বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নদী বাঁচাতে শুধু আশ্বাস নয়, চাই দৃশ্যমান পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
নদী বাঁচাতে শুধু আশ্বাস নয়, চাই দৃশ্যমান পদক্ষেপ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সাতক্ষীরার নদী-খাল নিয়ে নতুন করে আশার কথা শুনিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় জেলার নদী-খালের বর্তমান পরিস্থিতি, অবৈধ দখল, নাব্যতাসংকট এবং পরিবেশগত নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়।

 

কমিশনের চেয়ারম্যান সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর একটি বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখেÑনদী ও খাল রক্ষায় শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ এবং জোরালো সামাজিক আন্দোলন। এই বক্তব্যের মধ্যেই সাতক্ষীরার নদী-খালের সংকটের মূল বাস্তবতা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ নদী রক্ষার জন্য দেশে আইন আছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, আদালতের নির্দেশনা আছে, নদী রক্ষা কমিশন আছে, পরিবেশবাদী সংগঠন আছে।

 

তারপরও কেন নদী-খাল দখল হচ্ছে? কেন খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে? কেন নাব্যতা কমছে? কেন জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা বাড়ছে? প্রশ্নগুলো নতুন নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সাতক্ষীরা একটি উপকূলীয় জেলা। এ জেলার প্রকৃতি নদী, খাল, বিল, জলাভূমি ও জোয়ার-ভাটার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

 

এখানকার কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো নদী বা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু একটি জলাশয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা ছড়িয়ে পড়ে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, মাছের ঘের, সড়ক, বাজার এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বর্ষা এলে এই বাস্তবতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টির পানি খাল ও নদীপথে নিষ্কাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো খাল যদি দখল, ভরাট কিংবা পলি জমে সংকুচিত হয়ে পড়ে, তখন পানি নামার পথ বাধাগ্রস্ত হয়। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

 

আবার নদীর নাব্যতা কমে গেলে জোয়ারের পানি প্রবেশ ও ভাটার পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। উপকূলীয় এলাকায় এর সঙ্গে যুক্ত হয় লবণাক্ততার সমস্যা। ফলে নদী-খাল রক্ষার বিষয়টি আসলে জলাবদ্ধতা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। নদী-খালের সংকটের অন্যতম কারণ অবৈধ দখল। নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, খালের জায়গা ভরাট করে বসতবাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জলপ্রবাহের জায়গা সংকুচিত করাÑএসব কর্মকা- একদিনে তৈরি হয়নি।

 

দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্বল তদারকি এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের নানা ধরনের প্রভাবের কারণে এসব দখল স্থায়ী রূপ পেয়েছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, একটি অবৈধ দখল যখন দীর্ঘদিন টিকে থাকে, তখন সেটিই ধীরে ধীরে স্থানীয় বাস্তবতার অংশ হয়ে যায়। একসময় মানুষ ভুলে যায়, ওই জায়গাটি আসলে নদী বা খালের। এখানে প্রশাসনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী-খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল শনাক্ত করা, দখলদার উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং পুনরায় দখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। উচ্ছেদের পর জায়গাটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, কে নজরদারি করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কেউ দখল করার চেষ্টা করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑএসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ নাব্যতাসংকট। নদী ও খালে পলি জমা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা না থাকলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

অনেক খাল ও নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানির ধারণক্ষমতা কমে যায়। কোথাও আবার জলপ্রবাহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একটি খাল অন্য খালের সঙ্গে, খাল নদীর সঙ্গে এবং নদী জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুক্তÑএই স্বাভাবিক জলব্যবস্থাকে বিবেচনায় না নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি স্থানে খনন করলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া কঠিন। তাই সাতক্ষীরার নদী-খাল রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা। শুধু বড় নদী খনন করলেই হবে না; নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল, বিল ও জলাভূমির প্রবাহও সচল রাখতে হবে।

 

কোথায় খনন প্রয়োজন, কোথায় দখল উচ্ছেদ জরুরি, কোথায় পানির প্রবাহ পুনঃস্থাপন করতে হবেÑএসব বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও অপরিহার্য। নদী-খালের পাশে বসবাসকারী মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন কোন খাল আগে কতটা প্রশস্ত ছিল, কোথায় পানি চলাচল করত, কোথায় দখল হয়েছে এবং কোথায় পানি আটকে থাকে। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নদী রক্ষার পরিকল্পনা করলে তা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

 

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পরিবেশকর্মীরা সাতক্ষীরার নদী-খালের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁদের মধ্যে দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও বাপা জেলা কমিটির উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জি, এটিএন বাংলার সাংবাদিক ও বাপা জেলা কমিটির উপদেষ্টা এম কামরুজ্জামান, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক ও বাপার সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য শেখ আফজাল হোসেন এবং বেসরকারি সংস্থা ‘হেড’-এর নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইনসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ ধরনের মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাঠের বাস্তবতা অনেক সময় দাপ্তরিক নথির চেয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তবে শুধু পরিবেশবাদীদের উদ্যোগে নদী রক্ষা সম্ভব নয়। প্রয়োজন গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা। নদী দখল বা দূষণের ঘটনা সামনে এলে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনমত তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হবে শুধু অভিযোগ প্রকাশ না করে সমস্যার কারণ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং সমাধানের পথও তুলে ধরা। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতা নদী রক্ষার আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 

তাঁরা জনগণের প্রতিনিধি। তাঁদের উচিত উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়কে যুক্ত করা। কোনো রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ বা স্থাপনা নির্মাণের সময় যাতে নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। উন্নয়ন যদি জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত মানুষের দুর্ভোগই বাড়াবে। সবচেয়ে বড় কথা, নদীকে শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে দেখলে চলবে না। নদী একটি জীবন্ত প্রতিবেশব্যবস্থা। এর সঙ্গে মাছ, পাখি, জলজ উদ্ভিদ, কৃষি এবং মানুষের জীবন জড়িত। একটি নদী শুকিয়ে গেলে কিংবা একটি খাল ভরাট হয়ে গেলে তার সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেশগত ভারসাম্য।

 

তাই নদী রক্ষার প্রশ্নটি পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নও বটে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে যে সামাজিক আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নদী সম্পর্কে দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। নদী দখলকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়Ñএমন একটি অবস্থান তৈরি করা জরুরি। স্থানীয়ভাবে নদী ও খাল রক্ষা কমিটি গঠন, নিয়মিত নজরদারি, দখলের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রশাসনকে অবহিত করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

 

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও নদী ও পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমে যুক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নদী বা খাল দখল হলে শুধু দখলদারকে দায়ী করলেই প্রশ্ন শেষ হয় না; দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে সেই দখল টিকে থাকল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী করেছে, কোথায় তদারকির ঘাটতি ছিলÑএসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। কারণ নদী দখল অনেক সময় একদিনের ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তারও ফল হতে পারে।

 

সাতক্ষীরার নদী-খাল রক্ষায় এখন প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা। প্রথমে জেলার নদী ও খালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বর্তমান অবস্থা নিরূপণ করতে হবে। এরপর দখল, দূষণ, নাব্যতা ও প্রবাহের সমস্যাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সময়সীমাবদ্ধ কর্মসূচি নিতে হবে। কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করলে জবাবদিহিও বাড়বে। মঙ্গলবারের মতবিনিময় সভা তাই শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

 

এটি সাতক্ষীরার নদী-খাল রক্ষার দীর্ঘদিনের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে আবারও সামনে আনার একটি সুযোগ। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার। সাতক্ষীরার নদী-খাল বাঁচাতে শুধু আশ্বাস যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ। আইনের প্রয়োগ, প্রশাসনিক সদিচ্ছা, বৈজ্ঞানিক নদী ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের সামাজিক আন্দোলনÑএই চারটি বিষয় একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

 

নদী রক্ষা কমিশনের আশ্বাস যদি মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু নদী-খাল নয়, সাতক্ষীরার প্রাণ-প্রকৃতি ও মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ নদী হারালে শুধু একটি জলধারা হারায় নাÑহারায় একটি জনপদের জীবনপ্রবাহ। তাই নদী বাঁচানোর লড়াই আসলে সাতক্ষীরাকে বাঁচানোর লড়াই।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

আশাশুনিতে একই মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ৫ আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে একই মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ৫ আসামি গ্রেপ্তার

পত্রদূত ডেস্ক: আশাশুনি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার কোলা গ্রামে নিজ নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-কোলা গ্রামের মৃত শাহানুর শেখের ছেলে মো.গোলাম মোস্তফা হোসেন, মো.নুরুল ইসলাম গাজীর ছেলে মো.শরিফুল ইসলাম, মৃত আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে মো.নাজির আলম, মৃত শেখ শাহিনুরের ছেলে মো.গোলাম রসুল এবং মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে মো.আব্দুল কুদ্দুস শেখ।

পুলিশ জানায়, আশাশুনি থানার মামলা নং-১৯, তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২৫, ধারা ১৪৩/ ৩৪১/ ৩২৩/ ৫০৬/ ১১৪ পেনাল কোডে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামিকে পুলিশি প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

খুলনায় নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
খুলনায় নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমানায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট সময়ে নৌযান শুমারি, ২০২৬ পরিচালিত হবে। নৌযান শুমারির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’।

আজ (বুধবার) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নৌযান শুমারি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো: আরিফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে।
শোভাযাত্রায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আইয়ুব হোসেন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে জেলখানা ঘাট হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

নৌযান শুমারি, ২০২৬ এর উদ্দেশ্য নৌপরিবহন খাতে নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত জনবলের জীবনমান এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা।

 

বাংলাদেশে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ নৌযানসমূহের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকা; নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকদের নির্ভুল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌদুর্ঘটনা পরবর্তী প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতার সাথে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ; নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান; নৌপরিবহন ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি এবং শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ন্যাশনাল ডাটা হিসেবে ব্যবহার। তথ্যবিবরণী

 

ক্ষুধার তাড়নায় বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান হানা দিচ্ছে লোকালয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
ক্ষুধার তাড়নায় বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান হানা দিচ্ছে লোকালয়ে

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে খাদ্য সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তারা লোকালয়ে ঢুকে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক হনুমান মারা যাচ্ছে। আবার কেউবা আহত হয়ে মানুষের দারস্থ হচ্ছে চিকিৎসা নিতে।

হনুমানের খাদ্য সরবরাহের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলেন, হনুমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য সংকট বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে হনুমানের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক গণনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগের ধারণা অনুযায়ী, বর্তমানে কেশবপুরে প্রায় চার শতাধিক কালোমুখো হনুমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক গণনা না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে কেশবপুর ও আশ-পাশের অন্তত ১২টি এলাকায় হনুমানের বিচরণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভোগতী, বালিয়াডাঙ্গা, মধ্যকুল, ক্ষতিয়াখালী, সুজাপুর, ব্রহ্মকাটি, আলতাপোল, বায়সা, রামচন্দ্রপুর, মাগুরাডাঙ্গা এবং মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী ও দুর্গাপুর। বনজ সম্পদের পরিমাণ কমে যাওয়ায় হনুমানগুলো আশপাশের নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

বন বিভাগ থেকে প্রতিদিন কালোমুখো হনুমানের জন্য ৪৭ কেজি ২০০ গ্রাম কলা, ৬ কেজি ৭০০ গ্রাম পাউরুটি, ৭ কেজি ৩৫০ গ্রাম বাদাম এবং ৭ কেজি সবজি সরবরাহ করা হয়। তবে এই খাদ্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি স্থানীয়দের। হনুমানের সংখ্যার তুলনায় খাদ্যের স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যানচালকআতিয়ার রহমান বলেয়ব্দুর রহমান কাছে যেতেই হনুমানটি তার কাঁধে চড়ে বসে। পরে তিনিটি চলে য সেটিকে পাশের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হনুমনটি চলে যায়। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তাদের মতে, সঠিকভাবে হনুমান গণনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুটি হনুমানের মৃত্যুর তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি আহত হনুমানের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা বেড়েছে। উপজেলা সদর ও হাসপাতাল এলাকায় বিচরণকারী অধিকাংশ মা হনুমানের কোলে শাবক দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে কেশবপুরে চার শতাধিক হনুমান রয়েছে। আনুষ্ঠানিক গণনা করা হলে প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে।