শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

উত্তর প্রদেশে ৬০ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নিহত ৫৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
উত্তর প্রদেশে ৬০ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নিহত ৫৬

ভারতের উত্তর প্রদেশে টানা ৬০ ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই দুর্যোগে ১০৭টি গবাদিপশু মারা গেছে এবং ১ হাজার ২১টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সীতাপুরে সর্বোচ্চ ৭ জন, লখিমপুর খেরি, বাহরাইচ ও বলরামপুরে ৫ জন করে এবং অযোধ্যা ও গোরখপুরে ৪ জন করে মারা গেছেন। সবচেয়ে বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু (২৮টি) এবং ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি (২৭২টি) হয়েছে হরদোই জেলায়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফারুখাবাদে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ গুণ, কানপুর নগরে ১৬০ গুণ এবং কনৌজ, কানপুর দেহাত ও হরদোইতে ১৩০ গুণ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্দা ও ফতেগড়ে ২২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানায়, মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন ছত্তিশগড়ের ওপর সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি উত্তর প্রদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মধ্যাঞ্চল ও তরাই অঞ্চলের কিছু অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। রাতভর বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা নিয়ে উত্তর প্রদেশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের জলাবদ্ধতার একটি ভিডিও শেয়ার করে এক্সে লিখেছেন, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বিজেপির দুর্নীতির নদী বইছে। নাম পরিবর্তনকারীদের জন্য চমৎকার সুযোগ, এর নতুন নাম দিন: গঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়াটারওয়ে। অত্যন্ত নিন্দনীয়!

অন্যদিকে বিএসপি প্রধান মায়াবতী অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Ads small one

মোদি বিরোধী পোস্ট, ইমরান খানকে ১৫ লাখ রুপির প্রস্তাব!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
মোদি বিরোধী পোস্ট, ইমরান খানকে ১৫ লাখ রুপির প্রস্তাব!

বলিউড অভিনেতা ইমরানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। এই ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত নেটভুবন। সিনেপাড়ার কিছু সদস্য অভিনেতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আবার অনেকেই এই নির্দেশকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে আদা জল খেয়ে ময়দানে নেমেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বোমা ফাটালেন অভিনেতা নিজেই।

মোদি বিরোধী পোস্টের জন্য তাকে পনেরো লাখ রুপির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তবে অভিনেতা সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করেই ‘ককরোচ’দের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খানের এমন একটি পোস্ট দাবানলের গতিতে ভাইরাল হয়েছে।

পোস্টে লেখা ‘মোদি সরকার বিরোধী পোস্টের জন্য আমাকে ১৫ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আমি কখনই সেই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিইনি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই আমি প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলাম।’

তবে ইমরানের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল খতিয়ে দেখেও ওই ধরনের কোনও স্টোরি কিন্তু পাওয়া যায়নি। নেটিজেনদের একাংশেরও অনুমান, স্ক্রিনশটটি ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভাইরাল টুইটটির প্রতিক্রিয়ায় এক নেটিজেনের প্রতিক্রিয়া, ‘আবারও ভুয়া স্ক্রিনশট! প্রতিদিন কোনও না কোনও সেলিব্রিটির নামে নতুন ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়ানো হয়।’

নেটভুবনের একাংশ আবার এই ভুয়া পোস্টটিকেই সত্য বলে দাবি করছেন। ভাইরাল হওয়া পোস্টের বিরুদ্ধে ইমরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় কিনা এখন সেটাই দেখার।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ মহাষষ্ঠী।‌ দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মন্দিরগুলোতে ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেবীর বোধন, আবাহন এবং অধিবাসের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা করা হয়েছে।

এ দিন সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত ছিল পূজামণ্ডপ। শঙ্খ ধ্বনি, ধূপের সুঘ্রাণ, আর ঢাকঢোলের বাদ্যের সঙ্গে ভক্তি-মন্ত্রে মেতে উঠেছে দেবী ভক্তরা। এরপর সায়ানকালে দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে দুর্গার প্রতিমা। খড়গ-কৃপাণ, চক্র, গদা, তীর-ধনুক, ত্রিশূল আর কল্যাণ নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং মহিষাসুর বধ করে হেসে উঠবেন দেবী।

সনাতন ধর্মমতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন—বাধা-বিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন—দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর ভক্তদের কষ্ট দূর করতে দেবী দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে, আর দশমীর দিন বিদায় নেবেন নৌকায়।

মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এ দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিনই নানান আয়োজনে চলবে পূজা উৎসব। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুই দিন মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দুর্গা দেবী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সায়ংকালে দেবীর বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে। বোধন মানে জাগ্রত করা বা জাগানো। বোধন হয় বেল গাছের তলায়। দেবতারাও বেল গাছের তলায় বোধন করেছিলেন, এ গাছের অন্য নাম শ্রীবৃক্ষ। শ্রী অর্থ সম্পদ বা সৌন্দর্য। তাই পুরোহিতরা সম্পদ বা সৌন্দর্য বা সংসারের উন্নতির জন্য, জ্ঞান ভক্তি লাভের জন্য বেল গাছের মূলে দুর্গাপূজার বোধন করেন।

এদিকে প্রতিমার সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় রাজধানীসহ সারাদেশের মন্দির চত্বর উৎসবমুখর। শঙ্খ ও উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে ভক্তরা দেবীকে বরণ করে নিয়েছেন। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দেশজুড়ে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে চলবে দেবীর আরাধনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা দেড় হাজার বেশি। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে। ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি, আর ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, ফিরতে দেরি হবে’, এটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, ফিরতে দেরি হবে’, এটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা

নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

 

‘বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে কথাগুলো বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)। দুই সন্তানকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী। কিন্তু স্বামীর ফেরা আর হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাছে পৌঁছায় লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে হত্যার খবর।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌনে আটটার দিকে দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে স্ত্রীর কাছে রেখে বেরিয়ে যান লুৎফুজ্জামান। পরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

স্বামীর নিথর দেহের পাশে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনন্দিতা। তার কাছে ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, স্বাভাবিক একটি সন্ধ্যায় সন্তানদের খাওয়ানোর সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনেছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকমুখে জানতে পারেন, আমার স্বামীকে গুলি করা হয়েছে।

স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে আনন্দিতা বলেন, আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাবো না। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি। তার বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। তিনি মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। বসবাস করতেন দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার পাশে একটি বাড়ির বারান্দায় চায়ের দোকানটি। চারদিকে নীরবতা। দোকানটি থেকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ২০ গজ। বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। তেলনজিয়া গ্রামে অধিকাংশ বাসিন্দাই গারো সম্প্রদায়ের।

লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তারা বাড়ির বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন, লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথা, গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছিলো।

স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। তাদের দুই সন্তান- চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করেন লুৎফুজ্জামান। পরে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিনিট তিনেকের মধ্যে আবার ফিরে আসেন তিনি।

মুঠোফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দুই যুবক সেখানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর তারা লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দোকানি রবিন রাংসা বলেন, আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় গিয়ে ঢুকে পড়ি।

রবিন রাংসার ভাষ্য, দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। তাদের একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ছিলো। গুলি করার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনার এসপি তরিকুল ইসলাম, এএসপি (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, এএসপি (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের ইউএনও আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এসপি তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করেছিলো। সে সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলিতে নিহত লুৎফুজ্জামানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।