত্রাপালা, পুঁথিপাঠ, পালাগান-এসব ছিল বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যম। এসবের মাধ্যমে সমাজের নৈতিকতা, ইতিহাস, ধর্মীয় কাহিনি ও সামাজিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যেত। বৈশাখী মেলা ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে গ্রামীণ উৎপাদন, কারুশিল্প ও লোকজ শিল্পের বিকাশ ঘটত। এই সংস্কৃতিগুলো শুধু উৎসব নয়; এগুলো ছিল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম। প্রতিবেশী, আত্মীয়, বন্ধু-সবাই একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করত। ফলে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হতো, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বাড়ত। বিশ্বায়ন, নগরায়ণ ও প্রযুক্তির বিকাশ বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশেষ করে গত দুই দশকে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনের বিস্তার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে, অন্যদিকে তা সংস্কৃতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এখন মানুষ বিনোদনের জন্য আর গ্রামীণ উৎসব বা লোকজ আয়োজনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা ঘরে বসেই বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের বিনোদন উপভোগ করতে পারছে। ফলে ধীরে ধীরে লোকজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতের ধারক-বাহক, তারা দেশীয় ঐতিহ্যের চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, নিয়ন্ত্রণহীন হলে তা সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, একসময় জনপ্রিয় ছিল এমন অনেক লোকজ সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে গেছে। নবান্ন উৎসব এখন অনেক জায়গায় শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। নৌকাবাইচ আয়োজন কমে গেছে নদীর নাব্যতা সংকট ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। যাত্রাপালা, যা একসময় গ্রামীণ বিনোদনের প্রাণ ছিল, এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। পুঁথিপাঠ, বায়োস্কোপ, সাপ খেলা, লাঠিখেলা-এসব ঐতিহ্য এখন কেবল ইতিহাসের অংশ। বৈশাখী মেলাগুলোও তাদের আগের রূপ হারিয়ে ফেলেছে; অনেক ক্ষেত্রে তা বাণিজ্যিকতার কারণে স্বকীয়তা হারাচ্ছে। গ্রামীণ খেলাধুলা-যেমন দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি-এসবও এখন শিশুদের কাছে অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে। তার জায়গা দখল করেছে মোবাইল গেম ও ভার্চুয়াল বিনোদন। সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে একটি উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণ, এখন সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। মানুষ এখন নিজ নিজ জগতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে, ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে। সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতির পরিবর্তনের পেছনে পরিবেশগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর নাব্যতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-এসব কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। যেমন, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌকাবাইচ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক কারণও একটি বড় ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ মানুষ এখন জীবিকার চাপে আগের মতো সময় দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো টিকে থাকতে পারছে না, ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে জমিদার বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাংস্কৃতিক আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। বর্তমানে সেই পৃষ্ঠপোষকতা কমে গেছে। সরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক নীতির অভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশার আলো রয়েছে। বাংলাদেশে এখনও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি মানুষের একটি আবেগ রয়েছে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন, লোকসংগীতের জনপ্রিয়তা, গ্রামীণ মেলা-এসবই প্রমাণ করে যে সংস্কৃতি এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন-স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে লোকজ সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন করতে হবে, যাতে মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। লোকশিল্পী ও কারুশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লোকজ সংস্কৃতি ভিত্তিক অনুষ্ঠান বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের আকৃষ্ট করতে হবে। আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মা। এটি হারিয়ে গেলে জাতির পরিচয়ও সংকটে পড়ে। বাংলাদেশ তার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য বিশ্বে পরিচিত। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, কিন্তু সেই পথে যেন আমরা আমাদের শিকড় ভুলে না যাই। আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি-যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্য পাশাপাশি চলবে। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ের পাতায় পড়বে নবান্ন, নৌকাবাইচ বা যাত্রাপালার গল্প। কিন্তু যদি আমরা এখনই উদ্যোগ নিই, তাহলে হয়তো আবারও ফিরে আসবে সেই হারানো দিন-যেখানে গ্রামবাংলা ভরে উঠবে উৎসবের আনন্দে, আর বাংলাদেশ তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের কার্যালয়ে সভাপতি শেখ আব্দুল মমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন সরদারের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।

সভায় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জোরুল হক, সহসভাপতি নাজমুল হক খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জামান মনি, মো. মুজিবুর রহমান, প্রভাষক ফিরোজ আহমেদ, আতাউর রহমান বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ক্লাব পরিচালনায় নতুন নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের বাঁচার লড়াই: প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের বাঁচার লড়াই: প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলা এখন এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। বারবার আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততার আগ্রাসন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রতিদিন বিপন্ন করছে। সম্প্রতি কপোতাক্ষ নদের তীরে ৫ হাজার ম্যানগ্রোভ ও ৮০০ নিম গাছের চারা রোপণ, ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের সমাপনী সভা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু সপ্তাহকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে তরুণদের ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’-এর খবরগুলো উপকূলের একই অখ- বাস্তবতার চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে।

প্রতাপনগরের রুইয়ারবিলে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেবল পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, বরং তা নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি প্রাকৃতিক ও শক্ত প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর এ পদক্ষেপে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, টেকসই সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

তবে কেবল চারা রোপণই শেষ কথা নয়; সেই চারাগুলোকে টিকিয়ে রেখে পূর্ণাঙ্গ বনে রূপান্তর করাই আসল চ্যালেঞ্জ। প্রায়শই দেখা যায়, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ঠিক এই জায়গাতেই আলোকপাত করা হয়েছে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত জলবায়ু ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে। বক্তারা যথার্থই বলেছেনÑপ্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জলবায়ুঝুঁকি মোকাবিলা ও স্থানীয়দের সুরক্ষার কাজ থেমে থাকা চলবে না। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং তরুণ সমাজকে একযোগে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

শ্যামনগরের পদ্মপুকুরে তরুণদের ক্লাইমেট স্ট্রাইক আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই দুর্বিষহ পরিবেশগত সংকটের পেছনে তাদের নিজেদের দায় সামান্যই। জলবায়ু অর্থায়ন, ন্যায্য রূপান্তর এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের দাবি আজ আর কেবল বৈশ্বিক মঞ্চের আলোচনার বিষয় নয়, তা উপকূলের তৃণমূল যুবসমাজের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে। এই তরুণরা স্থানীয় সুরক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে, যা এক আশাব্যঞ্জক দিক।

জলবায়ু সংকটের হাত থেকে উপকূলকে বাঁচাতে হলে টুকরো টুকরো উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা। ম্যানগ্রোভ সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, নদীর বাঁধ টেকসই করা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের স্থানীয় ও বৈশ্বিক দাবিগুলোকে জোরদার করার ক্ষেত্রে সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশীদারিত্বই হতে পারে একমাত্র পথ। দুর্যোগের অপেক্ষা না করে উপকূল রক্ষায় এখন থেকেই ধারাবাহিক ও টেকসই পদক্ষেপে জোর দেওয়ার সময় এসেছে।

 

সাতক্ষীরায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ও কমিটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ও কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সার্কিট হাউস মোড় শাখার নতুন কার্যালয় উদ্বোধন ও ৩ বছর মেয়াদি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন স্থানে নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন ইউনিয়নের জেলা সভাপতি আব্দুল বারী।

সার্কিট হাউস মোড় শাখার সভাপতি মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা মো. জিল্লুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান খান, আলমগীর হোসেন, জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আসাদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে মো. মাজহারুল ইসলামকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট সার্কিট হাউস মোড় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সালাম গাজী, সহসভাপতি মো. হাফিজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মো. হারুন বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তাজেল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলু সরদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু গাজী, অর্থ সম্পাদক নাজমুল ও দফতর সম্পাদক শিমুল মনোনীত হয়েছেন।