শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জবেহ ও কুরবানীর নামে মরা গরু খাচ্ছেন না তো?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
জবেহ ও কুরবানীর নামে মরা গরু খাচ্ছেন না তো?

কামারুজ্জামান

“তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত, শূকরের গোস্ত এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ করা হয়েছে”Ñ সূরা মায়েদা, আয়াত নং ৩। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই কথা বলা হয়েছে সূরা বাক্বারার ১৭৩, আনয়া’মের ১৪৫ ও নাহালের ১১৫ নং আয়াতে। অর্থাৎ একই কথা আল্লাহ কুরআনে চার জায়গায় চারবার বলেছেন। তাহলে এর গুরুত্ব কত বেশী!! এখানে প্রথম তিনটি মানবদেহের জন্য এবং শেষেরটা মানবাত্মা বা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক এবং ধারাবাহিকতা বিচারে অনুমেয়, আল্লাহর কাছে মৃত প্রাণী সবচে’ খারাপ, অতঃপর প্রবাহিত রক্ত শূকরের গোস্তের চেয়েও খারাপ। হাঁ, প্রবাহিত রক্ত শূকরের গোস্তের চেয়েও খারাপ।

 

এই রক্তকেই আমরা প্রবাহিত হতে না দিয়ে গোস্তের মধ্যে আটকে রেখে প্রতিনিয়ত খাচ্ছি। আমরা প্রকৃতপক্ষে জবাই ও কুরবানীর নামে ব্রেন-স্ট্রোক ও শকে মরা পশুর গোস্ত খাচ্ছি। কিভাবে?
জবেহ সহী হওয়ার জন্য চারটি রগ কাটতে হয়Ñ খাদ্যনালী, শ্বাসনালী ও দুটি রক্তনালী। ভুলক্রমে তিনটি কাটা হলেও জবেহ হয়ে যাবে, শুদ্ধ হবে। কিন্তু তিনটি কাজ কখনোই করা যাবে না, হারাম ও কঠোরভাবে নিষেধ। (১) মেরুরজ্জু, শাহরগ বা স্পাইনাল কর্ডে আঘাত করা বা ছুরির খোঁচা মারা যাবে না। (২) জবেহ হওয়ার সাথে সাথে পশুর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দিতে হবে, যাতে পেশী-শিথিল অবস্থায় পড়ে থাকে ও ছটফট করতে পারে। (৩) মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাত-পায়ের নলা কাটা বা চামড়া ছাড়ানো শুরু করা যাবে না। কারণ মরার আগ পর্যন্ত প্রাণী ব্যথা পায়। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা নয়।

প্রথমটি করলে পশু জবাইয়ের চাইতে বেশী কষ্ট পায়। কারণ মেরুরজ্জুই অনুভূতি গ্রহণের প্রধান মাধ্যম। তাই জবাইয়ের ৩/৫ মিনিট পর ওখানে ছুরির খোঁচা দিলে বেহুঁশ হয়ে থাকা পশুও লাফিয়ে ওঠে। ৫/৭ মিনিটের মধ্যে পশু মরে না, কোষও মরে না। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অজ্ঞান হয়ে থাকে। ঐ সময় কৃত্রিমভাবে রক্ত সরবরাহ শুরু করলে বিজ্ঞানমতে আবার জেগে উঠবে। পশু মারা যাওয়ার কথা আরো কিছুক্ষণ পর। কিন্তু ঐ সময় মেরুরজ্জুতে ছুরির খোঁচা দিলে পশু কেঁপে উঠে মারা যায়। অতএব এই মৃত্যু জবাইয়ের কারণে নয়, ব্রেন-স্ট্রোক ও শকের কারণে।

 

আর আমরা জবাইকৃত পশুর গোস্ত খাচ্ছি না, খাচ্ছি অপঘাতে-মরা প্রাণীর গোস্ত (প্রকারান্তরে কুরআনে বর্ণিত ১ নং হারামটা)! পরন্তু খোঁচা মারার সাথে সাথে মস্তিষ্ক থেকে দেহের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, মুহূর্তে দেহ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং রক্ত প্রবাহিত হয়ে বের না হয়ে মাংসের মধ্যে জমাট বেঁধে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আটকে যায়, ঠিক যেভাবে ফাঁসিতে, আঘাতে বা পানিতে-ডুবে মরা লাশ কাটলে আর রক্ত বের হয় না। অথচ তার শরীরে রক্ত ছিল। এই জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে সঠিকভাবে কুরবানী করা পশুর গোস্ত সাধারণত সাদাটে ও হাঁসাটে হয়, কিন্তু কসাইয়ের দোকানের গোস্ত হয় টকটকে লাল। পাবলিক গরু কেটে লাভ করতে না পারলেও কসাইরা ঠিকই লাভ বের করে আনে।

 

প্রথমত, ওদের হাতে যাদু আছে, কী করে গোস্তের সাথে হাড়-ছড় কুপিয়ে দিতে হয়, খুব ভাল জানে। দ্বিতীয়ত, একটা গরুতে অন্যূন বার লিটার রক্ত গোস্তের মধ্যে আটকে দিতে পারলে দশ হাজার টাকা নগদ লাভ। অতিলোভী এই চেঙ্গিস কসাইরা সবচে’ ভয়ঙ্কর যে কাজটি করে, জবাই করার সাথে সাথে বুকের চামড়া ফেড়ে ফেলে চোখা ছুরির আগা দিয়ে হৃদপি- খুঁচিয়ে দেয়। এতে হৃদপি- বিকল হয়ে রক্ত পাম্প করতে পারে না এবং মাংসে রক্ত প্রায় পুরোটাই থেকে যায়।

এই আটকে-থাকা (প্রবাহিত) রক্তে থাকে প্রচুর পরিমাণে টক্সিন, ইউরিয়া ও বিপাকীয় জৈবরাসায়নিক বর্জ্য, যা প্রাথমিকভাবে বদহজম ও এলার্জির কারণ হয় এবং পরে ডেকে আনে প্রাণঘাতী মারাত্মক রোগ। এই কারণে অনেকেই বলে, কুরবানীর গোস্ত খেলে সমস্যা হয় না, কিন্তু দোকানের গোস্ত খেলেই সমস্যা হয়। বিশেষ করে গরুর গোস্ত। আসলে গরুর গোস্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলে নাবী মুহাম্মাদ (সঃ)-এর শারীয়া’ অবশ্যই একে অন্তত মাকরূহ ঘোষণা করত, পূর্ণ হালাল করত না।

গরুর দেহে প্রতি কেজি বডি ওয়েটের জন্য ৫৫<মিলি রক্ত থাকে। রক্ত ও রক্তে-থাকা ব্যাকটেরিয়া গোস্তের দ্রুত পচন ঘটায়।

উল্লিখিত দ্বিতীয় কাজটি করলে রক্ত সহজভাবে বের হয়ে যাবে। অপরপক্ষে জবেহর পরও হাত-পা বেঁধে রাখা পিশাচের কাজ এবং এমনটি করলে পেশী খিঁচ ধরে ওয়ার্কিং অবস্থায় থাকে। তখন সব রক্ত বের হয় না। এরপর তৃতীয় কাজটি করলে যে স্নায়ুগুলো কাটা পড়বে, সেগুলো দেহের যতটুকু অংশ নিয়ন্ত্রণ করত, সেসব অংশের রক্তও আর বের হবে না। এছাড়া আরো একটি কাজ ঃ পশু ঝুলিয়ে চামড়া ছাড়ানো উত্তম (সম্ভব হলে ভারী পশুর ক্ষেত্রেও)। এতে অবশিষ্ট রক্তটুকু বের হয়ে যাবে।

গভীরভাবে বোঝার বিষয় এই যে, সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে আরো হারাম করা হয়েছে *গলা চিপে মারা জন্তু, *প্রহারে মরা জন্তু, *উঁচু থেকে পড়ে মরা জন্তু, *অন্য প্রাণীর শিঙের আঘাতে মরা জন্তু এবং *যে জন্তুকে হিংস্্রস্্র প্রাণী খেয়েছে এবং জবেহ করে নেওয়া হয়নি। এখানে লক্ষণীয় এমন জন্তু, যার দেহ থেকে রক্ত প্রবাহিত না হয়ে মারা পড়েছে। ‘প্রবাহিত রক্ত’!

আসুন, আমরা মরা গরুর সাথে প্রবাহিত রক্ত খাওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই! নিজেরা বাঁচি, দেশবাসীকে বাঁচাই! লেখক: কামারুজ্জামান, রতেœশ্বরপুর, দেবহাটা

 

Ads small one

ফের চাঙা স্বর্ণের বাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ফের চাঙা স্বর্ণের বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি এবং কঠোর মুদ্রানীতির বার্তা পাশ কাটিয়ে এবং তেলের দাম হ্রাসের ফলে টানা দ্বিতীয় সেশনে স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার্স মূল্য শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

বাইবিটের চিফ মার্কেট অ্যানালিস্ট হান টান বলেছেন, ফেডের কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিতকে খুব একটা পাত্তা দেয়নি মূল্যবান এই ধাতু। বরং ফেডের সুদের হার বাড়ানোর চক্রটি সীমিত হতে পারে এমন আশার পাশাপাশি তেলের দাম হ্রাসের কারণে স্বর্ণ তাৎক্ষণিক স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে। যদিও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঐতিহ্যগত হেজ বা সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার ফলনশীল সম্পদের আকর্ষণ বাড়িয়ে স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।

গত বুধবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সামনের মাসগুলোতে আরও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। গোল্ডম্যান স্যাকস এক নোটে জানিয়েছে, তারা আশা করছে কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাব স্বর্ণের চূড়ান্ত দাম কমার চেয়ে স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধির গতি শ্লথ করার মাধ্যমেই মূলত অনুভূত হবে।

এদিকে স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ০৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮১৪ দশমিক ৫৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩১ দশমিক ৯৫ ডলারে। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে সব মূল্যবান ধাতুর দামই বাড়ার পথে রয়েছে।

কলারোয়ায় রাজনগর মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় রাজনগর মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার ছোট রাজানগর দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের চেষ্টার অভিযোগ তুলে কথিত অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এক প্রার্থীর স্বামী।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারী জাকিয়া সুলতানার স্বামী মো. ফিরোজ আলম এসব অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বজলুল করিম জানান, এসব বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নোটিশের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলের বিভিন্ন চিংড়ি ঘের থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা একাধিক ঘেরে প্রবেশ করে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঘের মালিক আব্দুল মান্নান ও মাসুদ রেজাসহ অন্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রাখেদুল ইসলাম ও মাহমুদ আলী খান জানান, প্রতি বছরই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় রাতের পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।