মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরায় ক্যানসার চিকিৎসার শূন্যতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরায় ক্যানসার চিকিৎসার শূন্যতা

 

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মরণব্যাধি ক্যানসারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও উন্নয়নকর্মীদের ধারণা, জেলাটিতে বর্তমানে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট হাজারেরও বেশি। জাতীয় গড়ের চেয়ে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত লবণাক্ততা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ দূষণকে। ক্যানসার যেখানে এই অঞ্চলে এক নীরব মহামারি হিসেবে জেঁকে বসছে, সেখানে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার চিত্রটি চরম হতাশা ও উদ্বেগের।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সাতক্ষীরায় এত বড় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও ক্যানসার রোগীদের জন্য কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। হাসপাতাল দুটির কোনোটিতেই আলাদা কোনো অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগ, দক্ষ জনবল কিংবা কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির ন্যূনতম সুযোগ নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধাও এখানে অনুপস্থিত। ফলে রোগাক্রান্ত হওয়ার পর হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে ছুটতে হচ্ছে ঢাকা, খুলনা কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতে।
ক্যানসার শুধু একটি মরণব্যাধিই নয়, এটি একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক যুদ্ধও বটে। দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে জমিজমা ও শেষ সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। টাকার অভাবে অনেকের চিকিৎসা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রকারান্তরে রোগীকে অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রে নাগরিকেরা চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে এভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারি এই উদাসীনতা ও শূন্যতার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনোয়ার হোসেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাতক্ষীরার বিনেরপোতা এলাকায় একটি ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। একজন চিকিৎসকের এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য বিভাগের যে দায়িত্বটি সবার আগে পালন করার কথা ছিল, তা কেন একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত বদান্যতার ওপর নির্ভর করবে?
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে অন্তত ১০ শয্যার একটি প্রাথমিক ক্যানসার ইউনিট চালু এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী ও প্রান্তিক এই জেলার মানুষের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবি।
আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আর কালক্ষেপণ করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে সাতক্ষীরা জেলায় আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে একটি সঠিক ‘ক্যানসার রেজিস্ট্রি’ বা ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক ক্যানসার ইউনিট ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ক্যানসার চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম জরুরি দায়িত্ব। সাতক্ষীরার হাজারো ক্যানসার রোগীর জীবন ও তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি বিশাল আকৃতির গরু-‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার ও দৃষ্টিনন্দন গড়নে ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এই গরুটি।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার কোমরপুর খামারবাড়িতে লালন-পালন করা হয়েছে ‘লাল বাহাদুর’ নামের এই গরুটি। কয়েক বছর ধরে যতœ আর বিশেষ খাবারে বড় করা হয়েছে তাকে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় কোমরপুর এলাকায় গড়ে তোলা হয় এই খামারটি। যেখানে ৪টি পরিবারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। খামারে কর্মরত এসব ব্যক্তিরা গরু দেখভাল করে তাদের পরিবার নির্বাহ করে আসছেন কয়েকবছর ধরে।

খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানালেন, প্রাকৃতিক খাবার ও যতেœই বড় করা হয়েছে এই খামারের সকলগরু। এখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর খাবার বা কোন কিছু ব্যবহার করা হয়নি। খড়, খাস, গমের ভূসি, ভুট্টা খাওয়ানো হয় এই খামারের গরুকে। ফলে এসব গরু দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মত।

খামারে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক কর্মচারী জানালেন, এখানে ২শ টি গরুর জন্য খামার তৈরী করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি কুরবানির জন্য বিক্রি উপযোগী গরু রয়েছে। যার মধ্য আকর্ষণীয় লাল বাহাদুর। যার দাম ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২/৩ লাখ টাকার মধ্যে দাম চাওয়া হচ্ছে বাকি গরুর।

এদিকে, কুরবানির ঈদ ঘিরে বিশাল আকৃতি আর আকর্ষণীয় গড়নের কারণে ‘লাল বাহাদুর’ এখন সাতক্ষীরার কুরবানির বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দাম নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এর ক্রেতা-সেদিকেই নজর সবার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এফ.এম. মান্নান কবীর বলছেন, জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কুরবানির বাজারে বড় গরু নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ। ‘লাল বাহাদুর’ কত দামে বিক্রি হয়-এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

শ্যামনগরে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক চিংড়ি ঘেরে হামলা চালিয়ে চার নারীসহ আটজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। সোমবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভৈরবনগর পল্লীতে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো মেহেরুন্নেছা বেগম (৪০), মরিয়ম বিবি (৪৫), পারভীন আক্তার (২৪), খাদিজা আক্তার (২৬), গোলাম বারী (৫২), মনিরুল ইসলাম (৪৪), রবিউল ইসলাম (৩০) ও আলমগীর হোসেন (৩৩)।

চিংড়িঘেরের মাছ লুটে বাঁধা পেয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনারুল এবং তার ভাই সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মনিরুল ইসলামের ভাষ্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিগত সরকারের সময়ে তাদের স্বত্ত্ব দখলীয় জমি আনারুলের পরিবার দখল করে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর আনারুলসহ তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে গেলে নিজেদের ফিরে পাওয়া সে জমিতে তারা চিংড়ি চাষ করে।

 

সম্প্রতি আনারুল ও তার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এলাকায় ফিরে উক্ত চিংড়িঘের দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল।
মনিরুল জানায়, সোমবার রাতে আনারুল, সিরাজুল ও শাহিনের নেতৃত্বে আজিজুল, রাশিদুল, আলামিন, দেলওয়ার, ইদ্রিস, সিরাজুল, মাজেদ, ময়নুদ্দীন, আব্দুল্লাহ, সাইদুলসহ ২২/২৩ জন তাদের চিংড়িঘেরে হামলা চালিয়ে মাছ লুটের চেষ্টা করে। এসময় ঘের পাহারার দায়িত্বে থাকা গোলাম বারী ও রবিউল বাঁধা দিতে গেলে তাদের দু’জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্যরা এগিয়ে এলে হামলায় জড়িতরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তাদেরও রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে গ্রামবাসীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি পৌছে দেয়।

অভিযুক্ত আনারুল জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষ তাদের অনুকুলে রেকর্ড হওয়া উক্ত জমি দখল করে নিয়ে মাছ ছাড়ে। নিজেদের মালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে যেয়ে বাঁধার মুখে পড়লে দু’পক্ষ সংঘর্ষ হয়। নিজেরা শরীরে জখম তৈরী করে মনিরুল ও তার লোকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলেও তার দাবি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছিল। এঘটনায় আহত মনিরুল সোমবার রাতে থানায় এজাহার জমা দিয়েছে। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ব্যবসায়ী ও স্বত্বাধিকারীদের নিয়ে সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ব্যবসায়ী ও স্বত্বাধিকারীদের নিয়ে সভা

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের দক্ষতাবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘দক্ষতা প্রশিক্ষণ পরিষেবা প্রদানকারীদের’ সাথে এক অ্যাডভোকেসি (সুপারিশ) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে আশাশুনি ‘পাথেয় ট্রেনিং সেন্টারে’ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’ এই সভার আয়োজন করে। নেদারল্যান্ডসের ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে এবং ‘সেন্টার ফর ডিজেবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট’ (সিডিডি)-এর সহযোগিতায় ‘ম্যাপিং সিবিআর’ প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা জানান, প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৯০০ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর রয়েছে। এদের পরিবার বা সমাজের বোঝা না ভেবে ন্যূনতম কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে আইডিয়াল। প্রকল্পের ইউসুফ আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মো. সাইজুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন।