ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বাস্তবতায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি, বিশ্বাসের চক ও কুলপোতা গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন। চারপাশে নদী, বিল ও খাল পরিবেষ্টিত এই তিন গ্রামে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যেকোনো ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে এই এলাকা মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্যোগপ্রবণ ও জনবহুল এই জনপদে আজ পর্যন্ত কোনো সাইক্লোন সেন্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। জীবনের নিরাপত্তা ও গবাদিপশুর সুরক্ষার স্বার্থে এই অঞ্চলে একটি আধুনিক সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই গ্রামের সিংহভাগ মানুষই দরিদ্র এবং তারা প্রধানত বেড়িবাঁধ, বিল ও নদীর কোলঘেঁষে বসবাস করেন। দুর্যোগ দেখা দিলে নিরাপদ কোনো স্থান না থাকায় মানুষ ও গবাদিপশুর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। অথচ অবাক করার বিষয় হলো, স্থানীয় মানুষের চাহিদা উপেক্ষা করে অধিক দুর্যোগপ্রবণ ও জনবহুল কলাগাছি গ্রামকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ও মাত্র ৮৫টি পরিবার অধ্যুষিত দর মুড়াগাছা গ্রামে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।
পরিকল্পনাকারীদের এমন দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যে স্থানে সুবিধাবোগী মানুষের সংখ্যা বেশি এবং ঝুঁকির মাত্রা সর্বাধিক, সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল সেটিই। অথচ দর মুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর উদ্যোগ মাঠ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করবে, যার অদূরেই শালিখা ডিগ্রি কলেজে একটি আশ্রয়কেন্দ্র বিদ্যমান। অন্যদিকে, কলাগাছি হাইস্কুল চত্বরে সাইক্লোন সেন্টারটি নির্মিত হলে তা সংলগ্ন তিন গ্রামের বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের প্রকৃত কাজে আসত।
এ ক্ষেত্রে এলজিইডি বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। উন্নয়ন কেবল প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা যেন গণমানুষের প্রকৃত নিরাপত্তায় কাজে আসেÑসে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
তালা উপজেলা প্রকৌশলীর ইতিবাচক আশ্বাস অনুযায়ী, যথাযথ আবেদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। আমরা আশা করি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন জরুরিভিত্তিতে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং অবকাঠামোটির সঠিক স্থান নির্বাচন করে কলাগাছি হাইস্কুল চত্বরেই সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। উপকূলীয় অসহায় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।