রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে তুরস্কের পিছুটান কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে তুরস্কের পিছুটান কোথায়?

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রিয়াদকে সহায়তার ক্ষেত্র কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে বলে স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে দেশটি। লোহিত সাগরের কৌশলগত স্বার্থ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ইয়েমেনে কোনও ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক।

শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু সৌদি আরবে গিয়ে সৌদি সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রিয়াদে জরুরি এই সামরিক বৈঠকের আগে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।

এক তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রথম ধাপে রিয়াদে একটি স্থায়ী সচিবালয় ও যৌথ সামরিক সদর দফতর প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে। অক্টোবরে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে তুর্কি সংসদে চুক্তিটি অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছে। গত বুধবার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে এসব সমালোচনার জবাব দিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, এ সমালোচনা ন্যায্য নয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো কেবল একবারই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদ ব্যবহার করেছিল। ফিদান আরও বলেন, সমালোচকেরা ১০ বছরের এক সংকটের দিকে আঙুল তুলে বলছেন, দেখা যাক, এটি কাজ করছে না। আমরা তো কেবল যাত্রা শুরু করেছি।

আঙ্কারার দৃষ্টিকোণ থেকে, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের তুর্কি কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গোনুল তোল বলেন, আমি আশা করি না তুরস্ক হুথিদের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে।

হাসপাতালে দ্বিতীয় হামলায়ও বেঁচে যান মোজতবা খামেনি!হাসপাতালে দ্বিতীয় হামলায়ও বেঁচে যান মোজতবা খামেনি!
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলে লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে তুরস্কের বিশাল সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে সোমালিয়ায় তুরস্কের বৃহত্তম বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং শত মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পাশাপাশি সেখানে তেল অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরি করছে আঙ্কারা। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখাও আঙ্কারার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গোনুল তোল আরও জানান, তুরস্কের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকবে। আঙ্কারা প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে পারে।

এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদানও একই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, সৌদি আরবের বিশেষ করে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে সামরিক চাহিদা থাকতে পারে। এসব পূরণ করতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।

 

Ads small one

কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ধারাবাহিক হামলা ও হুমকির অভিযোগের মধ্যে সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে নেট, পলিথিন ও জিও শিটসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার রতনপুর বাজারে অবস্থিত ‘এস কে এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে এই অগ্নিসংযোগ ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার।
ফিরোজ আহমেদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো একসময় দোকানের পেছনের অংশ দিয়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিপুল মালামাল পুড়ে যায়। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন ধরে হুমকি-ধামকির শিকার হয়ে আসছেন। এর আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে গত আগস্টে একই উপজেলায় সংবাদকর্মী ফেরদৌস আহমেদ ও শেখ ফিরোজ আহমেদের ওপর পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহমেদ জানান, এসব ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতা করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদের ওপর আগের হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা সীমান্তে ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ২২ হাজার ৮০০ টাকা।
২৭ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ তলুইগাছা ও সুলতানপুর বিওপি এবং বাঁকাল চেকপোস্ট ও ঝাঁউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।
বিজিবি জানায়, তলুইগাছা সীমান্ত থেকে ভারতীয় মদ, সুলতানপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ওষুধ, বাঁকাল চেকপোস্ট এলাকা থেকে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং ঝাঁউডাঙ্গা ক্যাম্পের টহল দল ভারতীয় মোবাইলের ডিসপ্লে জব্দ করে।
শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মালামাল ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিজিবির এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ কলাগাছিতে সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ কলাগাছিতে সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ জরুরি

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বাস্তবতায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি, বিশ্বাসের চক ও কুলপোতা গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন। চারপাশে নদী, বিল ও খাল পরিবেষ্টিত এই তিন গ্রামে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যেকোনো ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে এই এলাকা মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্যোগপ্রবণ ও জনবহুল এই জনপদে আজ পর্যন্ত কোনো সাইক্লোন সেন্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। জীবনের নিরাপত্তা ও গবাদিপশুর সুরক্ষার স্বার্থে এই অঞ্চলে একটি আধুনিক সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই গ্রামের সিংহভাগ মানুষই দরিদ্র এবং তারা প্রধানত বেড়িবাঁধ, বিল ও নদীর কোলঘেঁষে বসবাস করেন। দুর্যোগ দেখা দিলে নিরাপদ কোনো স্থান না থাকায় মানুষ ও গবাদিপশুর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। অথচ অবাক করার বিষয় হলো, স্থানীয় মানুষের চাহিদা উপেক্ষা করে অধিক দুর্যোগপ্রবণ ও জনবহুল কলাগাছি গ্রামকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ও মাত্র ৮৫টি পরিবার অধ্যুষিত দর মুড়াগাছা গ্রামে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

পরিকল্পনাকারীদের এমন দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যে স্থানে সুবিধাবোগী মানুষের সংখ্যা বেশি এবং ঝুঁকির মাত্রা সর্বাধিক, সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল সেটিই। অথচ দর মুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর উদ্যোগ মাঠ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করবে, যার অদূরেই শালিখা ডিগ্রি কলেজে একটি আশ্রয়কেন্দ্র বিদ্যমান। অন্যদিকে, কলাগাছি হাইস্কুল চত্বরে সাইক্লোন সেন্টারটি নির্মিত হলে তা সংলগ্ন তিন গ্রামের বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের প্রকৃত কাজে আসত।
এ ক্ষেত্রে এলজিইডি বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। উন্নয়ন কেবল প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা যেন গণমানুষের প্রকৃত নিরাপত্তায় কাজে আসেÑসে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

তালা উপজেলা প্রকৌশলীর ইতিবাচক আশ্বাস অনুযায়ী, যথাযথ আবেদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। আমরা আশা করি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন জরুরিভিত্তিতে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং অবকাঠামোটির সঠিক স্থান নির্বাচন করে কলাগাছি হাইস্কুল চত্বরেই সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। উপকূলীয় অসহায় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।